সোনাহাট ক্যাম্প হইতে গোলেরহাট পর্যন্ত সড়ক মেরামতে অনিয়মের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১০:২৩:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২৭৩ বার পড়া হয়েছে
নাগেশ্বরীথেকে মোঃ মজিবর রহমান :কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট ক্যাম্পের মোড় থেকে নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ইউনিয়নের গোলেরহাট পর্যন্ত সড়ক ও জনপথের ১১ কিলোমিটার সড়ক মেরামত কাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
জানাগেছে, সড়ক ও জনপদের ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট ক্যাম্পের মোড় থেকে নাগেশ্বরীর গোলেরহাট পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার সড়ক মেরামতের জন্য ২০২১- ২২ অর্থ বছরে প্রায় ৬ কোটি ৪০লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় সড়ক ও জনপদ বিভাগ।সড়ক ও জনপথ বিভাগের অগ্রাধিকার মেরামত প্রকল্প-১ (পিএমপি-১) এর আওতায় কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপদ দপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
নওগার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হাসান টেকনো বিল্ডার্স কাজটি পেলেও কুমিল্লার আমিনুল হক প্রাইভেট লিঃ নামের আরেকটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তা বাস্তবায়ন করছে। গত ২৫ মে ২০২২ সালে কাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। কাজের ধরনে বলা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার নতুন করে বেইজ টাইপ-১ অর্থাৎ সড়ক খুড়ে কার্পেটিং তুলে ১০০ মিলিমিটার পুরুত্বে নতুন পাথরের খোয়া ৭৫ ভাগ এবং বালু ২৫ ভাগ এর মিশ্রণে সড়কের ভীত বা বেড তৈরী করতে হবে। বাকী ৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়কসহ পুরো ১১কিলোমিটার ৪০ মিলিমিটার পুরত্বে কার্পেটিং করতে হবে। নতুন তৈরীকৃত ৫দশমিক ৫ কিলোমিটারের দুই পাশে ইটের রেজিং বসাতে হবে। অপর ৫দশমিক ৫কিলোমিটার সড়কের যেখানে প্রয়োজন সেখানে ইটের রেজিং দিতে হবে। এছাড়া ১১ কিলোমিটার সড়কের দুই ধারে মাটির সোল্ডার বাঁধ ও জলাধারের পাশে প্লাসিটিং এর কাজ রয়েছে। সরেজেমিনে গিয়ে দেখা যায়, নতুন করে নির্মাণ করা সড়কে পাথরের পরিমান কম দিয়ে বালুর পরিমান বেশী দেয়া হয়েছে। নির্ধারীত ৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়কের দুইধারের রেজিং এ ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের ইট। অপর ৫দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়কে কোথাও দেয়া হয়নি রেজিং। এছাড়া ব্যবহার করা হয়েছে মানহীন স্থানীয় বালু। দু এক জায়গায় নামে মাত্র মাটির সোল্ডার বাধ দেয়া হলেও বাকি রয়েছে সিংহভাগ। কার্পেটিং বাবøাকটপ ৪০ মিলিমিটারের পরিবর্তের করা হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ মিলিমিটার। এছাড়া মেরামত কাজ তদারকির জন্য প্রকৌশল বিভাগের লোকজন থাকার কথা থাকলেও তারা নিয়মিত আসেননা। এতে ঠিকাদারের লোকজন নিজেদের খেয়াল খুশিমত কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দেও অভিযোগ, সড়ক মেরামতে স্থানীয় নিম্নমানের বালু, সড়কের দু পাশের রেজিং এ তৃতীয় শ্রেণীরইট ব্যবহার, নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম পরিমাণে পাথরের খোয়া দেওয়া হয়েছে। সড়কের দু’পাশে মাটির সোল্ডার বাধ করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। নিম্নমানের মাটি মিশ্রিত বালু ব্যাবহার করার ফলে বৃষ্টির পানিতে তা কাদায় পরিণত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে সেই কাদা মাটিতেই কার্পেটিং কাজ করছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
কেদার ইউনিয়নের সুবলপাড় এলাকার আমিনুল ইসলাম জানান, সোনাহাট থেকে মাষ্টার পাড়া পর্যন্ত অনিয়ম করে কার্পেটিং করেছে। আমাদের এখানেও বালু আর পাথরের পরিমানে অনিয়ম করেছে। এখন কার্পেটিং চলছে। সড়ক ব্রাস মেওে পরিস্কার না কওে কার্পেটিং এর প্রস্তুতি সড়ক পরিস্কার করা হচ্ছে। তবে কার্পেটিং যে ভাবে করার কথা সেভাবে হচ্ছেনা।
বলদিয়া ইউনিয়নের আব্দুল মান্নান বলেন, ৪০ মিলিমিটার পুরত্বে কার্পেটিং করার কথা থাকলেও পরিমাপে তা ৩০ থেকে ৩২ মিলিমিটার দেখা যাচ্ছে। বাহের কেদার গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, শুরু থেকেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের কাজ করে আসছে। পাথর কম দিয়ে বালু বেশী দিয়েছে। বালুরমান খারাপ, ইটের মান খারাপ এখন সড়কে পরিমান মতো তেলনা দিয়েই পীচ করছে। সরকারী লোক সবসময় থাকলে এমন অনিয়ম হতো না।
সব অভিযোগ অস্বীকার কওে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিযুক্ত সাইড ইঞ্জিনিয়ার লোকমান হোসেন বলেন, খারাপ বালু ব্যবহারের সুযোগ নেই। আমরা চিলমারী থেকে বালু এনে ব্যবহার করেছি। এখন মাটি পাওয়া যাচ্ছে নাতাই সোল্ডার বাধ কিছু জায়গায় করা হয়েছে । বাকি যায়গায় করা হবে। আর কার্পেটিং লুজে ৫২ মিলিমিটার ফেলা হচ্ছে। কম্প্যাকশনে ৪০ মিলিমিটারই থাকবে। কাজ তদারকীতে থাকা কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিযুক্ত কনসালটেন্ট সাইড ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুব আলী জানান, চলমান কার্পেটিং এর কাজ পরিমাপ করে নেয়া হবে ৪০ মিলিমিটারের নিচে নেয়া হবেনা। এর আগে কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ সহকারী প্রকৌশলী জহুরুল হক বলেন, কাজের মান খারাপ করার কোন অবকাশ নেই কাজের মান যেখানে খারাপ হবে তা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে ঠিককরে নেওয়া হবে। নিম্নমানের উপকরণের প্রশ্নে তিনি বলেন রেজিংয়ের ইট খারাপ ছিল তা ঠিকাদারকে বলে পরিবর্তন করে নেয়া হয়েছে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























