সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপির বিয়ে ও ভিডিও নিয়ে তোলপাড়
- আপডেট সময় : ০৫:৪২:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় বিয়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে এমপি, তার প্রথম স্ত্রী, দ্বিতীয় স্ত্রী এবং শ্বশুরের কাছ থেকে পাওয়া গেছে পরস্পরবিরোধী ও ব্যাখ্যামূলক বক্তব্য।
ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ জুলাই সাবেক এই এমপির একটি বিতর্কিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ জানিয়েছেন, গত ১৭ জুন মগবাজারে তার নিজস্ব কার্যালয়ে ৩ লাখ টাকা দেনমোহরে এমপি নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার মেয়ে মরিয়ম আক্তারের বিয়ে সম্পন্ন হয়। মাসুম বিল্লাহ দাবি করেন, ১৩ জুলাই এমপির কার্যালয়ে বিশ্রামের সময় গোপনে ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে এবং এর পেছনে এমপির সাবেক সহকারী ও শ্যালক ওবায়দুল্লাহর ষড়যন্ত্র রয়েছে।
তবে ঘটনার মোড় নতুন দিকে ঘোরে যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের একটি জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, মরিয়ম খাতুন ২০০৮ সালের ২২ মে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২৬ সালে ঢাকা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। বৈবাহিক অবস্থার ঘরে তাকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই বায়োডাটায় গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম নিজে স্বাক্ষর করে সুপারিশ করেছেন।
এই বিতর্কের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে একটি ২৯ সেকেন্ডের ভিডিও বার্তা পাঠানো হয়েছে। এতে এমপির প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম বলেন, 'আমার স্বামীর সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়েছে। এটা নিয়ে যারা কুৎসা রটাচ্ছে, আমি সেটার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ ধরনের অসত্য প্রচার থেকে বিরত না থাকলে আমি আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।'
মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহর দাবি, বিয়ের সময় উভয় পরিবারের সকলে এবং এমপির প্রথম স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। এ প্রসঙ্গে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম বলেন, 'আমি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী। আমাদের বিয়ে কোনো গোপন বা অনৈতিক বিষয় নয়। গত ১৭ জুন শ্যামনগরে আমার বাবার বাসায় উভয় পরিবারের সম্মতিতে আমাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এ সময় আমার স্বামীর প্রথম স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন।'
মরিয়ম আরও যোগ করেন, 'গত ১৩ জুলাই দুই স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকা মগবাজারে আমার বাবার অফিসে যাওয়া একটি সম্পূর্ণ পারিবারিক সফর ছিল। সেখানে পরিকল্পিতভাবে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি করা হয় এবং আমাদের স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে মানহানি ও হেনস্তা করা হচ্ছে।'


























