রাজারহাটে ১২ কিলোমিটার সড়কের কাজ ফেলে ঠিকাদার লাপাত্তা
- আপডেট সময় : ০৯:২৩:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪ ১৫১ বার পড়া হয়েছে
রাজারহাটে ১২ কিলোমিটার সড়কের কাজ ফেলে ঠিকাদার লাপাত্তা
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১২কিলোমিটার একটি সড়কের রক্ষণাবেক্ষন কাজ শুরুর ২মাসের মধ্যে কাজ বন্ধ করে উধাও হয়েছেন সাব-ঠিকাদার। ফলে বর্তমানে জনসাধারণ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রধান ঠিকাদারকে উপজেলা প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলী একাধিকবার চিঠি প্রদান করলেও জবাব দেননি ঠিকাদার।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিন দফায় রাজারহাট থেকে আনন্দ বাজার ১২কিলোমিটার সড়কটি নির্মাণের পর একবার মাত্র সড়কটির রক্ষণাবেক্ষন করা হলেও এরপর আর কোনো সংস্কার হয়নি।
পড়ুন>>রৌমারীতে ৫ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার
এঅবস্থায় ২০২৩ ইং সনে রাস্তাটির রক্ষণাবেক্ষন কাজের টেন্ডার করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর আরসিআইপি (রুরাল কানেকটিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট)।
কাজের প্রাক্কলিত মূল্য ১৭ কোটি ৬৬ লাখ ৬০ হাজার ৩৬৫ টাকা ধরা থাকলেও প্রায় ১৬% লেসে ১৪ কোটি ৪৯ লাখ ৪৬ হাজার ১০ টাকায় নিয়ে চুক্তিবদ্ধ হন রংপুরের ঠিকাদার খায়রুল কবির রানা। চুক্তির শর্তানুযায়ী ৩০জানুয়ারী ২০২৬ ইং কাজটি সমাপ্তির কথা রয়েছে।
সরেজমিনে খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, উপজেলা সদর বাজারের সোনালী ব্যাংক মোড় থেকে উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়নের ফরকেরহাট বাজারের উপর দিয়ে উলিপুর-কুড়িগ্রাম সড়কের সাথে সংযোগ সড়কটি দুই উপজেলার জন্য অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। ১২ কিলোমিটারের এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন এবং পথচারী চলাচল করে।
পড়ুন>>নীলফামারীতে মহানবী (সা:)ও ইসলামকে কুটক্তি করায় থানায় অভিযোগ
এছাড়া উপজেলার উমর মজিদ ইউনিয়ন থেকে রাজারহাট উপজেলা সদরে যাতায়াতের অন্যতম সড়ক এটি। এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন অংশে পিচ ও খোয়া উঠে বড় বড় গর্ত এবং খানা খন্দরে ভরা ছিল। তার উপর রাস্তা খুড়ে রাখায় (সাববেজ) এবং পুরাতন রাস্তার ইট-পাথর উল্টে রাখায় চলাচল অযোগ্য হয়ে পড়েছে সড়কটি।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় অন্তত ১৫গ্রামের ৩০হাজার মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। বাসিন্দা নবাব জানান,বর্তমানে সড়কটিতে এ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় অসুস্থ্য রোগীকে হাসপাতালে নেয়া কিংবা কোথাও অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলে এ্যাম্বুলেন্স-ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশের কোন উপায় নেই।
পড়ুন>> স্বার্থের প্রশ্নে এ দেশের মানুষ ভারতকে একবিন্দু ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়
এ বিষয়ে মুঠো ফোনে সাব ঠিকাদার রনি ও আবু-শামার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। তবে এবিষয়ে ঠিকাদার ও উপজেলা প্রকৌশলী পরস্পর বিরোধি বক্তব্য দিয়েছেন।
ঠিকাদার খায়রুল কবির রানা কাজ বিক্রির কথা অস্বীকার করে বলেন,আমার লাইসেন্সে ঠিকাদার রনি এই কাজটি করার কথা থাকলেও বিভিন্ন স্থানে তার একাধিক কাজ চলমান থাকায় দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার সুবিধার্থে পরে আমি কাজটি আবু-শামাকে করতে বলি।
আবু শামা কাজ শুরু করার পর উপজেলা প্রকৌশলী তাকে অহেতুক হয়রানী করতে থাকেন। একটি কাজ দেখার জন্য ৪থেকে ৫জন করে ওয়ার্ক এ্যাসিস্টেন্ট পাঠান,প্রতিদিন এতগুলো লোকের অনারিয়াম দিয়ে কাজ করা কঠিন।
এছাড়া ১ম শ্রেণীর ইট দেয়া সত্বেও তিনি ইট পছন্দ করেন না, ইস্টিমেট অনুযায়ী আমরা যেভাবে কাজ করি সেটা ওনার পছন্দ না। উনি ওনার মনগড়া নিয়মে কাজ করে নিতে চান। ফলে কাজ করা সম্ভব হয়নি।
পড়ুন>> তাহিরপুর যাদুকাটায় ১৭ টি অবৈধ শেইভ মেশিন জব্দ
উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল রানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,সড়ক রক্ষণাবেক্ষন কাজটি মূল ঠিকাদার ২বার হাত বদলের কারণে কাজটি তিনি উঠাতে পারছেন না। ১৮সেপ্টেম্বর ঠিকাদার আবু-শামা কাজটি শুরু করে কিছু না জানিয়েই আকস্মিক ১০নভেম্বর কাজ বন্ধ করেছেন।
এতে কাজের আনুমানিক ৫% সম্পন্ন হয়েছে।
এবিষয়ে প্রকল্প পরিচালক, কুড়িগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং আমার দপ্তর থেকে প্রধান ঠিকাদার খায়রুল কবির রানাকে চিঠি দেয়া হলেও তিনি জবাব দেননি।


























