মুদ্রণ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: বাংলা যোগাযোগের আড়াইশ বছরের বিবর্তন : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
মুদ্রণ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: বাংলা যোগাযোগের আড়াইশ বছরের বিবর্তন : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা: মধ্যবর্তী নির্বাচনই নির্ধারণ করবে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ মোড় লংমার্চের নামে গণতন্ত্র বিনষ্টের চেষ্টা করছে বিরোধীদল: রিজভী মুদ্রণ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: বাংলা যোগাযোগের আড়াইশ বছরের বিবর্তন ৭০ লাখ ক্ষুদ্র দোকান ব্যবসায়ীকে সিএমএসএমই খাতের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি পাঠাগার হোক গণমানুষের বিশ্ববিদ্যালয় -শেখ রাসেল ইএসজি এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ বিশেষ স্বীকৃতি পেল আকিজ রিসোর্সের দুই অঙ্গপ্রতিষ্ঠান গাজীপুর শাহীন ক্যাডেট একাডেমিতে ২০৫ পদে নিয়োগ: আবেদনের শেষ তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারে কাতার ও উজবেকিস্তানের ঐতিহাসিক পাঁচ বছর মেয়াদী চুক্তি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে চাইনিজ কালচার ডে ২০২৬ উদযাপন সাভারে পুলিশ কর্মকর্তা নিহতের ঘটনায় প্রধান অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি গ্রেপ্তার

মুদ্রণ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: বাংলা যোগাযোগের আড়াইশ বছরের বিবর্তন

সৃষ্টি প্রযুক্তি ডেস্ক
  • প্রকাশিত : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

মুদ্রণ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: বাংলা যোগাযোগের আড়াইশ বছরের বিবর্তন

 

আজ ৬ সেপ্টেম্বর। বাংলা ভাষা ও বাঙালির চিন্তার মুক্তির ইতিহাসে এটি একটি অনন্য স্মরণীয় দিন। ১৭৭৮ সালের এই দিনে অবিভক্ত বাংলার হুগলিতে চার্লস উইলকিন্স ও পঞ্চানন কর্মকারের হাত ধরে বাংলা চলনশীল হরফের ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। সেদিন ধাতু গলিয়ে তৈরি হয়েছিল বাংলা অক্ষর, যা জ্ঞান ও চিন্তার প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।

মুদ্রণযুগের পাঠক ও সমাজ

মুদ্রণপ্রযুক্তির আগমনের আগে বাংলায় জ্ঞান ছিল সীমিত পরিসরের সম্পদ। পুঁথির যুগে পাঠ ছিল মূলত সমষ্টিগত অভিজ্ঞতা, যেখানে একজন পড়তেন আর অন্যরা শুনতেন। মুদ্রিত বই মানুষের হাতে পৌঁছানোর পর পাঠ ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়। এর ফলে এমন এক পাঠকসমাজ গড়ে ওঠে, যারা শুধু শুনে তথ্য গ্রহণ করত না, বরং পড়ে, ভেবে ও প্রশ্ন করে নিজস্ব মতামত তৈরি করতে শিখত।

সম্পাদক ও তথ্যের প্রহরী

মুদ্রণভিত্তিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ছিল, যার কেন্দ্রে থাকতেন সম্পাদক। যদিও এই ব্যবস্থা পুরোপুরি নিরপেক্ষ ছিল না—রাজনৈতিক চাপ বা মালিকানার প্রভাব সংবাদমাধ্যমকে প্রভাবিত করত—তবুও এটি তথ্যের প্রবাহে একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড বজায় রাখত।

ডিজিটাল যুগে তথ্যের নতুন কাঠামো

  • ব্রডকাস্টিং থেকে হাইপার-পারসোনালাইজেশন: একসময় একটি বিজ্ঞাপন বা প্রেস রিলিজ একইভাবে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছাত। ডিজিটাল যুগে মানুষের বয়স, আগ্রহ ও অনলাইন আচরণ বিশ্লেষণ করে আলাদা বার্তা তৈরি করা সম্ভব।
  • অ্যালগরিদমের প্রভাব: আজ তথ্যের অভাব প্রধান সমস্যা নয়। আপনি কী দেখেন, কোথায় বেশি সময় দেন বা কোন বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান—এসব আচরণ বিশ্লেষণ করে প্ল্যাটফর্মগুলো আপনার জন্য একটি ব্যক্তিগত তথ্যজগৎ তৈরি করে।
  • যোগাযোগের নতুন প্রশ্ন: যোগাযোগ এখন শুধু কী বলা হবে, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। প্রশ্ন হলো, কাকে, কখন এবং কোন প্রেক্ষাপটে সেই বার্তা দেখানো হবে।

ডিজিটাল যুগে একই শহরে থাকা দুই ব্যক্তি একই সময়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্যজগতে থাকতে পারেন। অ্যালগরিদম আমাদের আগ্রহ অনুসরণ করতে করতে একই ধরনের মতামত বারবার সামনে আনে, যা ‘ফিল্টার বাবল’ তৈরি করে। ফলে মানুষের মধ্যে একটি সাধারণ বাস্তবতার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে।

অক্ষর থেকে এআই প্রম্পট

১৭৭৮ সালে পঞ্চানন কর্মকারের কাছে একটি বাংলা অক্ষর ছিল কারিগরি দক্ষতার চূড়ান্ত নিদর্শন। একটি হরফের বাঁক ও গঠন তৈরি করতে প্রচুর সময় ও শ্রম লাগত। আজ আমরা একটি বাক্য লিখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে নির্দেশ দিতে পারি, যা সেকেন্ডের মধ্যে শত শত শব্দ তৈরি করে দেয়। একসময় মানুষ অক্ষর তৈরি করত, আজ মানুষ যন্ত্রকে নির্দেশ দেয়।

ভবিষ্যৎ ও চিন্তার স্বাধীনতা

প্রযুক্তি যত শক্তিশালী হচ্ছে, মানুষের নিজস্ব বিচারবোধের প্রয়োজনও তত বাড়ছে। তথ্য তৈরি করার ক্ষমতা মানুষের হাতে দ্রুত পৌঁছালেও, তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি সেভাবে গড়ে ওঠেনি। আজকের এই প্রযুক্তি আরও দ্রুত ও সর্বব্যাপী, কিন্তু প্রশ্ন হলো—এটি কি আমাদের স্বাধীনভাবে ভাবতে সাহায্য করছে, নাকি বিভ্রান্তির গোলকধাঁধায় বন্দী করছে?

১৭৭৮ সালের সেই হুগলির উনুনে ধাতু গলেছিল মানুষের ভাবনাকে অক্ষরের শরীর দেওয়ার জন্য। আজ অসংখ্য সার্ভারে তথ্যের প্রবাহ চলছে। অক্ষর মানুষকে পড়তে শিখিয়েছিল, এখন অ্যালগরিদমের যুগে আমাদের নতুন করে শিখতে হবে কীভাবে নিজের মতো করে ভাবতে হয়। প্রযুক্তি নয়, চিন্তার স্বাধীনতাই শেষ কথা—এই শিক্ষাটিই ১৭৭৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আমাদের আজও মনে করিয়ে দেয়।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!