নাইন-ইলেভেন হামলার ২৫ বছর: বদলে যাওয়া বিশ্ব ও জোহরান মামদানিকে ঘিরে বিতর্ক
- আপডেট সময় : ০৪:৫১:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে
ঠিক ২৫ বছর আগে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সকালে নিউইয়র্কের লোয়ার ম্যানহাটনের বিশ্ব বাণিজ্যকেন্দ্রের ১১০ তলা টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। এই ঘটনা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক গর্বকেই ধূলিসাৎ করেনি, বরং বিশ্ব রাজনীতি ও নিরাপত্তার প্রেক্ষাপট চিরতরে বদলে দিয়েছিল। আগামীকাল ১১ সেপ্টেম্বর সেই ঘটনায় নিহতদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক নগরীর নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানির অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য, হামলার সময় জোহরানের বয়স ছিল মাত্র ৯ বছর।
নাইন-ইলেভেন মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৯ জন সন্ত্রাসী ক্যালিফোর্নিয়া থেকে চারটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ছিনতাই করে এই হামলা চালায়। এর মধ্যে একটি উড়োজাহাজ ভার্জিনিয়ায় মার্কিন সামরিক সদরদপ্তর পেন্টাগনে আঘাত হানে। এই হামলায় অন্তত ২ হাজার ৯৭৭ জন প্রাণ হারান, যা যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ঘটা অন্যতম ভয়াবহ ট্র্যাজেডি। প্রসঙ্গত, ১৯৪১ সালের ৭ ডিসেম্বর পার্ল হারবারে জাপানি হামলায় ২ হাজার ৪০০ জন নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল এবং পরবর্তীতে হিরোশিমা-নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করেছিল।
সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের প্রভাব ও প্রেক্ষাপট
- প্রেক্ষাপট: হামলার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ‘বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ ঘোষণা করেন এবং বিশ্ববাসীকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
- বৈশ্বিক পরিবর্তন: এই যুদ্ধ বৈশ্বিক রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা খাতের ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
- সামরিক অভিযান: ২০০১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান এবং ২০০৩ সালে ইরাকে সাদ্দাম হোসেনের পতনের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালিত হয়।
- মানবিক বিপর্যয়: গত ২৫ বছরে এই যুদ্ধের কারণে আফগানিস্তান, ইরাক, পাকিস্তান ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৪ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
- ব্যয়: এই দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে এবং ৭ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।
গ্লোবাল ওয়ার অন টেরোরিজম মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের মতে, এই জটিল যুদ্ধ কয়েক প্রজন্ম ধরে চলতে পারে। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয় এবং দেশটিতে এক ধরনের ‘যুদ্ধাবস্থা’ তৈরি হয়। লেখক ও সাংবাদিক রোজিনা আলির মতে, হামলার আগে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের যেভাবে দেখা হতো, ঘটনার পর তাদের মূল পরিচয় ‘মুসলমান’ হিসেবে চিহ্নিত করে সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়। মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, সেই সময় হাজারো মুসলিম অভিবাসীকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই আটক ও কারাবন্দি করা হয়েছিল।
জোহরান মামদানি তার নির্বাচনী প্রচারণায় ৯/১১ হামলার পরবর্তী সময়ে নিউইয়র্কের মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নেমে আসা সেই খড়গের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছিলেন। বর্তমানে তার স্মরণানুষ্ঠানে যোগ দেওয়া নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা মূলত সেই সময়ের ক্ষত ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির এক জটিল প্রতিফলন। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর ওসামা বিন লাদেনকে লক্ষ্য করে আফগানিস্তানে যুদ্ধ শুরুর মাধ্যমে যে অভিযানের সূচনা হয়েছিল, তা আজও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই লেখার অনেক পাঠকের হয়ত তখন জন্ম হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চলতি শতাব্দীর শুরুতে বিশ্ববাণিজ্যের রাজধানী হিসেবে খ্যাত নিউইয়র্কে ঘটে যাওয়া সেই বিয়োগান্তক ঘটনায় শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক বাস্তবতা বদলে যায়নি, পাল্টে যায় পৃথিবীর সামগ্রিক পরিস্থিতিও। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারা দুটি উড়োজাহাজ নিচু করে উড়িয়ে নিয়ে টুইন টাওয়ারের দুই সুউচ্চ ভবনে হামলা চালায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ওয়াশিংটন ডিসির দিকে উড়ে যাওয়া চতুর্থ উড়োজাহাজটি যাত্রী ও ক্রুদের হস্তক্ষেপে পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে গিয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জাপানি আগ্রাসন ঠেকানোর দাবি তুলে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৪৫ সালের ৬ ও ৯ আগস্ট জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে মানবসভ্যতার ইতিহাসে প্রথম পারমাণবিক বোমা ফেলে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশ্ববাসীর উদ্দেশে তিনি সদর্পে বলেন—সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে থাকবে না, ধরে নেওয়া হবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বুশের এমন ঘোষণায় বদলে যায় বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আর্থসামাজিক পরিস্থিতি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জর্জ ডব্লিউ বুশের ‘বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের’ ঘোষণার সিকি শতাব্দী পর এই যুদ্ধ কী অর্থ ও তাৎপর্য বহন করে—তা জানতে গুগলে অনুসন্ধান করা হলে পাওয়া যায় নানান তথ্য।
সূত্র: ডেইলি স্টার বাংলা


























