ঢাকা ১০:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষকরাই দেশ গড়ার যোদ্ধা: রাষ্ট্রপতি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৯:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দল-মত-পথ নির্বিশেষে কৃষকদের সামগ্রিক উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে একটি কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কৃষকদের সম্মানিত ও উৎসাহিত করতে নতুন উদ্ভাবন এবং কৃষিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তিনি জানান। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিনিধিদলের সাক্ষাত ও আলোচনা

সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন মো. আব্দুল জলিল, মো. হাসান আলী, মোছা. বেলী বেগম, মো. আবু তালেব জোয়াদ্দার, মো. হাফিজুর রহমান মুকুল, তোফাজ্জল হোসাইন (পল্টি) ও শওকত আলম। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সাক্ষাৎকালে কৃষক নেতারা কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, বিনা সুদে ঋণ, কৃষক দিবস উদযাপন, শস্যবীমা প্রবর্তন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব, বজ্রপাত ও সাপের কামড় থেকে সুরক্ষা এবং কৃষি উপকরণের সুলভ সরবরাহসহ বিভিন্ন দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন।

কৃষকদের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির পর্যবেক্ষণ

রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষকেরা দেশের আসল ও শ্রেষ্ঠ মানুষ, তারা দেশ গড়ার যোদ্ধা। কৃষকদের সর্বাঙ্গীণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি কৃষি ও বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। কৃষকদের স্বার্থকে একটি শক্তিশালী আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বানও জানান তিনি। তিনি বলেন, কৃষিকে দেশের সবচেয়ে ইতিবাচক খাত হিসেবে গণ্য করতে হবে। কৃষকের ঘাম-পরিশ্রম, উচ্চফলনশীল নতুন জাত ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলেই ফসল উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কৃষকেরা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বিপণন ও রপ্তানি সম্ভাবনা

কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষিপণ্য ও শস্য সহজে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে কৃষক যেন সঠিক দাম পান, সে বিষয়েও তিনি কৃষকদের সজাগ থাকার পরামর্শ দেন। দেশে উৎপাদিত ফলমূল ও কৃষিজাত পণ্যের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ খাতে অপার সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানিতে এগিয়ে আসতে সমিতির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পকারখানা স্থাপন, আধুনিক হিমাগার নির্মাণ এবং খামারে সৌরপ্যানেল ব্যবহারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সরকারি সহায়তা ও উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি জানান, কৃষকদের উন্নয়নে সরকার নতুন একটি স্কিম চালু করেছে, যার আওতায় ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অচিরেই কৃষকেরা এর পূর্ণ সুফল ভোগ করতে পারবেন। এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের উচ্চ সুদ কমানোর বিষয়েও তিনি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

ঈশ্বরদীতে মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা

সমিতির সভাপতি রাষ্ট্রপতিকে জানান, ঈশ্বরদীতে কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য ৭০ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ কৃষকদের সংবর্ধনা এবং আধুনিক কৃষিপণ্যের প্রদর্শনী ও বাণিজ্যিকীকরণে মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবেরাও উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কৃষকরাই দেশ গড়ার যোদ্ধা: রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় : ০৮:৪৯:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দল-মত-পথ নির্বিশেষে কৃষকদের সামগ্রিক উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে একটি কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কৃষকদের সম্মানিত ও উৎসাহিত করতে নতুন উদ্ভাবন এবং কৃষিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার’ চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তিনি জানান। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিনিধিদলের সাক্ষাত ও আলোচনা

সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন মো. আব্দুল জলিল, মো. হাসান আলী, মোছা. বেলী বেগম, মো. আবু তালেব জোয়াদ্দার, মো. হাফিজুর রহমান মুকুল, তোফাজ্জল হোসাইন (পল্টি) ও শওকত আলম। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বৈঠকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সাক্ষাৎকালে কৃষক নেতারা কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, বিনা সুদে ঋণ, কৃষক দিবস উদযাপন, শস্যবীমা প্রবর্তন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব, বজ্রপাত ও সাপের কামড় থেকে সুরক্ষা এবং কৃষি উপকরণের সুলভ সরবরাহসহ বিভিন্ন দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন।

কৃষকদের বিষয়ে রাষ্ট্রপতির পর্যবেক্ষণ

রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষকেরা দেশের আসল ও শ্রেষ্ঠ মানুষ, তারা দেশ গড়ার যোদ্ধা। কৃষকদের সর্বাঙ্গীণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে তিনি কৃষি ও বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। কৃষকদের স্বার্থকে একটি শক্তিশালী আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বানও জানান তিনি। তিনি বলেন, কৃষিকে দেশের সবচেয়ে ইতিবাচক খাত হিসেবে গণ্য করতে হবে। কৃষকের ঘাম-পরিশ্রম, উচ্চফলনশীল নতুন জাত ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলেই ফসল উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কৃষকেরা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বিপণন ও রপ্তানি সম্ভাবনা

কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষিপণ্য ও শস্য সহজে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। এতে কৃষক যেন সঠিক দাম পান, সে বিষয়েও তিনি কৃষকদের সজাগ থাকার পরামর্শ দেন। দেশে উৎপাদিত ফলমূল ও কৃষিজাত পণ্যের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ খাতে অপার সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানিতে এগিয়ে আসতে সমিতির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্পকারখানা স্থাপন, আধুনিক হিমাগার নির্মাণ এবং খামারে সৌরপ্যানেল ব্যবহারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সরকারি সহায়তা ও উদ্যোগ

রাষ্ট্রপতি জানান, কৃষকদের উন্নয়নে সরকার নতুন একটি স্কিম চালু করেছে, যার আওতায় ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে। সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও সরকারের বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি আশা প্রকাশ করেন, অচিরেই কৃষকেরা এর পূর্ণ সুফল ভোগ করতে পারবেন। এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের উচ্চ সুদ কমানোর বিষয়েও তিনি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

ঈশ্বরদীতে মেলা আয়োজনের পরিকল্পনা

সমিতির সভাপতি রাষ্ট্রপতিকে জানান, ঈশ্বরদীতে কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য ৭০ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণ কৃষকদের সংবর্ধনা এবং আধুনিক কৃষিপণ্যের প্রদর্শনী ও বাণিজ্যিকীকরণে মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানো হলে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবেরাও উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box