ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক আয় আনা সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক
- আপডেট সময় : ০৪:২৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের দ্রুত বিকাশমান ফ্রিল্যান্সিং ও ডিজিটাল সেবা রপ্তানি খাতকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নিয়মে বড় ধরনের সহজীকরণ এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন এই নির্দেশনায় ব্যক্তি পর্যায়ের সেবা রপ্তানিকারক ও ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বৈদেশিক আয় দেশে আনা, সংরক্ষণ এবং ব্যবহারের ক্ষেত্রে নমনীয়তা বাড়ানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে প্রচলিত কাগজপত্রের জটিলতা কমবে এবং আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে বৈদেশিক আয় আনা সহজ হওয়ার পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ডিজিটাল সেবা বাণিজ্যের বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনা করে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিবান্ধব করা হয়েছে। পরিবর্তনের অন্যতম দিক হলো, ফ্রিল্যান্সাররা এখন প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ই-মেইল, অনলাইন ইনভয়েস কিংবা অন্যান্য ডিজিটাল যোগাযোগকে বৈদেশিক আয়ের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন। এতে প্রচলিত রপ্তানি নথি বা কাগজপত্রের ওপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে যাবে, যা আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে কাজ করা ব্যক্তিদের অর্থ দেশে আনার জটিলতা দূর করবে।
লেনদেন প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র ছাড়াই গ্রহণ করা যাবে। একই সঙ্গে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার বা ওপিজিএসপি-এর মাধ্যমে প্রতি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত অর্থ গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এসব ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে বিস্তৃত করতে সার্কুলারে ডুয়াল-কারেন্সি ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার (এমএফএসপি) এবং পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি)-এর ব্যবহারও সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যা ফ্রিল্যান্সারদের আন্তর্জাতিক আয় গ্রহণ ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করবে।
বৈদেশিক মুদ্রা ধরে রাখার ক্ষেত্রেও সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সাররা তাদের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বৈদেশিক মুদ্রায় এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটার (ইআরকিউ) আওতায় সংরক্ষণ করতে পারবেন। তথ্যপ্রযুক্তি ছাড়া অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য এ সীমা ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগের ফলে আন্তর্জাতিক সাবস্ক্রিপশন, সফটওয়্যার, ক্লাউড সেবা কিংবা বিদেশে ব্যবসায়িক ব্যয় নির্বাহে তারা বাড়তি নমনীয়তা পাবেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বাড়ানোর পাশাপাশি সেবা রপ্তানির স্বচ্ছতা ও প্রাতিষ্ঠানিকতা জোরদার করবে এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল সেবা খাতকে বৈশ্বিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।


























