ঢাকা ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দৌলতপুরে ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারী ধান সংগ্রহ অভিযান: ৩ মাসে ক্রয়ের খাতায় শুন্য

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া )থেকে আহাদ নয়ন
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৮:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩ ২৭৩ বার পড়া হয়েছে

দৌলতপুরে ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারী ধান সংগ্রহ অভিযান: ৩ মাসে ক্রয়ের খাতায় শুন্য

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চলতি আমন মৌসুমে ধান সংগ্রহ অভিযান ভেস্তে যেতে চলেছে। ১লা নভেম্বর থেকে সারা দেশে সরকারী ধান সংগ্রহ শুরু হলেও গত ৩ মাসে এ উপজেলায় ক্রয় করা যায়নি এক ছটাকও। যার ফলে ক্রয়ের খাতায় শুন্য।

ধানের বাজার মুল্যের তুলনায় সরকারী দাম কম নির্ধারণ করা, খাদ্য দপ্তরের প্রচার-প্রচারণা ও তদারকি না থাকা, খাদ্য কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও গোডাউনে কৃষক হয়রানীসহ নানা কারণে ধান বিক্রয়ে কৃষকদেও মাঝে কোনই আগ্রহ নাই।

নির্ধারিত সময়ে আদৌও কোন ধান সংগ্রহ করা যাবে কিনা সে বিষয়েও কোন মাথা ব্যথা নেই উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলায় চলতি বছর ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয় ১২শ ৮২ মেট্রিক টন। নিয়ম অনুয়ায়ী কৃষকরা অনলাইনে আবেদন করার কথা থাকলেও একজন কৃষকও ধান বিক্রয়ের জন্য আবেদন করেননি। ফলে ৩১ জানুয়রী পর্যন্ত ৩ মাসে এক ছটাক ধানও সংগ্রহ করা যায়নি।

কৃষকদের অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে ধানের সরকারী মুল্য বাজার মুল্যের বেশি থাকায় প্রকৃত কৃষকরা সরকারের নিকট ধান বিক্রয়ের সুযোগ পাননি। ফলে সরকারের নিকট ধান বিক্রয়ের ব্যাপারে খোজখবরও রাখেননা দৌলতপুর উপজেলার কৃষকরা।

যে দু’একজন কৃষক সরকারী গোডাউনে ধান বিক্রয় করেছেন তাদেরও রয়েছে তিক্ত অভিজ্ঞতা। খাদ্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিকট থেকে পদে পদে নানা হয়রানী, জোর করে ওজনে বেশি করে নেয়া নিত্য দিনের ব্যাপার।

আবার ধান সংগ্রহ অভিযানের বিষয়ে এ বছর তেমন প্রচার প্রচারনাও নাই। সে কারণে ধান সংগ্রহের বিষয়ে সঠিক তথ্যও জানেন না অনেক কৃষক। সব মিলিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে উপজেলা খাদ্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা। তারা দুর্নীতির কারণে ব্যবসায়ী আর দালালদের উপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

দৌলতপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আয়েশা খাতুন ধান-চাল সংগ্রহসহ খাদ্যের যাবতীয় বিষয় দেখভাল করার কথা থাকলেও তিনি অফিস করেননা। মাসে ৩/৪দিন অফিসে এসে পুরো মাসের সই স্বাক্ষর করেন এই কর্মকর্তা।

গোডাউনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) শাহাবুল ইসলামের বিরুদ্ধেও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। ধান চাল সংগ্রহে কমিশন বানিজ্য, টিআরসহ সরকারী বরাদ্দের চাল ক্রয়-বিক্রয়কারী ব্যবসায়ীদের সাথে ধান-চালের ক্রয় ব্যবসার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

প্রাগপুর গ্রামের কৃষক আহাম্মদ আলী বলেন, নিয়মিত তিনি ব্যাপক জমিতে ধান চাষ করেন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ধান বাজারে বিক্রিও করা হয়। পূর্বে দু’একবার গোডাউনে ধান বিক্রয়ের চেষ্টা করেছিলাম। জেনে নিন>> ধুন্দল চাষ (Dhundal cultivation)

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার কারণে ব্যর্থ হয়েছি। তাই এ বিষয়ে আর আগ্রহ নেই।

একই অভিযোগ করেন খলিষাকুন্ডি গ্রামের কৃষক মুকাদ্দেস আলী, খাদ্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কৃষকের নাম ব্যবহার করে কমিশনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে ধান সংগ্রহে বেশি আগ্রহী।

এবার ধানের সরকারী মুল্য কিছুটা কম হওয়ায় কৃষক-ব্যবসায়ী কারও কোন আগ্রহ নাই।

দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম লিমন বলেন, চলতি মৌসূমে এ উপজেলায় ১৯ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। ফলনও মোটামুটি ভালো ছিল। উৎপাদিত হয়েছে এক লক্ষ ৫ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন ধান। ৫০ হাজারের বেশি কৃষক এই চাষের সাথে জড়িত।

উপজেলা খাদ্য গোডাউনের ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) শাহাবুল আলম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কৃষকদের কোন রকমের হয়রানী করা হয় না।

এই দুর্নিতীবাজ কর্মকর্তা জানান, প্রকৃত কৃষকের নামের বিপরীতে ধান ক্রয় করা হয়। কৃষক সেজে অন্য কেউ ধান দিলে কিছু করার থাকে না। চলতি আমন মৌসূমে ধান বিক্রয়ের জন্য কেউ আবেদন না করায় কোন ধান কেনা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আয়েশা আক্তার বলেন, সরকার নির্ধারিত দিনে ধান সংগ্রহের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দাম বাজার মুল্যের তুলনায় কম হওয়ায় চাষীদের আগ্রহ নেই।

গোডাউনে কৃষক হয়রানীর বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেননি। নিয়মিত অফিস না করার বিষয়ে তিনি বলেন, শারীরিক ভাবে কিছুটা অসুস্থ এবং থাকায় নিয়মিত অফিস করা সম্ভব হয়না। এতে দাপ্তরিক কোন কাজে সমস্যা হয় না।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, ধান বিক্রয় করতে কৃষকদের আগহ কম কেন সে বিষয়ে খোজখবর নেয়া হচ্ছে। সরকারী দর কম হওয়ায় কৃষকরা গোডাউনে ধান বিক্রির জন্য আবেদন করছেন না বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

কৃষকদের ধান বিক্রিতে আগ্রহী করতে সংশ্লিষ্ট খাদ্য দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার নিয়মিত অফিস না করার বিষয়ে ইউএনও বলেন, বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। নিয়মিত অফিস করার জন্য কয়েকবার তাকে বলা হয়েছে। জেনে নিন>>>পটল চাষ

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দৌলতপুরে ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারী ধান সংগ্রহ অভিযান: ৩ মাসে ক্রয়ের খাতায় শুন্য

আপডেট সময় : ০৭:৪৮:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে চলতি আমন মৌসুমে ধান সংগ্রহ অভিযান ভেস্তে যেতে চলেছে। ১লা নভেম্বর থেকে সারা দেশে সরকারী ধান সংগ্রহ শুরু হলেও গত ৩ মাসে এ উপজেলায় ক্রয় করা যায়নি এক ছটাকও। যার ফলে ক্রয়ের খাতায় শুন্য।

ধানের বাজার মুল্যের তুলনায় সরকারী দাম কম নির্ধারণ করা, খাদ্য দপ্তরের প্রচার-প্রচারণা ও তদারকি না থাকা, খাদ্য কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও গোডাউনে কৃষক হয়রানীসহ নানা কারণে ধান বিক্রয়ে কৃষকদেও মাঝে কোনই আগ্রহ নাই।

নির্ধারিত সময়ে আদৌও কোন ধান সংগ্রহ করা যাবে কিনা সে বিষয়েও কোন মাথা ব্যথা নেই উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলায় চলতি বছর ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয় ১২শ ৮২ মেট্রিক টন। নিয়ম অনুয়ায়ী কৃষকরা অনলাইনে আবেদন করার কথা থাকলেও একজন কৃষকও ধান বিক্রয়ের জন্য আবেদন করেননি। ফলে ৩১ জানুয়রী পর্যন্ত ৩ মাসে এক ছটাক ধানও সংগ্রহ করা যায়নি।

কৃষকদের অভিযোগ, বিগত বছরগুলোতে ধানের সরকারী মুল্য বাজার মুল্যের বেশি থাকায় প্রকৃত কৃষকরা সরকারের নিকট ধান বিক্রয়ের সুযোগ পাননি। ফলে সরকারের নিকট ধান বিক্রয়ের ব্যাপারে খোজখবরও রাখেননা দৌলতপুর উপজেলার কৃষকরা।

যে দু’একজন কৃষক সরকারী গোডাউনে ধান বিক্রয় করেছেন তাদেরও রয়েছে তিক্ত অভিজ্ঞতা। খাদ্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিকট থেকে পদে পদে নানা হয়রানী, জোর করে ওজনে বেশি করে নেয়া নিত্য দিনের ব্যাপার।

আবার ধান সংগ্রহ অভিযানের বিষয়ে এ বছর তেমন প্রচার প্রচারনাও নাই। সে কারণে ধান সংগ্রহের বিষয়ে সঠিক তথ্যও জানেন না অনেক কৃষক। সব মিলিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে উপজেলা খাদ্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা। তারা দুর্নীতির কারণে ব্যবসায়ী আর দালালদের উপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

দৌলতপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আয়েশা খাতুন ধান-চাল সংগ্রহসহ খাদ্যের যাবতীয় বিষয় দেখভাল করার কথা থাকলেও তিনি অফিস করেননা। মাসে ৩/৪দিন অফিসে এসে পুরো মাসের সই স্বাক্ষর করেন এই কর্মকর্তা।

গোডাউনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) শাহাবুল ইসলামের বিরুদ্ধেও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। ধান চাল সংগ্রহে কমিশন বানিজ্য, টিআরসহ সরকারী বরাদ্দের চাল ক্রয়-বিক্রয়কারী ব্যবসায়ীদের সাথে ধান-চালের ক্রয় ব্যবসার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

প্রাগপুর গ্রামের কৃষক আহাম্মদ আলী বলেন, নিয়মিত তিনি ব্যাপক জমিতে ধান চাষ করেন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ধান বাজারে বিক্রিও করা হয়। পূর্বে দু’একবার গোডাউনে ধান বিক্রয়ের চেষ্টা করেছিলাম। জেনে নিন>> ধুন্দল চাষ (Dhundal cultivation)

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার কারণে ব্যর্থ হয়েছি। তাই এ বিষয়ে আর আগ্রহ নেই।

একই অভিযোগ করেন খলিষাকুন্ডি গ্রামের কৃষক মুকাদ্দেস আলী, খাদ্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কৃষকের নাম ব্যবহার করে কমিশনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে ধান সংগ্রহে বেশি আগ্রহী।

এবার ধানের সরকারী মুল্য কিছুটা কম হওয়ায় কৃষক-ব্যবসায়ী কারও কোন আগ্রহ নাই।

দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম লিমন বলেন, চলতি মৌসূমে এ উপজেলায় ১৯ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হয়েছে। ফলনও মোটামুটি ভালো ছিল। উৎপাদিত হয়েছে এক লক্ষ ৫ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন ধান। ৫০ হাজারের বেশি কৃষক এই চাষের সাথে জড়িত।

উপজেলা খাদ্য গোডাউনের ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) শাহাবুল আলম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কৃষকদের কোন রকমের হয়রানী করা হয় না।

এই দুর্নিতীবাজ কর্মকর্তা জানান, প্রকৃত কৃষকের নামের বিপরীতে ধান ক্রয় করা হয়। কৃষক সেজে অন্য কেউ ধান দিলে কিছু করার থাকে না। চলতি আমন মৌসূমে ধান বিক্রয়ের জন্য কেউ আবেদন না করায় কোন ধান কেনা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আয়েশা আক্তার বলেন, সরকার নির্ধারিত দিনে ধান সংগ্রহের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দাম বাজার মুল্যের তুলনায় কম হওয়ায় চাষীদের আগ্রহ নেই।

গোডাউনে কৃষক হয়রানীর বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেননি। নিয়মিত অফিস না করার বিষয়ে তিনি বলেন, শারীরিক ভাবে কিছুটা অসুস্থ এবং থাকায় নিয়মিত অফিস করা সম্ভব হয়না। এতে দাপ্তরিক কোন কাজে সমস্যা হয় না।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, ধান বিক্রয় করতে কৃষকদের আগহ কম কেন সে বিষয়ে খোজখবর নেয়া হচ্ছে। সরকারী দর কম হওয়ায় কৃষকরা গোডাউনে ধান বিক্রির জন্য আবেদন করছেন না বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

কৃষকদের ধান বিক্রিতে আগ্রহী করতে সংশ্লিষ্ট খাদ্য দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার নিয়মিত অফিস না করার বিষয়ে ইউএনও বলেন, বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। নিয়মিত অফিস করার জন্য কয়েকবার তাকে বলা হয়েছে। জেনে নিন>>>পটল চাষ

 

Facebook Comments Box