বিশ্বের রাজনীতিতে বাড়ছে এআই ব্যবহারের প্রবণতা
- আপডেট সময় : ০৭:৩৬:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
বিশ্বের রাজনীতিতে বাড়ছে এআই ব্যবহারের প্রবণতা
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনসভার কার্যবিবরণী এবং রাজনীতিবিদদের বক্তৃতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। দ্য ইকোনমিস্টের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে, যা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মূলত এআই টুল ব্যবহারের মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা দ্রুত বক্তব্য তৈরি করছেন, যা বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন ধারার সৃষ্টি করেছে।
প্যাংগ্রাম নামক একটি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ভাষণের ওপর চালানো এক পরীক্ষায় দেখা গেছে, সেখানে উচ্চারিত প্রতি ১০টি শব্দের মধ্যে কমপক্ষে একটি শব্দ এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি। মজার বিষয় হলো, ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই প্রযুক্তির ব্যবহার প্রায় শূন্যের কোঠায় ছিল, কিন্তু খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে তা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। এই তালিকায় ব্রিটিশ আইনপ্রণেতারা শীর্ষে থাকলেও অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার সংসদ সদস্যরা এআই ব্যবহারে তাদেরও ছাড়িয়ে গেছেন।
পড়ুন>>মাদকব্যবসায়ীর মুক্তির দাবিতে এসপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ, আটক ১০
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সদস্যদের মধ্যেও এআইয়ের ওপর নির্ভরতা লক্ষ্য করা গেছে। ২০২৪ সালের কাছাকাছি সময়ে এই হার প্রায় শূন্য ছিল।
এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে অসংগতিও প্রকট। উদাহরণস্বরূপ, কনজারভেটিভ পার্টির সংসদ সদস্য নিল শাস্ত্রী–হর্টসের গত এক বছরের সংসদীয় বক্তব্যের প্রায় ৭৫ শতাংশই এআই দ্বারা লিখিত বলে শনাক্ত হয়েছে। তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, অনেক আইনপ্রণেতা সরাসরি এআই ব্যবহারের কথা অস্বীকার করছেন কিংবা এ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করছেন।
পড়ুন>>বিএনপি টাকা নিয়ে আ.লীগকে মিছিলের সুযোগ দিচ্ছে: এটিএম আজহারুল
প্রযুক্তিটির এই ব্যাপক ব্যবহার নিয়ে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন রাজনীতিবিদরা। সমালোচকদের মতে, চ্যাটবট বা এআই টুলগুলো সাধারণত গতানুগতিক এবং পুনরাবৃত্তিমূলক ভাষা ব্যবহার করে, যা রাজনৈতিক বক্তব্যের মৌলিকত্ব ও সৃজনশীলতাকে নষ্ট করে দিচ্ছে। পাবলিক ফার্স্ট নামক কনসালটেন্সির এক জনমত জরিপ অনুযায়ী, সাধারণ ভোটাররা রাজনীতিবিদদের এআই দিয়ে বক্তৃতা বা নীতিপত্র লেখানোর বিষয়টি মোটেও ভালো চোখে দেখছেন না। ভোটারদের আশঙ্কা, জনপ্রতিনিধিরা নিজের বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা না করে যন্ত্রের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়লে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাণবন্ত সংলাপ ও প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।
আরও পড়ুন>>গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: ৬৭ শ্রমিক উদ্ধার
বিপরীত দিকে, কিছু রাজনীতিকের দাবি, এআই ব্যবহার তাঁদের গবেষণার কাজকে ত্বরান্বিত করে, ফলে তাঁরা ভোটারদের সেবায় বাড়তি সময় দেওয়ার সুযোগ পান। তবুও রাজনৈতিক চিন্তার জগতে রোবোটিক নির্ভরতা বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান এই প্রভাব ভবিষ্যতে গণতন্ত্রের জন্য কতটা সুফল বয়ে আনবে, তা নিয়ে সমাজ ও রাজনীতি বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েই গেছে।
সূত্র: প্রথম আলো
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























