স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও স্বীকৃতি হয়নি ‘হাতিয়া গণহত্যা দিবস’
- আপডেট সময় : ০৩:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৪ ১২২ বার পড়া হয়েছে
স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও স্বীকৃতি হয়নি ‘হাতিয়া গণহত্যা দিবস’
স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও স্বীকৃতি হয়নি ‘হাতিয়া গণহত্যা দিবস’
আজ ১৩ নভেম্বর। কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার ‘হাতিয়া গণহত্যা দিবস’। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে জঘন্যতম নারকীয় এই হত্যাকাণ্ডের ইতিহাস ‘হাতিয়া গণহত্যা’ দিবস হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে তেমন গুরুত্ব না পেলে ও কুড়িগ্রামবাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে।
দেশের উত্তরবঙ্গের সব থেকে বড় এই গণহত্যা স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও ‘হাতিয়া গণহত্যা’ দিবস হিসেবে স্বীকৃতি না পাওয়ায় আজও নিহত শহীদের স্বজনরা স্থানীয়ভাবে পালন করে আসছে।
১৯৭১ সালের ১২ নভেম্বর (শুক্রবার)। ২২ রমজান। ট্রেন যোগে পাঁচশর মতো বর্বর পাকিস্তানি সৈন্য উলিপুরের উদ্দেশে রওনা দেয় কুড়িগ্রাম থেকে। পথিমধ্যে ৩ ভাগ হয়ে হাতিয়ার দিকে যাত্রা করে তারা।
সেই নারকীয় রক্তঝরা দিনটি ছিল ১৩ নভেম্বর ২৩ রমজান শনিবার। গ্রামের বেশীর ভাগ মানুষ সেহরি খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ছে। কেউ ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আবার অনেকেই ফজরের নামাজের সুমধুর আজানের ধ্বনি শুনে নামাজের জন্য মসজিদের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
এরই মধ্যে হঠাৎ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মর্টার সেল আর বন্দুকের অবিরাম গুলিবর্ষণে প্রকম্পিত হয়ে উঠে হাতিয়ার দাগারকুটি গ্রামসহ আশপাশের গ্রামগুলো।
সহজ সরল নিরীহ মানুষগুলো কিছু বুঝে উঠার আগেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আল-সামস বাহিনী মিলে গ্রামের বাড়ী-ঘরে আগুন লাগিয়ে ধ্বংস যজ্ঞ চালায়। আর সাথে চলতে থাকে লুটপাট ও নির্যাতন।
এরকম পরিস্থিতিতে এলাকার নিরীহ মানুষজন জীবন বাঁচানোর জন্য এদিক-ওদিক এলোপাথাড়ি ছোটাছুটি শুরু করে দেয়। পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর ছোড়া বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণে মানুষজন জীবন বাঁচাতে পার্শ্ববর্তী ধানক্ষেত, ঝোপ-ঝাড়ে শুয়ে জীবন রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে। অনেকে ব্রহ্মপুত্র নদে ঝাঁপ দিয়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করে। কিন্তু অসহায় মানুষের আত্মচিৎকারে ভারী হয়ে আসে এলাকার আকাশ-বাতাস। এসব অসহায় মানুষের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায়।
পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের সহযোগিতায় আত্মগোপন করা মানুষগুলোকে ধরে নিয়ে এসে দাগারকুটি গ্রামে সারিবদ্ধ ভাবে ৬৯৭ জনকে নির্দয় ভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাদের নারকীয় হত্যাযজ্ঞ থেকে সেদিন মায়ের কোলের শিশুটিও রক্ষা পায়নি। সারা দিন ব্যাপী চলে হানাদার বাহিনীর হত্যা আর অগ্নিসংযোগ।
পড়ুন>> বাংলাদেশে প্রথম হানাদার মুক্ত এলাকা কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী
আগুনে পুড়ে যায় বাগুয়া অনন্তপুর, দাগারকুটি, হাতিয়া বকশী, রামখানা, নয়াদাড়া, নীলকণ্ঠ, যমুনা, মন্ডলেরহাটসহ আশ-পাশের গ্রামের শতশত ঘর-বাড়ী। মুহূর্তে গ্রামগুলো পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে।
সেদিন পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকার, আল-বদর, আল-সামস বাহিনীর সহযোগিতায় উপজেলা শহর হতে প্রায় ৮ কি.মি. পূর্বে ব্রহ্মপুত্র নদের কোল ঘেঁষে হাতিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের শতশত মানুষকে গুলি করে হত্যা করে। সেগুলো আজ শুধুই স্মৃতি। দাগারকুটি গ্রামটিকে ঘিরে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে এলাকার মানুষজন প্রতি বছর শহীদদের স্মরণ করে আসছে।
কিন্তু গত আড়াই দশকে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনে দাগারকুটি গ্রামটিকে বিলীন করে দিয়েছে। বর্তমানে অনন্তপুর বাজারের পশ্চিম দিকে নতুন করে স্মৃতিসৌধ করে দিবসটি পালন করে আসছে শহীদ পরিবারগুলোসহ উলিপুরবাসী। গণহত্যার শিকার শহীদ পরিবারগুলো এবং কুড়িগ্রামবাসী ‘হাতিয়া গণহত্যা দিবস’ হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার দাবী জানানো হয়।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























