ঢাকা ১২:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারীতে ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ ​নাগেশ্বরীতে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত নাগেশ্বরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব হাত ধোঁয়া দিবস ডোমারে উদযাপন কাউনিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন   কাউনিয়ায় যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আনন্দ র‍্যালি তারেক রহমান ও বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালাচ্ছে ফ্যাসিস্ট ও গুপ্ত বাহিনী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার নির্ধারণী কর্মশালা ও উপাচার্যের দিকনির্দেশনা চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের নিয়োগ, আবেদন শুরু নভেম্বরে ঢালচরের পর্যটন বিকাশে মতবিনিময় করল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন

সুনামগঞ্জে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে প্রবাসীর  ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সুনামগঞ্জ থেকে আমির হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৩:০০:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ এপ্রিল ২০২৪ ৩৫৩ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে প্রবাসীর  ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুনামগঞ্জে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে প্রবাসীর  ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সুনামগঞ্জে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে প্রবাসীর  ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে।

এই ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে ভার্চ্যুয়াল যুক্ত থেকে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নজরুল আহমদ নামের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক ব্যক্তি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘২০ বছর ধরে আমি আমেরিকার একটি শহরে বসবাস করি। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়নের পুরোনো বারুংকা গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তাহেরা আক্তারের (৩০) সঙ্গে আমার সম্পর্ক তৈরি হয়।

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা, আইফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়। তাঁর দ্বারা আমি মারাত্মকভাবে প্রতারিত হয়েছি। তাঁর বিচার ও শাস্তির দাবি জানাই।’

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৮ সালে এক বন্ধুর মাধ্যমে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় তাহেরার সঙ্গে। মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর এক পর্যায় তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও আন্তরিকতা তৈরি হয়। এরই মধ্যে তাহেরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করতে থাকে আমার সঙ্গে। এর কয়েক দিনের মধ্যেই বিয়ের প্রস্তাব দেয় সে। আমি সরল মনে রাজি হই।’ তাহেরা বিভিন্ন সময় প্রয়োজনে টাকা নিয়েছেন বলে দাবি করেন নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘ইনকাম থেকে কষ্ট করে তাঁর জন্য টাকা পাঠাই। সে আমার পাঠানো ১৫-২০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাড়ি নির্মাণ করেছে। তাঁর দুই বোনের সরকারি চাকরি ও বিয়ের জন্য আমার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছে।

আমি সরল চিন্তা থেকে ব্যাংক মারফত এবং বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে দফায় দফায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা পাঠিয়েছি।

এর বাইরেও তাহেরা আমাকে বিয়ের প্রলোভনে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মাসে মাসে হাত খরচের টাকাসহ আইফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়েছে আমার কাছ থেকে।’

তিনি বলেন, ‘আমি দেশে আসতে চাইলে তাহেরা বাধা দিত। সে চাকরি ছেড়ে উন্নত জীবনের জন্য আমেরিকায় আমার কাছে আসার ইচ্ছা জানায়। আমেরিকায় আসার জন্য সরকারি ছুটিতে আমার টাকায় ব্রিটিশ কাউন্সিল থেকে আইইএলটিএস করে। সে নিজের পেশাগত পরিচয় আড়াল করে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে একটি ও সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে আরেকটি পাসপোর্ট বানায়।’

নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘একটা সময় পর্যন্ত সবই ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু সে আমার সঙ্গে সম্পর্ক চলাকালে একাধিক ছেলের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করে। যা প্রথমে আমি জানতাম না। পরে বিভিন্ন মারফতে ও তাঁর আচরণে বিষয়টি বুঝতে পারি। আইইএলটিএস করার সময় তাহেরা একটি ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে লিপ্ত হয়। দু-এক মাস আগে তাহেরা গোপনে সেই ছেলেকে বিয়ে করে।’

স্কুল শিক্ষিকা তাহেরার আচরণে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নজরুল ইসলাম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান। তিনি বলেন, ‘তাহেরা আমাকে এই বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে নারী নির্যাতনের মামলা দেবে বলে হুমকি দিচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে স্কুলশিক্ষিকা তাহেরা আক্তারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সুনামগঞ্জে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে প্রবাসীর  ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৩:০০:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ এপ্রিল ২০২৪

সুনামগঞ্জে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে প্রবাসীর  ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

সুনামগঞ্জে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে প্রবাসীর  ৩০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে।

এই ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুরে সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে ভার্চ্যুয়াল যুক্ত থেকে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নজরুল আহমদ নামের যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক ব্যক্তি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘২০ বছর ধরে আমি আমেরিকার একটি শহরে বসবাস করি। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরী ইউনিয়নের পুরোনো বারুংকা গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তাহেরা আক্তারের (৩০) সঙ্গে আমার সম্পর্ক তৈরি হয়।

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা, আইফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নেয়। তাঁর দ্বারা আমি মারাত্মকভাবে প্রতারিত হয়েছি। তাঁর বিচার ও শাস্তির দাবি জানাই।’

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৮ সালে এক বন্ধুর মাধ্যমে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় তাহেরার সঙ্গে। মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর এক পর্যায় তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও আন্তরিকতা তৈরি হয়। এরই মধ্যে তাহেরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করতে থাকে আমার সঙ্গে। এর কয়েক দিনের মধ্যেই বিয়ের প্রস্তাব দেয় সে। আমি সরল মনে রাজি হই।’ তাহেরা বিভিন্ন সময় প্রয়োজনে টাকা নিয়েছেন বলে দাবি করেন নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘ইনকাম থেকে কষ্ট করে তাঁর জন্য টাকা পাঠাই। সে আমার পাঠানো ১৫-২০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাড়ি নির্মাণ করেছে। তাঁর দুই বোনের সরকারি চাকরি ও বিয়ের জন্য আমার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছে।

আমি সরল চিন্তা থেকে ব্যাংক মারফত এবং বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে দফায় দফায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা পাঠিয়েছি।

এর বাইরেও তাহেরা আমাকে বিয়ের প্রলোভনে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে মাসে মাসে হাত খরচের টাকাসহ আইফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়েছে আমার কাছ থেকে।’

তিনি বলেন, ‘আমি দেশে আসতে চাইলে তাহেরা বাধা দিত। সে চাকরি ছেড়ে উন্নত জীবনের জন্য আমেরিকায় আমার কাছে আসার ইচ্ছা জানায়। আমেরিকায় আসার জন্য সরকারি ছুটিতে আমার টাকায় ব্রিটিশ কাউন্সিল থেকে আইইএলটিএস করে। সে নিজের পেশাগত পরিচয় আড়াল করে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে একটি ও সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে আরেকটি পাসপোর্ট বানায়।’

নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘একটা সময় পর্যন্ত সবই ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু সে আমার সঙ্গে সম্পর্ক চলাকালে একাধিক ছেলের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করে। যা প্রথমে আমি জানতাম না। পরে বিভিন্ন মারফতে ও তাঁর আচরণে বিষয়টি বুঝতে পারি। আইইএলটিএস করার সময় তাহেরা একটি ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে লিপ্ত হয়। দু-এক মাস আগে তাহেরা গোপনে সেই ছেলেকে বিয়ে করে।’

স্কুল শিক্ষিকা তাহেরার আচরণে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নজরুল ইসলাম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান। তিনি বলেন, ‘তাহেরা আমাকে এই বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে নারী নির্যাতনের মামলা দেবে বলে হুমকি দিচ্ছে।’

এ বিষয়ে জানতে স্কুলশিক্ষিকা তাহেরা আক্তারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।

 

Facebook Comments Box