নেপালের বন্যা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল: বালেন শাহ
- আপডেট সময় : ০৯:৫৯:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
বিপর্যয়ের ভয়াবহতা ও পরিসংখ্যাননেপালের বন্যা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের ফল: বালেন শাহ
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে আঘাত হানা আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ৯৩৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার হাজারে পৌঁছেছে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বালেন শাহ’ নামে পরিচিত, এই বিপর্যয়কে কোনো সাধারণ ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ। মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
দুর্যোগের কারণ ও প্রধানমন্ত্রীর পর্যবেক্ষণ
সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ জানান, রাসুয়ার ভোতেকোশি নদীর এই বন্যা ছিল হিমালয়ের তুষার ও বরফ ধস থেকে সৃষ্ট এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বিশেষজ্ঞরা এখনো ধসের সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করতে না পারলেও, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমবাহ গলে যাওয়াকেই এর মূল কারণ হিসেবে দেখছেন। বালেন শাহ সতর্ক করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমালয় অঞ্চলে ঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে এবং স্থানীয়দের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান
নেপালের অর্থনীতি এমনিতেই চাপের মুখে রয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে এই বিশাল দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হতে পারে। বালেন শাহ মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নেপাল যে ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জোরালোভাবে তুলে ধরার সময় এসেছে। তিনি এই দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মহলকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
হিমালয় অঞ্চলের ঝুঁকি ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
- হিমালয় ও হিন্দুকুশ পর্বতমালার হিমবাহগুলো প্রায় ২৪ কোটি মানুষের পানির প্রধান উৎস।
- দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রায় ১৬৫ কোটি মানুষ এই নদী উপত্যকার পানির ওপর নির্ভরশীল।
- ২০২৩ সালে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছিলেন, হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়ায় হিমালয় অঞ্চল কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি এবং ‘বিশ্বের ছাদগুলো একে একে ধসে পড়ছে’।
- জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিল জানিয়েছেন, এই আকস্মিক বন্যা পার্বত্য পরিবেশের চরম ভঙ্গুর অবস্থাকে উন্মোচন করেছে।
নেপাল বিশ্বের অন্যতম দেশ, যারা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে নগণ্য ভূমিকা রাখা সত্ত্বেও এর ভয়াবহ পরিণতির শিকার হচ্ছে। শিল্পোন্নত দেশগুলোর গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ফলে সৃষ্ট এই জলবায়ু সংকটে নেপালের মতো দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর আগে নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে শত শত শ্রমিক আটকা পড়ার ঘটনাও উদ্ধার অভিযানের চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে দিয়েছে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ






















