ঢাকা ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ

সৃষ্টি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:১৭:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৯৯৫ বার পড়া হয়েছে

কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ

প্রকাশনা বন্ধ, ছায়ানট ভবনেও ভাঙচুর:

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার–এর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (রাত) পৌনে ১২টার দিকে একদল লোক এই হামলা চালায়। এ ঘটনায় পত্রিকা দুটির প্রকাশনা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, আজ বাজারে পত্রিকা দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে প্রথম আলো কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে হামলাকারীরা ডেইলি স্টার ভবনে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে রাতের দিকে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি সদস্যদেরও দেখা যায়। পরে হামলাকারীরা ধানমন্ডির ৩২ নম্বর এলাকা ও ছায়ানট ভবনে গিয়ে ভাঙচুর চালায়।

রাত পৌনে ৩টার দিকে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীর হামলার প্রতিবাদ জানাতে ডেইলি স্টার ভবনের সামনে গেলে একদল লোকের তোপের মুখে পড়েন। পরে সেনাবাহিনী তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।

 

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শাহবাগ থেকে একটি মিছিল কারওয়ান বাজারের দিকে অগ্রসর হয়। মিছিলটি প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে পৌঁছে ঘেরাও ও বিক্ষোভ শুরু করে। সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা লাঠিসোটা নিয়ে কার্যালয়ে ভাঙচুর শুরু করে।

 

 

রাত ১২টার দিকে হামলাকারীদের একটি অংশ প্রথম আলো কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে টেবিল-চেয়ার ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রাস্তায় বের করে এনে সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় তারা ‘ইনকিলাব ইনকিলাব’, ‘জিন্দাবাদ’, ‘নারায়ে তাকবির’ ও ‘আল্লাহু আকবর’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

 

 

প্রথম আলোর এক সংবাদকর্মী জানান, শুরুতে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও তারা হামলাকারীদের প্রতিরোধ করতে পারেনি। দীর্ঘ সময় ধরে ভাঙচুরের পর অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে প্রথম আলোর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, প্রথমা প্রকাশনা, প্রথমা ডটকম, বিজ্ঞাপন ও হিসাব শাখা, চরকিসহ বিভিন্ন বিভাগ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

 

 

এরপর হামলাকারীরা ডেইলি স্টার ভবনের দিকে যায়। সেখানে নিচের তিন তলায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলে প্রাণ বাঁচাতে সংবাদকর্মীরা ছাদে আশ্রয় নেন। চারতলার নিউজরুমে আটকে পড়া কয়েকজন সাংবাদিক ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।

 

 

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের সদস্য এম এ শাজাহান রাত ২টার দিকে জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করছে। তবে পথে বাধার কারণে আগুন নেভাতে দেরি হয়। রাত আড়াইটা পর্যন্ত ক্রেন ব্যবহার করে অন্তত ১০ জন সাংবাদিককে উদ্ধার করা হয়েছে। আরও প্রায় ৩০ জন সাংবাদিক ছাদে আটকা পড়েছিলেন।

 

 

তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমা জানান, কয়েকশ লোক একত্রিত হয়ে হামলা চালিয়েছে। তবে কারা এই হামলায় অংশ নিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

 

 

এদিকে, ডেইলি স্টারের সাংবাদিক জাইমা ইসলাম রাত ১টার দিকে ফেসবুকে লেখেন, “আমি আর শ্বাস নিতে পারছি না। চারদিকে খুব বেশি ধোঁয়া। আমি ভেতরে আটকে আছি।”

রাত আড়াইটার দিকে ফায়ার সার্ভিস জানায়, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনের আগুন তখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তবে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ছায়ানট ভবনে হামলা:

বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটের দিকে শতাধিক লোক ধানমন্ডির ছায়ানট ভবনে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। দরজা-জানালা ভাঙার পাশাপাশি কম্পিউটার ও ল্যাপটপ লুটপাট করা হয় এবং বাইরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও শিক্ষার্থীদের কাগজপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ

আপডেট সময় : ১০:১৭:৫১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা, অগ্নিসংযোগ

প্রকাশনা বন্ধ, ছায়ানট ভবনেও ভাঙচুর:

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার–এর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (রাত) পৌনে ১২টার দিকে একদল লোক এই হামলা চালায়। এ ঘটনায় পত্রিকা দুটির প্রকাশনা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, আজ বাজারে পত্রিকা দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

 

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে প্রথম আলো কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে হামলাকারীরা ডেইলি স্টার ভবনে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে রাতের দিকে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি সদস্যদেরও দেখা যায়। পরে হামলাকারীরা ধানমন্ডির ৩২ নম্বর এলাকা ও ছায়ানট ভবনে গিয়ে ভাঙচুর চালায়।

রাত পৌনে ৩টার দিকে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীর হামলার প্রতিবাদ জানাতে ডেইলি স্টার ভবনের সামনে গেলে একদল লোকের তোপের মুখে পড়েন। পরে সেনাবাহিনী তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়।

 

 

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শাহবাগ থেকে একটি মিছিল কারওয়ান বাজারের দিকে অগ্রসর হয়। মিছিলটি প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে পৌঁছে ঘেরাও ও বিক্ষোভ শুরু করে। সেখানে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা লাঠিসোটা নিয়ে কার্যালয়ে ভাঙচুর শুরু করে।

 

 

রাত ১২টার দিকে হামলাকারীদের একটি অংশ প্রথম আলো কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করে টেবিল-চেয়ার ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রাস্তায় বের করে এনে সেগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় তারা ‘ইনকিলাব ইনকিলাব’, ‘জিন্দাবাদ’, ‘নারায়ে তাকবির’ ও ‘আল্লাহু আকবর’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

 

 

প্রথম আলোর এক সংবাদকর্মী জানান, শুরুতে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও তারা হামলাকারীদের প্রতিরোধ করতে পারেনি। দীর্ঘ সময় ধরে ভাঙচুরের পর অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে প্রথম আলোর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, প্রথমা প্রকাশনা, প্রথমা ডটকম, বিজ্ঞাপন ও হিসাব শাখা, চরকিসহ বিভিন্ন বিভাগ সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

 

 

এরপর হামলাকারীরা ডেইলি স্টার ভবনের দিকে যায়। সেখানে নিচের তিন তলায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলে প্রাণ বাঁচাতে সংবাদকর্মীরা ছাদে আশ্রয় নেন। চারতলার নিউজরুমে আটকে পড়া কয়েকজন সাংবাদিক ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।

 

 

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণকক্ষের সদস্য এম এ শাজাহান রাত ২টার দিকে জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে। ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট কাজ করছে। তবে পথে বাধার কারণে আগুন নেভাতে দেরি হয়। রাত আড়াইটা পর্যন্ত ক্রেন ব্যবহার করে অন্তত ১০ জন সাংবাদিককে উদ্ধার করা হয়েছে। আরও প্রায় ৩০ জন সাংবাদিক ছাদে আটকা পড়েছিলেন।

 

 

তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ক্যশৈন্যু মারমা জানান, কয়েকশ লোক একত্রিত হয়ে হামলা চালিয়েছে। তবে কারা এই হামলায় অংশ নিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

 

 

এদিকে, ডেইলি স্টারের সাংবাদিক জাইমা ইসলাম রাত ১টার দিকে ফেসবুকে লেখেন, “আমি আর শ্বাস নিতে পারছি না। চারদিকে খুব বেশি ধোঁয়া। আমি ভেতরে আটকে আছি।”

রাত আড়াইটার দিকে ফায়ার সার্ভিস জানায়, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবনের আগুন তখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি, তবে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

ছায়ানট ভবনে হামলা:

বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১টা ৪০ মিনিটের দিকে শতাধিক লোক ধানমন্ডির ছায়ানট ভবনে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। দরজা-জানালা ভাঙার পাশাপাশি কম্পিউটার ও ল্যাপটপ লুটপাট করা হয় এবং বাইরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে গুরুত্বপূর্ণ দলিল ও শিক্ষার্থীদের কাগজপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

 

Facebook Comments Box