ঢাকা ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভূরুঙ্গামারীতে ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে জামায়াতের বিক্ষোভ ​নাগেশ্বরীতে ২৮ অক্টোবর পল্টন ট্র্যাজেডি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত নাগেশ্বরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বিশ্ব হাত ধোঁয়া দিবস ডোমারে উদযাপন কাউনিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন   কাউনিয়ায় যুবদলের ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আনন্দ র‍্যালি তারেক রহমান ও বিএনপির বিরুদ্ধে চক্রান্ত চালাচ্ছে ফ্যাসিস্ট ও গুপ্ত বাহিনী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার নির্ধারণী কর্মশালা ও উপাচার্যের দিকনির্দেশনা চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৯৩ জনের নিয়োগ, আবেদন শুরু নভেম্বরে ঢালচরের পর্যটন বিকাশে মতবিনিময় করল ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে অবৈধ ট্রলি গাড়িতে অতিষ্ঠ জনজীবন; বাড়ছে দূর্ঘটনা

সুনামগঞ্জ থেকে আমির হোসেন
  • আপডেট সময় : ০৬:৩১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মার্চ ২০২৪ ৩০৭ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে অবৈধ ট্রলি গাড়িতে অতিষ্ঠ জনজীবন; বাড়ছে দূর্ঘটনা

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুনামগঞ্জ বিশ্বম্ভরপুরে অবৈধ ট্রলি গাড়িতে অতিষ্ঠ জনজীবন; বাড়ছে দূর্ঘটনা।

সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায়
দৈত্যাকৃতির দানব ট্রলি, তিনচাকা ট্রাক্টরের (মাটি পরিবহনের গাড়ি) উৎপাতে অতিষ্ঠ জনসাধারণ।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে দাপিয়ে চলছে এসব বাহন। অপরিকল্পিতভাবে তৈরি এসব গাড়ির কারণে হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা। গ্রামীণ রাস্তাঘাট ভেঙে গিয়ে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। অতিদ্রুত এসব অবৈধ যানবাহন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ।

সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাটি মূলত যাদুকাটা নদীসহ ছোট-বড় নদী-খালবেশিষ্ট এলাকা। এখনো অধিকাংশ সড়ক কাঁচা বা আধা পাকাকরণ হয়েছে। ফলে মানুষকে উপজেলা হয়ে সুনামগঞ্জ জেলা শহরে যেতে ব্যাপক বেগ পেতে হয়। কোথাও মোটরসাইকেল, ভ্যান, কোথাও টেম্পো বা সিএনজি অথবা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাই একমাত্র পরিবহন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় অন্তত ৩৫০ থেকে ৪০০টি এ ধরনের ট্রলি ট্রাক্টর রয়েছে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও অদক্ষ চালক দিয়ে চালানোর কারণে ঘটছে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা।

বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়নের শক্তিয়ারখলা বাজারের ব্যবসায়ি মাওলানা জহুর উদ্দিন বলেন, ‘এই দানব আকৃতির যান রাস্তায় চলাচলের সময় রাস্তা কাঁপতে থাকে। পাকা রাস্তার বেহাল দশা করেছে এই দৈত্যাকৃতির ট্রলি গাড়ি।’

আজ দুপুরের দিকে একটি ট্রলি শক্তিয়ারখলা বাজারের একটি দোকানের সাটার ভেঙ্গে দোকানের ঢুকে পরে এতে করে বাজারের ব্যবসায়ি সহ সকল মানুষ আতংকিত।

বাদাঘাট (দঃ) ইউনিয়নের শক্তিয়ারখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ জামাল হোসেন বলেন, ‘এই ট্রলি ট্রাক্টর দিয়ে সাধারণত মাটি পরিবহন বেশি করা হয়ে থাকে। গাড়ির মালিকরা বেশির ভাগই প্রভাবশালী। তাই তাদের নিষেধ করলেও মানে না।’

শফিকুল নামে একজন ট্রলির চালক বলেন, ‘আমি বেতনভুক্ত চালক। আমার নিজের গাড়ি নেই, কোনো রেজিস্ট্রেশনও নেই। মানুষ তাদের মাটি, গাছসহ বিভিন্ন মালামাল আনা-নেওয়ার জন্য আমাদের কাছে আসে। আমরা টাকার বিনিময়ে তাদের কাজ করে দিই।’

উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মকলেছুর রহমান সরদার বলেন, ‘এ ধরনের অনুমোদনহীন যানবাহন গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামোর জন্য খুবই ক্ষতিকর।

স্থানীয়ভাবে যারা মাটির ব্যবসা করে তারাই মূলত এসব যানবাহন ব্যবহার করে থাকে। অথবা ক্ষমতাশীন প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অনেকেই এ কাজ করে যাচ্ছে। আমরা উপজেলা প্রশাসন এ ধরনের যানবাহন সীমিত করা বা চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে।’

সুনামগঞ্জ বিআরটিএর সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের যানবাহনের কোনো রোড পারমিট নেই। চালকরাও অনভিজ্ঞ এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন। আমরা বিভিন্ন সময় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এদের গাড়িগুলো জব্দ করে জরিমানা করে থাকি।’

ইউএনও মফিজুর রহমান জানান, ‘আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে এইব্যপারে আমরা সিদ্ধান্ত নেব ও জোড়ালো পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে অবৈধ ট্রলি গাড়িতে অতিষ্ঠ জনজীবন; বাড়ছে দূর্ঘটনা

আপডেট সময় : ০৬:৩১:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মার্চ ২০২৪

সুনামগঞ্জ বিশ্বম্ভরপুরে অবৈধ ট্রলি গাড়িতে অতিষ্ঠ জনজীবন; বাড়ছে দূর্ঘটনা।

সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায়
দৈত্যাকৃতির দানব ট্রলি, তিনচাকা ট্রাক্টরের (মাটি পরিবহনের গাড়ি) উৎপাতে অতিষ্ঠ জনসাধারণ।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে দাপিয়ে চলছে এসব বাহন। অপরিকল্পিতভাবে তৈরি এসব গাড়ির কারণে হরহামেশাই ঘটছে দুর্ঘটনা। গ্রামীণ রাস্তাঘাট ভেঙে গিয়ে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। অতিদ্রুত এসব অবৈধ যানবাহন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ।

সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলাটি মূলত যাদুকাটা নদীসহ ছোট-বড় নদী-খালবেশিষ্ট এলাকা। এখনো অধিকাংশ সড়ক কাঁচা বা আধা পাকাকরণ হয়েছে। ফলে মানুষকে উপজেলা হয়ে সুনামগঞ্জ জেলা শহরে যেতে ব্যাপক বেগ পেতে হয়। কোথাও মোটরসাইকেল, ভ্যান, কোথাও টেম্পো বা সিএনজি অথবা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাই একমাত্র পরিবহন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় অন্তত ৩৫০ থেকে ৪০০টি এ ধরনের ট্রলি ট্রাক্টর রয়েছে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও অদক্ষ চালক দিয়ে চালানোর কারণে ঘটছে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা।

বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়নের শক্তিয়ারখলা বাজারের ব্যবসায়ি মাওলানা জহুর উদ্দিন বলেন, ‘এই দানব আকৃতির যান রাস্তায় চলাচলের সময় রাস্তা কাঁপতে থাকে। পাকা রাস্তার বেহাল দশা করেছে এই দৈত্যাকৃতির ট্রলি গাড়ি।’

আজ দুপুরের দিকে একটি ট্রলি শক্তিয়ারখলা বাজারের একটি দোকানের সাটার ভেঙ্গে দোকানের ঢুকে পরে এতে করে বাজারের ব্যবসায়ি সহ সকল মানুষ আতংকিত।

বাদাঘাট (দঃ) ইউনিয়নের শক্তিয়ারখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ জামাল হোসেন বলেন, ‘এই ট্রলি ট্রাক্টর দিয়ে সাধারণত মাটি পরিবহন বেশি করা হয়ে থাকে। গাড়ির মালিকরা বেশির ভাগই প্রভাবশালী। তাই তাদের নিষেধ করলেও মানে না।’

শফিকুল নামে একজন ট্রলির চালক বলেন, ‘আমি বেতনভুক্ত চালক। আমার নিজের গাড়ি নেই, কোনো রেজিস্ট্রেশনও নেই। মানুষ তাদের মাটি, গাছসহ বিভিন্ন মালামাল আনা-নেওয়ার জন্য আমাদের কাছে আসে। আমরা টাকার বিনিময়ে তাদের কাজ করে দিই।’

উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মকলেছুর রহমান সরদার বলেন, ‘এ ধরনের অনুমোদনহীন যানবাহন গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামোর জন্য খুবই ক্ষতিকর।

স্থানীয়ভাবে যারা মাটির ব্যবসা করে তারাই মূলত এসব যানবাহন ব্যবহার করে থাকে। অথবা ক্ষমতাশীন প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অনেকেই এ কাজ করে যাচ্ছে। আমরা উপজেলা প্রশাসন এ ধরনের যানবাহন সীমিত করা বা চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে।’

সুনামগঞ্জ বিআরটিএর সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের যানবাহনের কোনো রোড পারমিট নেই। চালকরাও অনভিজ্ঞ এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন। আমরা বিভিন্ন সময় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এদের গাড়িগুলো জব্দ করে জরিমানা করে থাকি।’

ইউএনও মফিজুর রহমান জানান, ‘আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে এইব্যপারে আমরা সিদ্ধান্ত নেব ও জোড়ালো পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

Facebook Comments Box