ঢাকা ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চুয়েটে ক্লাস শুরু নিয়ে বিভাগীয় প্রধানদের ভিন্নমত কেপটাউন টেস্টে মিচেল স্টার্কের বোলিং তাণ্ডব: ৩২৯ রানে অলআউট দক্ষিণ আফ্রিকা বাংলাদেশে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী জাপান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সফটওয়্যার প্রোগ্রামার নিয়োগ: আবেদনের সুযোগ ভালুকায় সেলুন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ সুন্দরবনে দস্যুদের সাথে বন্দুকযুদ্ধ, জিম্মি থেকে ৫ জেলে উদ্ধার বকেয়া বেতনের দাবিতে চালডাল কর্মীদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান উখিয়ায় নলকূপ খননের সময় অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সেনাবাহিনী আইজিপি’র ‘ক্রসফায়ার’ সম্পর্কিত বক্তব্যের অপব্যাখ্যা অপরাধীদের উৎসাহিত করবে

রাজারহাটে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে মাটি কাটার মহৎ উৎসব

সাইয়‍্যেদ বাবু সৃষ্টি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৩৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৪ ৩১৮ বার পড়া হয়েছে

রাজারহাটে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে মাটি কাটার মহৎ উৎসব

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে মাটি কাটার মহৎ উৎসব।

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে রাতের আঁধারে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। স্কেভেটর দিয়ে ফসলি জমির উপরের অংশ ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটায় ও বিভিন্ন স্থাপনা ভরাট কাজে। এতে নষ্ট হচ্ছে শত শত বিঘা ফসলি জমি।

অতিরিক্ত ওভারলোডিং এর ফলে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তা। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি, এ বিষয়ে ভূমি অফিস বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চাকিরপশার ইউনিয়নের জয়দেব হায়াত সহ উপজেলার বিভিন্নস্থানে চলছে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার মহৎ উৎসব।

কয়েক সপ্তাহ ধরে সকাল ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অন্তত ১০ থেকে ১৫ টি স্থান থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। উপজেলায় বৈধ অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ৬টি ইটভাটা আছে। এসব ইটভাটায় মাটির চাহিদা পূরণ করতে কৃষিজমি থেকে মাটি নেওয়া হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। মাটি ব্যবসায়ীরা কৃষকের কাছ থেকে কাঠাপ্রতি জমির মাটি কিনে নেন ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক কৃষক বলেন,ব্যবসায়ীরা তাদের মাটি বেচার ব্যাপারে উৎসাহিত করছে। জমির কোনো ক্ষতি হবে না। বর্ষা এলে জমির সেই মাটি পূরণ হয়ে ফসল ফলানো যাবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন,কৃষকদের যে সকল জমিতে চাষাবাদ হয় না সেসব জমির মাটিগুলো আমাদের কাছে বিক্রি করেন। আমরা এগুলো ইট-ভাটা ও ভিটা বাড়ির ভরাটের কাজে বিক্রি করে থাকি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথী বলেন,মাটির উপরিভাগের ১০-১৫ ইঞ্চির মধ্যে উর্বরতা শক্তি থাকে। মাটি খুঁড়ে বিক্রি করার ফলে তা পুনরায় ফিরে আসতে সময় লাগে।

এ ছাড়া মাটির এই অংশে যে কোনো ফসল বেড়ে উঠার গুণাগুণ সুরক্ষিত থাকে। বীজ রোপণের পর এই অংশ থেকেই ফসল প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান গ্রহণ করে বড় হয়। এটাকে টপ সয়েল বলে। এই টপ সয়েল একবার কেটে নিলে সে জমিতে আর প্রাণ থাকে না। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রাজারহাটে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে মাটি কাটার মহৎ উৎসব

আপডেট সময় : ১১:৩৩:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৪

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে চলছে মাটি কাটার মহৎ উৎসব।

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে রাতের আঁধারে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। স্কেভেটর দিয়ে ফসলি জমির উপরের অংশ ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটায় ও বিভিন্ন স্থাপনা ভরাট কাজে। এতে নষ্ট হচ্ছে শত শত বিঘা ফসলি জমি।

অতিরিক্ত ওভারলোডিং এর ফলে নষ্ট হচ্ছে গ্রামীণ রাস্তা। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি, এ বিষয়ে ভূমি অফিস বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চাকিরপশার ইউনিয়নের জয়দেব হায়াত সহ উপজেলার বিভিন্নস্থানে চলছে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার মহৎ উৎসব।

কয়েক সপ্তাহ ধরে সকাল ৮টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অন্তত ১০ থেকে ১৫ টি স্থান থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। উপজেলায় বৈধ অবৈধ মিলিয়ে প্রায় ৬টি ইটভাটা আছে। এসব ইটভাটায় মাটির চাহিদা পূরণ করতে কৃষিজমি থেকে মাটি নেওয়া হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। মাটি ব্যবসায়ীরা কৃষকের কাছ থেকে কাঠাপ্রতি জমির মাটি কিনে নেন ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক কৃষক বলেন,ব্যবসায়ীরা তাদের মাটি বেচার ব্যাপারে উৎসাহিত করছে। জমির কোনো ক্ষতি হবে না। বর্ষা এলে জমির সেই মাটি পূরণ হয়ে ফসল ফলানো যাবে। ব্যবসায়ীরা বলছেন,কৃষকদের যে সকল জমিতে চাষাবাদ হয় না সেসব জমির মাটিগুলো আমাদের কাছে বিক্রি করেন। আমরা এগুলো ইট-ভাটা ও ভিটা বাড়ির ভরাটের কাজে বিক্রি করে থাকি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুন্নাহার সাথী বলেন,মাটির উপরিভাগের ১০-১৫ ইঞ্চির মধ্যে উর্বরতা শক্তি থাকে। মাটি খুঁড়ে বিক্রি করার ফলে তা পুনরায় ফিরে আসতে সময় লাগে।

এ ছাড়া মাটির এই অংশে যে কোনো ফসল বেড়ে উঠার গুণাগুণ সুরক্ষিত থাকে। বীজ রোপণের পর এই অংশ থেকেই ফসল প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান গ্রহণ করে বড় হয়। এটাকে টপ সয়েল বলে। এই টপ সয়েল একবার কেটে নিলে সে জমিতে আর প্রাণ থাকে না। কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Facebook Comments Box