লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই
- আপডেট সময় : ০৭:৪৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ মে ২০২৩ ৬৩৬ বার পড়া হয়েছে
লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই। মদনমোহন তর্কালঙ্কারের কবিতার এই দুই লাইন গ্রামের হতদরিদ্র শিশুদের চেতনায় একটা অন্যরকম ম্যাসেজ ছড়িয়ে দেয়।
আজ থেকে প্রায় পৌনে ২ শত বছর পূর্বে ভারতের পশ্চিম বঙ্গের নদিয়া জেলার বিল্বগ্রামের পণ্ডিত মদনমোহন তর্কালঙ্কার ১০ লাইনের ছড়া রচনা করেছিলেন।
সেই ছড়ার ১০ লাইনের ৮ লাইন মানুষের মুখে মুখে না ছড়ালেও প্রথম ২ লাইন মুখে মুখে প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে চলে আসছে।
৮ লাইন নিয়ে আমার কোন আপত্তি নেই, বরং প্রথম দুই লাইন থেকে বেশি সেই ৮ লাইন মানুষের মুখে মুখে যদি প্রচার হতো তাহলে আমরা শূন্যলতাদের মতো পরগাছা মনোভাব সম্পন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাস এক শ্রেণীর মানুষ পেতামনা। বরং সুশিক্ষিত সুনাগরিক মানবিক চেতনা সম্পন্ন মানুষ পেতাম।
ছড়ার প্রথম দুই লাইন হচ্ছে
লেখাপড়া করে যেই
গাড়ি ঘোড়া চড়ে সেই।
এই দুই লাইন বাকি ৮ লাইনের বিপরীত দর্শন প্রচার করে। এই দুই লাইন গ্রামের হতদরিদ্র শিশুদের চেতনায় একটা অন্যরকম ম্যাসেজ ছড়িয়ে দেয়।
তারা তখন লেখাপড়া করা মানে বড় বড় চাকুরী পাওয়া, বড় বড় চাকুরী পাওয়া মানে বিশাল পরিমাণের বেতন পাওয়া। দরিদ্রতা জয় করা। সব চেয়ে বড় বিষয় কৃষক শ্রেণি থেকে এলিট শ্রেণিতে উন্নত হওয়া।
এই দুই লাইনকে অনুকরণ করে কোন কোন নিরাশাবাদী রচনা করেছেন,
লেখাপড়া করে যে গাড়ি চাপা পড়ে সে।
আরেকজন রচনা করেছেন,
লেখাপড়া করে যে অনাহারে থাকে সে।
এই অজ্ঞাত রচনাকারীদের রচনা থেকেও বের হয়ে এসেছে লেখাপড়া করার মানে হচ্ছে টাকা অর্জন করা, লেখাপড়ার মানে পার্থিব সমৃদ্ধি সফলতা।
এই ভুল তত্ত্ব প্রচারের ফলে আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাস করা বেশিরভাগ ভাগ মানুষের মন ভাইরাসে সংক্রামিত হয়ে গেছে।
লেখাপড়া যে মানুষকে মানবিক করে গড়ে আলোকিত মানুষে পরিণত করে সেই মহান চেতনা আজ আর মানুষের মধ্যে কাজ করছেনা।
এরজন্য শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা বাড়লে সুশিক্ষিত মানবিক চেতনা সম্পন্ন মানুষের সংখ্যা বাড়ছেনা। বরং নিজ শ্রেণি পেশা বিদ্বেষী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।
পেশাজীবি মানুষদের ছোট জ্ঞান করার প্রবণতা বাড়ছে।
সেই ছড়ার বাকি ৮ লাইন।
লেখাপড়া যেই জানে
সব লোক তারে মানে।
কটু ভাষী নাহি হবে
মিছা কথা নাহি কবে।
পর ধন নাহি লবে
চিরদিন সুখে রবে।
পিতামাতা গুরুজনে
সেবা কর কায় মনে
আসুন আমরা প্রথম দুই লাইনকে অনুসরণ না করে বাকি আট লাইনকে ধারণ করি।
আর পরের আট লাইন না মানার কারণে, অনেকেই রচনা করেছেন,
লেখা পড়া করে যে,
বড় চোর হয় সে।
বড় বড় টাকা গুণে,
ছোট ছোট সই করে।
বেশি বেশি মিছে বলে
টাকা নিয়ে ফাইল নাড়ে।
অন্যের টাকা দিয়ে
বড় বড় দালান তোলে।।
আমরা যদি পরের লাইন গুলো কবির কবিতার পরের লাইনগুলো ধারণ করে বড় হই। তবে কেউ কতিপয় শিক্ষিতদের নিয়ে প্যারোডি কবিতা লিখবে না।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ


























