ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টুথপেস্ট-সয়াবিন তেলের পর এবার বাজারের ৯৫ শতাংশ চিনিতেই মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক

সৃষ্টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:৫৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

চিনিতেই মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

টুথপেস্ট-সয়াবিন তেলের পর এবার বাজারের ৯৫ শতাংশ চিনিতেই মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক

 

 

বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া চিনির অধিকাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষা করা নমুনার ৯৫ শতাংশেই এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা রয়েছে। প্রতি কেজি চিনিতে ২১০ থেকে ৫০৮টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।

 

গবেষকদের মতে, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে মানুষ নিয়মিত এসব কণা গ্রহণ করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যনিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
সম্প্রতি Journal of Food Composition and Analysis-এ প্রকাশিত গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন সাদিয়া আফরিন, নায়ন হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান। গবেষণার জন্য ঢাকার বিভিন্ন খুচরা বাজার থেকে সংগ্রহ করা সাত ধরনের ব্র্যান্ডেড ও খোলা চিনির নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, ব্র্যান্ডেড চিনিতে প্রতি কেজিতে গড়ে ৩২২টি এবং খোলা চিনিতে গড়ে ৪০৩টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। খোলা চিনিতে দূষণের মাত্রা তুলনামূলক বেশি হলেও দুই ধরনের চিনির মধ্যে পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি।

পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া কণাগুলোর আকার ছিল ১২ মাইক্রোমিটারের কম থেকে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ১৯ মিলিমিটার পর্যন্ত। এর মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশ ছিল তন্তু (ফাইবার), ২১ শতাংশ খণ্ড (ফ্র্যাগমেন্ট), ১১ শতাংশ পাতলা স্তর (ফিল্ম) এবং প্রায় ৫ শতাংশ ছিল গোলাকার (স্ফেরিক্যাল) কণা।

পড়ুন>> দেশের ৯ ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক

এফটিআইআর (FTIR) স্পেকট্রোস্কপি বিশ্লেষণে এবিএস (ABS), পিভিসি (PVC), পিইটি/পিইটিই (PET/PETE), পিটিএফই (PTFE), পলিকার্বোনেট (PC), সেলুলোজ অ্যাসিটেট (CA), এইচডিপিই (HDPE), ইভিএ (EVA) এবং নাইলনসহ বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।
গবেষকদের মতে, চিনি উৎপাদন, পরিশোধন, প্যাকেজিং, পরিবহন ও সংরক্ষণের বিভিন্ন ধাপে ব্যবহৃত প্লাস্টিক উপকরণ এবং পরিবেশে ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক কণার মাধ্যমে এ দূষণ ঘটতে পারে।

মানবস্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়নে গবেষণায় বলা হয়েছে, শুধু চিনি থেকেই একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন প্রতি কেজি শারীরিক ওজনের বিপরীতে গড়ে ০.২১৭৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করতে পারেন। এছাড়া বিভিন্ন প্লাস্টিকের জন্য হ্যাজার্ড-টু-কনসেন্ট্রেশন (Hazard-to-Concentration Ratio) ৭.১ থেকে ১৭.১৬-এর মধ্যে পাওয়া গেছে, যা কয়েকটি পলিমারের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। তবে গবেষণায় সামগ্রিক স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।

 

পড়ুন>>দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্টের ৮টি ছাড়া সবগুলোতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক

এর আগে পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও)-এর এক গবেষণায় দেশের বাজারে প্রচলিত ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া যায়। এছাড়া সাম্প্রতিক আরেক গবেষণায় বাজারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ধরা পড়ে। ফলে গবেষকদের মতে, খাদ্য ও দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন পণ্যের মাধ্যমে মানুষের শরীরে নিয়মিত মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করছে।

তাদের মতে, চিনি মানুষের জন্য মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের একটি নিয়মিত উৎস হতে পারে। তাই খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা, মান নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যপ্রভাব মূল্যায়নে বিস্তৃত গবেষণা পরিচালনা করা জরুরি।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

টুথপেস্ট-সয়াবিন তেলের পর এবার বাজারের ৯৫ শতাংশ চিনিতেই মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক

আপডেট সময় : ০১:৫৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

 

 

 

টুথপেস্ট-সয়াবিন তেলের পর এবার বাজারের ৯৫ শতাংশ চিনিতেই মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক

 

 

বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া চিনির অধিকাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, পরীক্ষা করা নমুনার ৯৫ শতাংশেই এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা রয়েছে। প্রতি কেজি চিনিতে ২১০ থেকে ৫০৮টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়েছে।

 

গবেষকদের মতে, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে মানুষ নিয়মিত এসব কণা গ্রহণ করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যনিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
সম্প্রতি Journal of Food Composition and Analysis-এ প্রকাশিত গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন সাদিয়া আফরিন, নায়ন হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান। গবেষণার জন্য ঢাকার বিভিন্ন খুচরা বাজার থেকে সংগ্রহ করা সাত ধরনের ব্র্যান্ডেড ও খোলা চিনির নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, ব্র্যান্ডেড চিনিতে প্রতি কেজিতে গড়ে ৩২২টি এবং খোলা চিনিতে গড়ে ৪০৩টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। খোলা চিনিতে দূষণের মাত্রা তুলনামূলক বেশি হলেও দুই ধরনের চিনির মধ্যে পরিসংখ্যানগতভাবে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য পাওয়া যায়নি।

পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়া কণাগুলোর আকার ছিল ১২ মাইক্রোমিটারের কম থেকে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ১৯ মিলিমিটার পর্যন্ত। এর মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশ ছিল তন্তু (ফাইবার), ২১ শতাংশ খণ্ড (ফ্র্যাগমেন্ট), ১১ শতাংশ পাতলা স্তর (ফিল্ম) এবং প্রায় ৫ শতাংশ ছিল গোলাকার (স্ফেরিক্যাল) কণা।

পড়ুন>> দেশের ৯ ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক

এফটিআইআর (FTIR) স্পেকট্রোস্কপি বিশ্লেষণে এবিএস (ABS), পিভিসি (PVC), পিইটি/পিইটিই (PET/PETE), পিটিএফই (PTFE), পলিকার্বোনেট (PC), সেলুলোজ অ্যাসিটেট (CA), এইচডিপিই (HDPE), ইভিএ (EVA) এবং নাইলনসহ বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে।
গবেষকদের মতে, চিনি উৎপাদন, পরিশোধন, প্যাকেজিং, পরিবহন ও সংরক্ষণের বিভিন্ন ধাপে ব্যবহৃত প্লাস্টিক উপকরণ এবং পরিবেশে ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক কণার মাধ্যমে এ দূষণ ঘটতে পারে।

মানবস্বাস্থ্যের সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়নে গবেষণায় বলা হয়েছে, শুধু চিনি থেকেই একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতিদিন প্রতি কেজি শারীরিক ওজনের বিপরীতে গড়ে ০.২১৭৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করতে পারেন। এছাড়া বিভিন্ন প্লাস্টিকের জন্য হ্যাজার্ড-টু-কনসেন্ট্রেশন (Hazard-to-Concentration Ratio) ৭.১ থেকে ১৭.১৬-এর মধ্যে পাওয়া গেছে, যা কয়েকটি পলিমারের ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। তবে গবেষণায় সামগ্রিক স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।

 

পড়ুন>>দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্টের ৮টি ছাড়া সবগুলোতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক

এর আগে পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও)-এর এক গবেষণায় দেশের বাজারে প্রচলিত ১৯টি ব্র্যান্ডের ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া যায়। এছাড়া সাম্প্রতিক আরেক গবেষণায় বাজারের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ধরা পড়ে। ফলে গবেষকদের মতে, খাদ্য ও দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন পণ্যের মাধ্যমে মানুষের শরীরে নিয়মিত মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করছে।

তাদের মতে, চিনি মানুষের জন্য মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের একটি নিয়মিত উৎস হতে পারে। তাই খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্যাকেজিং, সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় মাইক্রোপ্লাস্টিক পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা, মান নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যপ্রভাব মূল্যায়নে বিস্তৃত গবেষণা পরিচালনা করা জরুরি।

 

Facebook Comments Box