ঢাকা ১০:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুদ্ধ-অস্থিতিশীলতায় জড়ানোর মতো সময় আমাদের নেই: তথ্যমন্ত্রী ১৭ বছরে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে: আবিদ বিশ্ব বাণিজ্যকে ফের ঔপনিবেশিক মডেলে ফেরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: রেহমান সোবহান বিশ্বের রাজনীতিতে বাড়ছে এআই ব্যবহারের প্রবণতা মাদকব্যবসায়ীর মুক্তির দাবিতে এসপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ, আটক ১০ বৈশ্বিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসন্ন: আলী রীয়াজ বিএনপি টাকা নিয়ে আ.লীগকে মিছিলের সুযোগ দিচ্ছে: এটিএম আজহারুল গাজীপুরে পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ড: ৬৭ শ্রমিক উদ্ধার আমরা এখন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে: দীনেশ ত্রিবেদী

যুদ্ধ-অস্থিতিশীলতায় জড়ানোর মতো সময় আমাদের নেই: তথ্যমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৯:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধ, নিরাপত্তা ইস্যু, ভূখণ্ড দখল বা শোষণের বিষয়ে আগ্রহী নয় বলে সাফ জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত পঞ্চম ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর একটি সেশনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়ন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, যুদ্ধ বা অস্থিতিশীল কোনো পরিস্থিতিতে জড়ানোর মতো বিলাসিতা বাংলাদেশের নেই।

বৈশ্বিক সংকট ও পরাশক্তির দ্বন্দ্ব

আলোচনার এক পর্যায়ে আন্দালিব রহমান পার্থ বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, চলমান আন্তর্জাতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংকটময় পরিস্থিতির বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। বর্তমান বৈশ্বিক সংকট যে কেবল চীনকেন্দ্রিক নয়, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন চরম নিরাপত্তা ও জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব বিশ্বের প্রতিটি দেশকেই ভোগ করতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বর্তমান দ্বন্দ্ব সহজে শেষ হওয়ার নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এর নেপথ্যে রয়েছে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার তীব্র প্রতিযোগিতা এবং ‘আমি চাই না তুমি ধনী হও’—এমন একটি সংকীর্ণ মানসিকতা। দিন শেষে এসব সংকটের ভুক্তভোগী হতে হয় সাধারণ মানুষকেই।

অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জ্বালানি নিরাপত্তা

ভারত ও চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী জানান, আশির ও নব্বইয়ের দশকে দেশ দুটির অবস্থান প্রায় সমান্তরাল ছিল। পরবর্তীতে চীন কৃষি থেকে উৎপাদনমুখী শিল্পে ঝুঁকে পড়ার কারণে দ্রুত এগিয়ে যায়, বিপরীতে ভারত সেবা খাতের দিকে মনোযোগ দেয়ায় প্রতিযোগিতায় কিছুটা পিছিয়ে পড়ে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই—এমন সব যুদ্ধের প্রভাবেও দেশের সাধারণ মানুষকে বাড়তি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশের মানুষের প্রতিদিনের মৌলিক চিন্তা খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা ঘিরেই আবর্তিত হয়। ভারত ও চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির তুলনা করে তিনি বলেন, ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে দুই দেশ প্রায় একই অবস্থানে ছিল।

তরুণ প্রজন্ম ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা

বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করে পার্থ বলেন, আমাদের জনগণের অসাধারণ সক্ষমতা রয়েছে এবং তারা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন বেগবান করতে প্রস্তুত। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ পরাশক্তিগুলো বাংলাদেশের উন্নয়নের যাত্রায় এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। শান্তি বজায় রেখে কাজ করাই দেশের সমৃদ্ধির প্রধান শর্ত।

সম্মেলনের বিস্তারিত

  • পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন আয়োজনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
  • ‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ স্লোগানে আয়োজিত এই সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা ও ৩০০ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন।
  • এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারীর মধ্যে সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন।
  • ৫ অক্টোবর এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

যুদ্ধ-অস্থিতিশীলতায় জড়ানোর মতো সময় আমাদের নেই: তথ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৯:২৯:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধ, নিরাপত্তা ইস্যু, ভূখণ্ড দখল বা শোষণের বিষয়ে আগ্রহী নয় বলে সাফ জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত পঞ্চম ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এর একটি সেশনে তিনি এমন মন্তব্য করেন। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়ন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, যুদ্ধ বা অস্থিতিশীল কোনো পরিস্থিতিতে জড়ানোর মতো বিলাসিতা বাংলাদেশের নেই।

বৈশ্বিক সংকট ও পরাশক্তির দ্বন্দ্ব

আলোচনার এক পর্যায়ে আন্দালিব রহমান পার্থ বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, চলমান আন্তর্জাতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংকটময় পরিস্থিতির বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। বর্তমান বৈশ্বিক সংকট যে কেবল চীনকেন্দ্রিক নয়, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন চরম নিরাপত্তা ও জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব বিশ্বের প্রতিটি দেশকেই ভোগ করতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বর্তমান দ্বন্দ্ব সহজে শেষ হওয়ার নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এর নেপথ্যে রয়েছে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার তীব্র প্রতিযোগিতা এবং ‘আমি চাই না তুমি ধনী হও’—এমন একটি সংকীর্ণ মানসিকতা। দিন শেষে এসব সংকটের ভুক্তভোগী হতে হয় সাধারণ মানুষকেই।

অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জ্বালানি নিরাপত্তা

ভারত ও চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী জানান, আশির ও নব্বইয়ের দশকে দেশ দুটির অবস্থান প্রায় সমান্তরাল ছিল। পরবর্তীতে চীন কৃষি থেকে উৎপাদনমুখী শিল্পে ঝুঁকে পড়ার কারণে দ্রুত এগিয়ে যায়, বিপরীতে ভারত সেবা খাতের দিকে মনোযোগ দেয়ায় প্রতিযোগিতায় কিছুটা পিছিয়ে পড়ে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই—এমন সব যুদ্ধের প্রভাবেও দেশের সাধারণ মানুষকে বাড়তি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশের মানুষের প্রতিদিনের মৌলিক চিন্তা খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা ঘিরেই আবর্তিত হয়। ভারত ও চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির তুলনা করে তিনি বলেন, ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে দুই দেশ প্রায় একই অবস্থানে ছিল।

তরুণ প্রজন্ম ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা

বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রশংসা করে পার্থ বলেন, আমাদের জনগণের অসাধারণ সক্ষমতা রয়েছে এবং তারা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন বেগবান করতে প্রস্তুত। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ পরাশক্তিগুলো বাংলাদেশের উন্নয়নের যাত্রায় এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। শান্তি বজায় রেখে কাজ করাই দেশের সমৃদ্ধির প্রধান শর্ত।

সম্মেলনের বিস্তারিত

  • পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন আয়োজনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) তিন দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
  • ‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ স্লোগানে আয়োজিত এই সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা ও ৩০০ জন প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন।
  • এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারীর মধ্যে সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত রয়েছেন।
  • ৫ অক্টোবর এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনটি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
Facebook Comments Box