ঢাকা ০৫:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে আলোচনায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের গার্ড

নিজস্ব প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:০০:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫ ৬৩৮৭ বার পড়া হয়েছে

সাইফুর রহমান ও সুজন মিয়া।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

 

৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে আলোচনায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের গার্ড

 

৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে আলোচনায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের গার্ড।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এক সৎ যুবকের সততা ও মানবিকতার নজিরে মুগ্ধ পুরো এলাকা। হারানো ৫০ হাজার টাকা প্রকৃত মালিকের হাতে ফেরত দিয়ে প্রশংসার ঝড় তুলেছেন ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথের সিকিউরিটি গার্ড মো. মজনু মিয়া।

 

মজনু মিয়া ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের নলেয়া গ্রামের কৃষক শাহজালালের ছেলে। এইচএসসি পাস করা এই তরুণ পড়াশোনার পাশাপাশি উপজেলার জামতলা মোড়ের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কাউনিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রউফ গ্রেফতার

 

পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে ছোট ভাইকে বিদেশে পাঠানোর দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে। ডিউটির সময় জামতলা মোড়ের পাশে ড্রেনের ধারে রাবার দিয়ে বাঁধা অবস্থায় একটি টাকা ভর্তি প্যাকেট ও কিছু কাগজপত্র দেখতে পান মজনু মিয়া। তিনি সেটি হাতে তুলে নেন, তবে কাউকে কিছু না জানিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন প্রকৃত মালিকের সন্ধানে।

 

রাত ৯টার দিকে এক বৃদ্ধ লোককে উদ্বিগ্নভাবে কিছু খুঁজতে দেখে মজনু এগিয়ে যান এবং জানতে চান বিষয়টি কী। ওই বৃদ্ধ জানান, তিনি কাঠ ব্যবসার ৫০ হাজার টাকা হারিয়েছেন। তাঁর নাম সাইফুর রহমান, বাড়ি থানাঘাট এলাকায়।

পড়ুন>>ভূরুঙ্গামারীতে সিএনবির টেকসই উন্নয়ন কর্মশালা

পরে উপস্থিত লোকজনের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে মজনু নিশ্চিত হন যে তিনিই প্রকৃত মালিক। এরপর তিনি টাকা ও কাগজপত্র সাইফুর রহমানের হাতে তুলে দেন। টাকা ফেরত পেয়ে আবেগাপ্লুত সাইফুর রহমান কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এমন সততার মানুষ এখন খুব কমই দেখা যায়। আল্লাহ মজনুকে ভালো রাখুন।”

 

নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে মজনু মিয়া বলেন, “আমি যদি তখন কাউকে বলতাম, হয়তো টাকাটা প্রকৃত মালিকের হাতে পৌঁছাত না। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই টাকাটা ফেরত দিয়েছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন সারাজীবন সৎ পথে থাকতে পারি।”

মজনুর এই সততা ও মানবিকতার ঘটনা এখন ভূরুঙ্গামারীজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, “আজকের সমাজে এমন সততার দৃষ্টান্ত সত্যিই বিরল—মজনুর মতো মানুষ সমাজের গর্ব।”

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে আলোচনায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের গার্ড

আপডেট সময় : ০৮:০০:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

 

 

 

৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে আলোচনায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের গার্ড

 

৫০ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে আলোচনায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের গার্ড।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে এক সৎ যুবকের সততা ও মানবিকতার নজিরে মুগ্ধ পুরো এলাকা। হারানো ৫০ হাজার টাকা প্রকৃত মালিকের হাতে ফেরত দিয়ে প্রশংসার ঝড় তুলেছেন ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথের সিকিউরিটি গার্ড মো. মজনু মিয়া।

 

মজনু মিয়া ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের নলেয়া গ্রামের কৃষক শাহজালালের ছেলে। এইচএসসি পাস করা এই তরুণ পড়াশোনার পাশাপাশি উপজেলার জামতলা মোড়ের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএম বুথে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কাউনিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রউফ গ্রেফতার

 

পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে ছোট ভাইকে বিদেশে পাঠানোর দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে। ডিউটির সময় জামতলা মোড়ের পাশে ড্রেনের ধারে রাবার দিয়ে বাঁধা অবস্থায় একটি টাকা ভর্তি প্যাকেট ও কিছু কাগজপত্র দেখতে পান মজনু মিয়া। তিনি সেটি হাতে তুলে নেন, তবে কাউকে কিছু না জানিয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন প্রকৃত মালিকের সন্ধানে।

 

রাত ৯টার দিকে এক বৃদ্ধ লোককে উদ্বিগ্নভাবে কিছু খুঁজতে দেখে মজনু এগিয়ে যান এবং জানতে চান বিষয়টি কী। ওই বৃদ্ধ জানান, তিনি কাঠ ব্যবসার ৫০ হাজার টাকা হারিয়েছেন। তাঁর নাম সাইফুর রহমান, বাড়ি থানাঘাট এলাকায়।

পড়ুন>>ভূরুঙ্গামারীতে সিএনবির টেকসই উন্নয়ন কর্মশালা

পরে উপস্থিত লোকজনের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে মজনু নিশ্চিত হন যে তিনিই প্রকৃত মালিক। এরপর তিনি টাকা ও কাগজপত্র সাইফুর রহমানের হাতে তুলে দেন। টাকা ফেরত পেয়ে আবেগাপ্লুত সাইফুর রহমান কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “এমন সততার মানুষ এখন খুব কমই দেখা যায়। আল্লাহ মজনুকে ভালো রাখুন।”

 

নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে মজনু মিয়া বলেন, “আমি যদি তখন কাউকে বলতাম, হয়তো টাকাটা প্রকৃত মালিকের হাতে পৌঁছাত না। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই টাকাটা ফেরত দিয়েছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন সারাজীবন সৎ পথে থাকতে পারি।”

মজনুর এই সততা ও মানবিকতার ঘটনা এখন ভূরুঙ্গামারীজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, “আজকের সমাজে এমন সততার দৃষ্টান্ত সত্যিই বিরল—মজনুর মতো মানুষ সমাজের গর্ব।”

Facebook Comments Box