ঢাকা ০৮:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইনফান্তিনোর ৬৪ দলের বিশ্বকাপ ভাবনা: বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ

সৃষ্টি ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৪২:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

ইনফান্তিনোর ৬৪ দলের বিশ্বকাপ ভাবনা: বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ

৩৯ দিনের মহোৎসব শেষে স্পেনের দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে পর্দা নেমেছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসরের। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপকে সামগ্রিকভাবে সফল হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এখন নতুন এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা ভাবছেন—৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন।

 

 

ফিফা সভাপতির মূলমন্ত্র হলো, ‘যত বেশি, তত ভালো।’ যত বেশি দল, তত বেশি ম্যাচ এবং তত বেশি আর্থিক মুনাফা। ৩২ দলের ফরম্যাট থেকে ৪৮ দলে উত্তরণের পেছনে তাঁরই প্রধান ভূমিকা ছিল। ইনফান্তিনো বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, ছোট দেশগুলোকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিলে তাদের উন্নতির আগ্রহ তৈরি হবে না।

 

 

ফুটবলপ্রেমীরাও এই পরিধি বৃদ্ধিতে সন্তুষ্ট, কারণ এতে ‘ঘুম পাড়ানি’ ম্যাচের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি আয়োজন নিয়ে কিছু সমালোচনাও ছিল, বিশেষ করে আমেরিকার আদলে ফুটবলকে সাজানোর চেষ্টা, হাইড্রেশন ব্রেক এবং ২৭ মিনিট ২২ সেকেন্ডের সুপার বোলের মতো হাফটাইম শো নিয়ে ধুলার দিকে মনোযোগ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

পড়ুন>> বিএনপির মিত্রদের মূল্যায়ন নিয়ে অসন্তোষ, মান ভাঙাতে তারেক রহমানের উদ্যোগ

 

 

২০৩০ সালের শততম বর্ষের বিশ্বকাপে ছয়টি দেশ—পর্তুগাল, স্পেন, মরক্কো, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে—মিলে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দলের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। কনমেবল অবশ্য ২০২৫ সালের এপ্রিলেই ৬৪ দলের প্রস্তাব দিয়েছিল, কারণ বর্তমান স্লটে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো সন্তুষ্ট নয়। সেখানে ৬৪ দল হলে তারা আরও কয়েকটি ম্যাচ পাওয়ার সুযোগ পাবে।

 

 

যদিও অন্য ফেডারেশনগুলোর মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে; কেউ কেউ একে ফুটবলের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নষ্ট করার আইডিয়া হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রস্তাবটিকে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছেন। সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পাওয়া উনাই সিমন অবশ্য রসিকতা করে বলেছেন, ‘গ্লাভসগুলোর তো খুব একটা কাজ ছিল না।’

 

 

 

৬৪ দলের বিশ্বকাপে গ্রুপসংখ্যা ৪টি বাড়বে, তবে ফরম্যাট খুব একটা জটিল হবে না। বর্তমান বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানে থেকেও ৮টি দল পরবর্তী পর্বে গেলেও শেষ ১৬-তে তাদের কেউই জায়গা পায়নি। ৬৪ দল হলে ১৬টি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দল নিয়ে অনায়াসেই শেষ ৩২-এর লড়াই আয়োজন করা সম্ভব।

 

পড়ুন>> বিশ্বকাপ জয়ে স্পেনের একাধিক রেকর্ড: ফেরান তোরেসের গোলে ইতিহাস

 

বাছাইপর্বে ইতালি, ডেনমার্ক, নাইজেরিয়া, ক্যামেরুন, সার্বিয়া, ওয়েলস ও পোল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের অনুপস্থিতি এবং কুরাসাও বা কেপ ভার্দের মতো নতুন দলের চমক প্রমাণ করে যে নতুন ১৬টি দলের অন্তর্ভুক্তি খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে; আফ্রিকা থেকে আসা ১০ দলের ৯টি যেখানে পরের পর্বে উঠেছে, সেখানে এশিয়ার ৯ দলের মধ্যে মাত্র ২টি সুযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের মতো দেশ রয়েছে, যাদের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযোগ নেই।

 

 

ফিফার অধীন ২১১টি দেশের মধ্যে ৬৪টি দেশ নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন তাত্ত্বিকভাবে অসম্ভব কিছু নয়। তবে এর আগে ইনফান্তিনোকে নিজের অবস্থান শক্ত করতে হবে। ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড বিতর্ক এবং মাঠে ডোনাল্ড ট্রাম্পের খবরদারির মতো ঘটনায় ইউরোপিয়ানদের কাছে তিনি চক্ষুশূল হয়েছেন। সামনের নির্বাচনে উয়েফাকে পাশে না পেলে তাঁর চেয়ার রক্ষা করাই কঠিন হয়ে পড়বে, আর নিজের পদ না বাঁচলে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন করা সম্ভবত অসম্ভবই থেকে যাবে।

 

 

আর নিজের চেয়ার না বাঁচলে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ অসম্ভবই থেকে যাবে। ‘৮০০ পাসে মৃত্যু’ থেকে ‘স্বপ্নের সমাপ্তি’—মেসিদের বিদায়ে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম।

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইনফান্তিনোর ৬৪ দলের বিশ্বকাপ ভাবনা: বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ

আপডেট সময় : ০৭:৪২:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

 

 

ইনফান্তিনোর ৬৪ দলের বিশ্বকাপ ভাবনা: বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ

৩৯ দিনের মহোৎসব শেষে স্পেনের দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে পর্দা নেমেছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসরের। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপকে সামগ্রিকভাবে সফল হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এখন নতুন এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা ভাবছেন—৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন।

 

 

ফিফা সভাপতির মূলমন্ত্র হলো, ‘যত বেশি, তত ভালো।’ যত বেশি দল, তত বেশি ম্যাচ এবং তত বেশি আর্থিক মুনাফা। ৩২ দলের ফরম্যাট থেকে ৪৮ দলে উত্তরণের পেছনে তাঁরই প্রধান ভূমিকা ছিল। ইনফান্তিনো বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, ছোট দেশগুলোকে অংশগ্রহণের সুযোগ না দিলে তাদের উন্নতির আগ্রহ তৈরি হবে না।

 

 

ফুটবলপ্রেমীরাও এই পরিধি বৃদ্ধিতে সন্তুষ্ট, কারণ এতে ‘ঘুম পাড়ানি’ ম্যাচের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি আয়োজন নিয়ে কিছু সমালোচনাও ছিল, বিশেষ করে আমেরিকার আদলে ফুটবলকে সাজানোর চেষ্টা, হাইড্রেশন ব্রেক এবং ২৭ মিনিট ২২ সেকেন্ডের সুপার বোলের মতো হাফটাইম শো নিয়ে ধুলার দিকে মনোযোগ দেওয়ার বিষয়টি আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

পড়ুন>> বিএনপির মিত্রদের মূল্যায়ন নিয়ে অসন্তোষ, মান ভাঙাতে তারেক রহমানের উদ্যোগ

 

 

২০৩০ সালের শততম বর্ষের বিশ্বকাপে ছয়টি দেশ—পর্তুগাল, স্পেন, মরক্কো, আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে—মিলে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দলের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। কনমেবল অবশ্য ২০২৫ সালের এপ্রিলেই ৬৪ দলের প্রস্তাব দিয়েছিল, কারণ বর্তমান স্লটে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো সন্তুষ্ট নয়। সেখানে ৬৪ দল হলে তারা আরও কয়েকটি ম্যাচ পাওয়ার সুযোগ পাবে।

 

 

যদিও অন্য ফেডারেশনগুলোর মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে; কেউ কেউ একে ফুটবলের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নষ্ট করার আইডিয়া হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রস্তাবটিকে গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছেন। সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পাওয়া উনাই সিমন অবশ্য রসিকতা করে বলেছেন, ‘গ্লাভসগুলোর তো খুব একটা কাজ ছিল না।’

 

 

 

৬৪ দলের বিশ্বকাপে গ্রুপসংখ্যা ৪টি বাড়বে, তবে ফরম্যাট খুব একটা জটিল হবে না। বর্তমান বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থানে থেকেও ৮টি দল পরবর্তী পর্বে গেলেও শেষ ১৬-তে তাদের কেউই জায়গা পায়নি। ৬৪ দল হলে ১৬টি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দল নিয়ে অনায়াসেই শেষ ৩২-এর লড়াই আয়োজন করা সম্ভব।

 

পড়ুন>> বিশ্বকাপ জয়ে স্পেনের একাধিক রেকর্ড: ফেরান তোরেসের গোলে ইতিহাস

 

বাছাইপর্বে ইতালি, ডেনমার্ক, নাইজেরিয়া, ক্যামেরুন, সার্বিয়া, ওয়েলস ও পোল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের অনুপস্থিতি এবং কুরাসাও বা কেপ ভার্দের মতো নতুন দলের চমক প্রমাণ করে যে নতুন ১৬টি দলের অন্তর্ভুক্তি খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে; আফ্রিকা থেকে আসা ১০ দলের ৯টি যেখানে পরের পর্বে উঠেছে, সেখানে এশিয়ার ৯ দলের মধ্যে মাত্র ২টি সুযোগ পেয়েছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের মতো দেশ রয়েছে, যাদের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযোগ নেই।

 

 

ফিফার অধীন ২১১টি দেশের মধ্যে ৬৪টি দেশ নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন তাত্ত্বিকভাবে অসম্ভব কিছু নয়। তবে এর আগে ইনফান্তিনোকে নিজের অবস্থান শক্ত করতে হবে। ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ড বিতর্ক এবং মাঠে ডোনাল্ড ট্রাম্পের খবরদারির মতো ঘটনায় ইউরোপিয়ানদের কাছে তিনি চক্ষুশূল হয়েছেন। সামনের নির্বাচনে উয়েফাকে পাশে না পেলে তাঁর চেয়ার রক্ষা করাই কঠিন হয়ে পড়বে, আর নিজের পদ না বাঁচলে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন করা সম্ভবত অসম্ভবই থেকে যাবে।

 

 

আর নিজের চেয়ার না বাঁচলে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ অসম্ভবই থেকে যাবে। ‘৮০০ পাসে মৃত্যু’ থেকে ‘স্বপ্নের সমাপ্তি’—মেসিদের বিদায়ে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম।

 

 

 

Facebook Comments Box