ঢাকা ১১:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সৌদির ৫ বিমানবন্দরে হুথিদের ৭ হামলা: নিহত ১৬

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত আনসারুল্লাহ হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে অন্তত সাতটি পৃথক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। রিয়াদ, দাম্মাম, আবহা, জাজান ও নাজরান শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোতে চালানো এসব হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন তিন শতাধিক মানুষ। এই ধারাবাহিক হামলার ফলে সৌদি আরবের আকাশসীমায় চলাচলের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে এবং শতাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এবং রয়টার্স ও এপির প্রতিবেদন সূত্রে এই এক সপ্তাহের ধারাবাহিক বিমানবন্দর হামলার বিবরণ পাওয়া গেছে। সৌদির রিয়াদ বিমানবন্দরে আবারও হুথি হামলা: প্রাণহানি বেড়ে ১৩, তাইজ শহরের সুরক্ষায় তুমুল যুদ্ধ।

সর্বশেষ ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত রবিবার (১১ অক্টোবর) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৪ নম্বর টার্মিনালে হামলা চালানো হয়, এতে অগ্নিকাণ্ড ও বেশ কয়েকজন আহতের ঘটনা ঘটে। একই দিনে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত আসে। এর আগের দিন, শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদ বিমানবন্দরে চালানো সবচেয়ে বড় হামলায় ২ জন বাংলাদেশি ও ৪ জন সৌদি নাগরিকসহ মোট ১২ জন নিহত হন এবং ৩০০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ যাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি চালানো হয়।

সপ্তাহের শুরুতে অর্থাৎ গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রিয়াদ বিমানবন্দরে এক পাইলটসহ ৩ জন সৌদি নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। তার আগের দিন, বুধবার (৭ অক্টোবর) একই বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় ১ জন সুদানীয় নাগরিক নিহত ও ৮ জন আহত হন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হামলার তীব্রতা ছিল আগে থেকেই। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার ২ জন নারী বাসিন্দা প্রাণ হারান এবং অন্তত ২৮ জন আহত হন।

সপ্তাহের শুরুতে সোমবার সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তের কাছে অবস্থিত জাজানের কিং আব্দুল আজিজ এবং নাজরান বিমানবন্দরে একযোগে ড্রোন হামলা চালানো হয়, যাতে অন্তত ৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন। রিয়াদ ও দাম্মামের মতো আন্তর্জাতিক ট্রানজিট হাবগুলোতে এই নজিরবিহীন আক্রমণে সাধারণ যাত্রী ও বিমান চলাচল মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়ে কড়া সতর্কতা জারি করেছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুথিদের এই কর্মকাণ্ডকে স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিমান হামলা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া, রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে বিমান চলাচল এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সৌদির ৫ বিমানবন্দরে হুথিদের ৭ হামলা: নিহত ১৬

আপডেট সময় : ১১:১০:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত আনসারুল্লাহ হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে অন্তত সাতটি পৃথক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। রিয়াদ, দাম্মাম, আবহা, জাজান ও নাজরান শহরের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোতে চালানো এসব হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন তিন শতাধিক মানুষ। এই ধারাবাহিক হামলার ফলে সৌদি আরবের আকাশসীমায় চলাচলের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে এবং শতাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এবং রয়টার্স ও এপির প্রতিবেদন সূত্রে এই এক সপ্তাহের ধারাবাহিক বিমানবন্দর হামলার বিবরণ পাওয়া গেছে। সৌদির রিয়াদ বিমানবন্দরে আবারও হুথি হামলা: প্রাণহানি বেড়ে ১৩, তাইজ শহরের সুরক্ষায় তুমুল যুদ্ধ।

সর্বশেষ ঘটনার ধারাবাহিকতায় গত রবিবার (১১ অক্টোবর) রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৪ নম্বর টার্মিনালে হামলা চালানো হয়, এতে অগ্নিকাণ্ড ও বেশ কয়েকজন আহতের ঘটনা ঘটে। একই দিনে পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত আসে। এর আগের দিন, শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদ বিমানবন্দরে চালানো সবচেয়ে বড় হামলায় ২ জন বাংলাদেশি ও ৪ জন সৌদি নাগরিকসহ মোট ১২ জন নিহত হন এবং ৩০০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। এর আগে শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ যাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি চালানো হয়।

সপ্তাহের শুরুতে অর্থাৎ গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রিয়াদ বিমানবন্দরে এক পাইলটসহ ৩ জন সৌদি নাগরিক নিহত হয়েছিলেন। তার আগের দিন, বুধবার (৭ অক্টোবর) একই বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় ১ জন সুদানীয় নাগরিক নিহত ও ৮ জন আহত হন। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হামলার তীব্রতা ছিল আগে থেকেই। গত মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালানো হামলায় মরক্কো ও আলজেরিয়ার ২ জন নারী বাসিন্দা প্রাণ হারান এবং অন্তত ২৮ জন আহত হন।

সপ্তাহের শুরুতে সোমবার সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তের কাছে অবস্থিত জাজানের কিং আব্দুল আজিজ এবং নাজরান বিমানবন্দরে একযোগে ড্রোন হামলা চালানো হয়, যাতে অন্তত ৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন। রিয়াদ ও দাম্মামের মতো আন্তর্জাতিক ট্রানজিট হাবগুলোতে এই নজিরবিহীন আক্রমণে সাধারণ যাত্রী ও বিমান চলাচল মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়ে কড়া সতর্কতা জারি করেছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুথিদের এই কর্মকাণ্ডকে স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিমান হামলা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া, রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে বিমান চলাচল এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

Facebook Comments Box