রাস্তার বেহাল দশায় তাড়াশে মাঠের ধান ঘরে তুলতে কৃষকের চরম দুর্ভোগ
- আপডেট সময় : ০১:৩২:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ ২২০৫০ বার পড়া হয়েছে
রাস্তার বেহাল দশায় তাড়াশে মাঠের ধান ঘরে তুলতে কৃষকের চরম দুর্ভোগ
শস্য ভান্ডার খ্যাত চলনবিল অধ্যূষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও কৃষকদের মুখে হাসি নেই। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি, শ্রমিক সংকট আর যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটির বেহাল দশায় মাঠের পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন শত শত কৃষক।
কর্দমাক্ত রাস্তায় ধান পরিবহন স্থবির হয়ে পড়েছে ।
চলনবিল অঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র তাড়াশের কৃষকদের অর্থনৈতিক মেরু দন্ড এই বোরো ধান। তাই দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করে সোনালী ফসল নিরাপদে ঘরে তোলার ব্যবস্থা করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকদের।
পড়ুন>> রাজধানীর মেডিকেল কলেজে সমকামিতার অভিযোগে ৪ শিক্ষার্থীর সিট বাতিল
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মগুড়াবিনোদ ইউনিয়নের ঘরগ্রামের পশ্চিম মাঠে পুরোদমে বোরো ধান কাটা শুরু হয়েছে। কিন্তু ওই গ্রামের পশ্চিম ওয়াবদা বাঁধ হতে কাটা গাং পর্যন্ত মাঠে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটিতে পানি জমে কাঁদায় পরিণত হয়েছে। কৃষক মাথায় কিংবা ভাঁড়ে করে অতি কষ্টে বাড়িতে ধান নিয়ে আসছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তার ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ইট ফেলে সংস্কার করার চেষ্ঠা করছেন।
মাঠের ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা স্থানীয় কৃষক শাহিনুর রহমান বলেন, আমাদের বিস্তৃর্ণ মাঠের ধান বাড়িতে আনার এটাই একমাত্র রাস্তা। একটু বৃষ্টি হলেই এটি মরণফাঁদে পরিণত হয়। মাথায় করে বা ভ্যানে ধান আনা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধান পরিবহন করতে গিয়ে কৃষকদের নাভিশ্বাস উঠছে। রাস্তা খারাপ হওয়ায় ধান কাটা শ্রমিক পাওয়া যায় না। এ রাস্তা দিয়ে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমির ধান কেটে ঘরে তুলবেন কৃষক। আমরা সরকারের কাছে দ্রুত সাব-মার্সিবল রাস্তা নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।
পড়ুন>>রাজধানীর মেডিকেল কলেজে সমকামিতার অভিযোগে ৪ শিক্ষার্থীর সিট বাতিল
ধান কাটা শ্রমিক সর্দার সোলেমান আলী বলেন, রাস্তার যে অবস্থা, তাতে কাঁদার ওপর দিয়ে ধানের বোঝা টানা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এতে সময় যেমন বেশি লাগছে, শ্রমিকের কষ্টও হচ্ছে দ্বিগুণ। রাস্তাটি দ্রুত পাকাঁ করা দরকার।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেনগুপ্তা জানান, চলতি মৌসুমে তাড়াশে ২২ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ায় দ্রুত ধান ঘরে তোলা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সড়কের বেহাল দশা সম্পর্কে উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুল হক বলেন,উক্ত রাস্তাটির সমস্যার কথা আমরা অবগত আছি। কৃষকদের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সময়ের মধ্যে রাস্তাটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

























