ঢাকা ০৮:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী জাপান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সফটওয়্যার প্রোগ্রামার নিয়োগ: আবেদনের সুযোগ ভালুকায় সেলুন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ সুন্দরবনে দস্যুদের সাথে বন্দুকযুদ্ধ, জিম্মি থেকে ৫ জেলে উদ্ধার বকেয়া বেতনের দাবিতে চালডাল কর্মীদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান উখিয়ায় নলকূপ খননের সময় অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সেনাবাহিনী আইজিপি’র ‘ক্রসফায়ার’ সম্পর্কিত বক্তব্যের অপব্যাখ্যা অপরাধীদের উৎসাহিত করবে সৌদির রাস তানুরা তেল শোধনাগারে হামলার দাবি হুতিদের দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪০০ ছাড়াল

স্বরূপকাঠিতে খোলা বাজারে চাল বিক্রিতে অনিয়ম:বাড়তি দামে চাল পাচার করছে ডিলাররা

পিরোজপুর থেকে শেখর মজুমদার
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৭:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর ২০২২ ২৭৩ বার পড়া হয়েছে

স্বরূপকাঠিতে খোলা বাজারে চাল বিক্রিতে অনিয়ম বন্ধ হয়নি তদারকি অভাবে চাল পাচার করছে ডিলাররা

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে ডিলারদের মাধ্যমে খোলা বাজারে চাল বিক্রিতে চলছে নানা ধরনের অনিয়ম। খাদ্য বিভাগ ও ট্যাগ অফিসারদের তদারকির অভাবে বাড়তি দামে চাল পাচার করছে ডিলাররা। চতুর ডিলাররা সকালে দরিদ্রদের কাছে পাঁচ কেজি করে চাল বিক্রি শুরু করেন। দুপুরের পরে সুযোগ মতো হোটেল মালিক ও খুচরা চাল ব্যবসায়ীদের কাছে বস্তায় ভরে চাল পাচার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বাড়তি দামে বাইরে চাল বিক্রি করে ডিলাররা লাভবান হলেও সরকারের মহৎ উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে।
জানাগেছে খাদ্য বিভাগ চারজন ডিলারের মাধ্যমে স্বরূপকাঠি পৌর এলাকায় প্রতিদিন ৮ মেঃ টন করে সপ্তাহে ৪০ মেঃ টন চাল খোলা বাজারে বিক্রি করছেন। ৩০ টাকা কেজি দরে প্রতি পরিবার দৈনিক পাঁচ কেজি করে চাল কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। খোলা বাজারে চাল বিক্রির শুরু থেকে ডিলাররা উত্তোলন করা চালের একটি অংশ বেশী দামে বাইরে বিক্রি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে চাল বিক্রিতে অনিয়ম প্রতিরোধে স্বরূপকাঠি পৌর পরিষদ কার্ড প্রথা চালু করেন। নির্ধারিত কার্ডের মাধ্যমে পৌর এলাকার দরিদ্র নাগরিকদের জন্য প্রতিদিন ৬ মেঃ টন ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা মানুষের জন্য দুই মেট্রিক টন চাল বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়। কার্ড বিতরণেও রয়েছে অভিযোগ। কার্ডের বাইরে থাকা ভাসমান লোকদের কাছে বিক্রির জন্য দুই টন চাল নিয়ে কারসাজি করে ডিলাররা।

এ ছাড়া কার্ড থাকার পরেও পৌর এলাকার অনেক পরিবার একটু দেরী করে গেলে অনেক সময় চাল কিনতে পারেন না। ২নং ওয়ার্ডের হোসেন আলীর পুত্র আঃ করিম অভিযোগ করেন পৌরসভার সামনে ডিলার ফারুক হোসেনের কাছে দুইদিন দুপুরে গিয়ে চাল পাননি। অথচ তার সামনে থেকে এক হোটেল মালিককে দুই বস্তা চাল দেয়া হয়। সদর ইউপির রাহুতকাঠি গ্রামের সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম অভিযোগ করেন তার বাড়ির দুই আত্মীয় ডিলার কাজী সরোয়ারের কাছে দুইদিন গিয়ে চাল কিনতে পারেনি। পরে ওই সাংবাদিক নিজে তার আত্মীয়দের নিয়ে ডিলারের কাছে গেলেও তাদের চাল দেয়া হয়নি। গত বৃহসপতিবার দুপুরে ডিলার ফারুক পৌরসভার সামনে বসেই দুই হোটেল মালিক ও কুদ্দুস নামে দুই ব্যক্তির কাছে ৫০কেজির দুই বস্তা চাল বিক্রি করেন।

এ সময় সাংবাদিকরা বিষয়টি জিজ্ঞাসা করলে পৌর মেয়র ও একজন কাউন্সিলরের সুপারিশে দিচ্ছেন বলে দাবী করেন ডিলার ফারুক। এ বিষয় মেয়র গোলাম কবির ফোনে দৃঢ়তার সাথে অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ডিলারকে তিরস্কার করেন। এসব অনিয়মের বিষয় নিয়ে কথা বললে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মতিউর রহমান জানান খোলা বাজারে চাল বিক্রির জন্য নিয়োজিত চারজন ডিলারের কার্যক্রম তদারকি করতে ৪জন ট্যাগ অফিসার দেয়া হয়েছে। বিষয়টি তাদের দেখার কথা বলে জানান খাদ্য কর্মকর্তা। ট্যাগ অফিসার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলেনুর বেগম বলেন গত সপ্তাহে তিনি ঢাকা ছিলেন এবং এ সপ্তাহে বাড়ি আসার পরে একদিন ডিলারের দোকানে গিয়েছিলেন।

খাদ্য পরিদর্শক ও ট্যাগ অফিসার এইচ এম আনোয়ার হোসেন বলেন,খোঁজ খবর নিচ্ছি,তবে কখন বস্তায় বিক্রি করে ধরিয়ে দিতে পারলে পুরষ্কৃত করবেন বলে জানান। জানাগেছে এ সব ট্যাগ অফিসাররা সুযোগ পেলে সপ্তাহে ২-১দিন ডিলারদের দোকানে গিয়ে চা-পান খেয়ে চলে আসেন। মাষ্টাররোল অনুমোদনসহ অন্যান্য স্বাক্ষর কাজ অফিসে গিয়ে সেরে আসেন বলে জানান জনৈক ডিলার।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

স্বরূপকাঠিতে খোলা বাজারে চাল বিক্রিতে অনিয়ম:বাড়তি দামে চাল পাচার করছে ডিলাররা

আপডেট সময় : ০৭:৪৭:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর ২০২২

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে ডিলারদের মাধ্যমে খোলা বাজারে চাল বিক্রিতে চলছে নানা ধরনের অনিয়ম। খাদ্য বিভাগ ও ট্যাগ অফিসারদের তদারকির অভাবে বাড়তি দামে চাল পাচার করছে ডিলাররা। চতুর ডিলাররা সকালে দরিদ্রদের কাছে পাঁচ কেজি করে চাল বিক্রি শুরু করেন। দুপুরের পরে সুযোগ মতো হোটেল মালিক ও খুচরা চাল ব্যবসায়ীদের কাছে বস্তায় ভরে চাল পাচার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বাড়তি দামে বাইরে চাল বিক্রি করে ডিলাররা লাভবান হলেও সরকারের মহৎ উদ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে।
জানাগেছে খাদ্য বিভাগ চারজন ডিলারের মাধ্যমে স্বরূপকাঠি পৌর এলাকায় প্রতিদিন ৮ মেঃ টন করে সপ্তাহে ৪০ মেঃ টন চাল খোলা বাজারে বিক্রি করছেন। ৩০ টাকা কেজি দরে প্রতি পরিবার দৈনিক পাঁচ কেজি করে চাল কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। খোলা বাজারে চাল বিক্রির শুরু থেকে ডিলাররা উত্তোলন করা চালের একটি অংশ বেশী দামে বাইরে বিক্রি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে চাল বিক্রিতে অনিয়ম প্রতিরোধে স্বরূপকাঠি পৌর পরিষদ কার্ড প্রথা চালু করেন। নির্ধারিত কার্ডের মাধ্যমে পৌর এলাকার দরিদ্র নাগরিকদের জন্য প্রতিদিন ৬ মেঃ টন ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা মানুষের জন্য দুই মেট্রিক টন চাল বিক্রির ব্যবস্থা রাখা হয়। কার্ড বিতরণেও রয়েছে অভিযোগ। কার্ডের বাইরে থাকা ভাসমান লোকদের কাছে বিক্রির জন্য দুই টন চাল নিয়ে কারসাজি করে ডিলাররা।

এ ছাড়া কার্ড থাকার পরেও পৌর এলাকার অনেক পরিবার একটু দেরী করে গেলে অনেক সময় চাল কিনতে পারেন না। ২নং ওয়ার্ডের হোসেন আলীর পুত্র আঃ করিম অভিযোগ করেন পৌরসভার সামনে ডিলার ফারুক হোসেনের কাছে দুইদিন দুপুরে গিয়ে চাল পাননি। অথচ তার সামনে থেকে এক হোটেল মালিককে দুই বস্তা চাল দেয়া হয়। সদর ইউপির রাহুতকাঠি গ্রামের সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম অভিযোগ করেন তার বাড়ির দুই আত্মীয় ডিলার কাজী সরোয়ারের কাছে দুইদিন গিয়ে চাল কিনতে পারেনি। পরে ওই সাংবাদিক নিজে তার আত্মীয়দের নিয়ে ডিলারের কাছে গেলেও তাদের চাল দেয়া হয়নি। গত বৃহসপতিবার দুপুরে ডিলার ফারুক পৌরসভার সামনে বসেই দুই হোটেল মালিক ও কুদ্দুস নামে দুই ব্যক্তির কাছে ৫০কেজির দুই বস্তা চাল বিক্রি করেন।

এ সময় সাংবাদিকরা বিষয়টি জিজ্ঞাসা করলে পৌর মেয়র ও একজন কাউন্সিলরের সুপারিশে দিচ্ছেন বলে দাবী করেন ডিলার ফারুক। এ বিষয় মেয়র গোলাম কবির ফোনে দৃঢ়তার সাথে অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ডিলারকে তিরস্কার করেন। এসব অনিয়মের বিষয় নিয়ে কথা বললে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মতিউর রহমান জানান খোলা বাজারে চাল বিক্রির জন্য নিয়োজিত চারজন ডিলারের কার্যক্রম তদারকি করতে ৪জন ট্যাগ অফিসার দেয়া হয়েছে। বিষয়টি তাদের দেখার কথা বলে জানান খাদ্য কর্মকর্তা। ট্যাগ অফিসার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলেনুর বেগম বলেন গত সপ্তাহে তিনি ঢাকা ছিলেন এবং এ সপ্তাহে বাড়ি আসার পরে একদিন ডিলারের দোকানে গিয়েছিলেন।

খাদ্য পরিদর্শক ও ট্যাগ অফিসার এইচ এম আনোয়ার হোসেন বলেন,খোঁজ খবর নিচ্ছি,তবে কখন বস্তায় বিক্রি করে ধরিয়ে দিতে পারলে পুরষ্কৃত করবেন বলে জানান। জানাগেছে এ সব ট্যাগ অফিসাররা সুযোগ পেলে সপ্তাহে ২-১দিন ডিলারদের দোকানে গিয়ে চা-পান খেয়ে চলে আসেন। মাষ্টাররোল অনুমোদনসহ অন্যান্য স্বাক্ষর কাজ অফিসে গিয়ে সেরে আসেন বলে জানান জনৈক ডিলার।

Facebook Comments Box