নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন: শি জিনপিংয়ের ৫ দফা প্রস্তাব ও বিশ্ব ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ
- আপডেট সময় : ০৮:০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮৪ বার পড়া হয়েছে
নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন: শি জিনপিংয়ের ৫ দফা প্রস্তাব ও বিশ্ব ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ
নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। দুই দিনের এই আসরে বিশ্বের প্রভাবশালী তিন নেতা—ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক মঞ্চে মিলিত হন। আঞ্চলিক উন্নয়ন ও পারস্পরিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে টেকসই সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয় এই সম্মেলনে।
ভারত ও চীনের মধ্যে বিরাজমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে তাদের এই অংশগ্রহণ বিশ্ব রাজনীতির মোড় ঘোরানোর ইঙ্গিত দেয়। সম্মেলনের শেষ দিনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উদীয়মান বাজার এবং গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ৫ দফা পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন, যা মূলত আধুনিক প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর ভিত্তি করে গঠিত
- উন্মুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্যোগ।
- বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজীকরণ উদ্যোগ।
- ডিজিটাল শিল্পে সহযোগিতা উদ্যোগ।
- বুদ্ধিমান উৎপাদন বা স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে সহযোগিতা উদ্যোগ।
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে প্রতিভা উন্নয়ন উদ্যোগ।
শি জিনপিং এ সময় ঘোষণা করেন যে, ব্রিকস এআই ওপেন সোর্স কমিউনিটি প্রতিষ্ঠায় চীন অগ্রণী ভূমিকা রাখবে এবং বৃহৎ ভাষা মডেলের প্রয়োগে সহায়তা করবে। এছাড়া স্মার্ট ইকোনমিক জোন এবং ডিজিটাল ইকোসিস্টেম ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রস্তাবও রাখেন তিনি।
পড়ুন>>ছয় ঘণ্টা পর স্বাভাবিক ঢাকা-ময়মনসিংহ রেল যোগাযোগ
তবে সম্মেলনের প্রথম দিন শনিবার রাতে নরেন্দ্র মোদির আয়োজিত নৈশভোজে শি জিনপিং এবং আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহামেদসহ কয়েকজন নেতার অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়। এনডিটিভির তথ্যানুযায়ী, দীর্ঘ কূটনৈতিক ব্যস্ততার কারণে শি জিনপিং ক্লান্ত হয়ে পড়ায় নৈশভোজে যোগ দিতে পারেননি।
সম্মেলনের শেষ দিনে নরেন্দ্র মোদি ও শি জিনপিং দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন। বৈঠকে তারা মতপার্থক্যকে বিরোধে রূপান্তর না করার অঙ্গীকার করেন এবং ভারত-চীন সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ব্রিকসের প্রতি বিশ্ব সম্প্রদায়ের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরেন।
পড়ুন>>বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডে ৮৫ জন নিয়োগ: আবেদনের সময় ও পদ্ধতি
তিনি জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে বৈশ্বিক সমস্যার সমাধানের ওপর জোর দেন। পুতিন ব্রিকসের নিজস্ব পেমেন্ট অবকাঠামো, পুনর্বীমা ব্যবস্থা এবং গ্রেইন এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে নতি স্বীকার না করার কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ছিল না। আমন্ত্রণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বা তাঁর কোনো প্রতিনিধি এতে অংশ নেননি। অবশ্য ১২ ও ১৩ই সেপ্টেম্বর চলা এই দুই দিনের সম্মেলনে বাংলাদেশ সংক্রান্ত কোনো আলোচনা হয়নি।
আরও পড়ুন>>শুভ সকাল; আজ সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: আজকের পূর্ণাঙ্গ পঞ্জিকা
সম্মেলনে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতি ও ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্রে সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিরোধ নিরসনে কূটনীতি ও আলোচনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বিপরীত মেরুর দেশগুলোর উপস্থিতিতে সর্বসম্মত এই ঘোষণা গ্রহণ করা ভারতের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সম্মেলন শেষে নরেন্দ্র মোদি জানান, ব্রিকস এখন একটি পরিণত জোটে রূপ নিয়েছে, যা বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের মতো প্রতিষ্ঠানের সংস্কারের মাধ্যমে বৈশ্বিক প্রভাব বাড়াতে বদ্ধপরিকর।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























