ঢাকা ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সামুদ্রিক নীতির কার্যকর বাস্তবায়নে সরকারের গুরুত্বারোপ: প্রধানমন্ত্রী দেশজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জোরদার পরিচ্ছন্নতা অভিযান নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতা: ৩০ সেকেন্ডের গেরিলা কৌশলে আতঙ্ক সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে দ্বিতীয় সারির দল পাঠাবে ভারত পরিচালনায় নতুন গল্প নিয়ে ফিরছেন মোস্তাফিজুর নূর ইমরান মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাণ্ডব: দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি নাহিদের পাইকগাছা উপজেলা ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম গঠন বামনডাঙ্গায় জমকালো আয়োজনে রোমা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন ডোমারের মির্জাগঞ্জ স্টেশনে ট্রেনের যাত্রা বিরতির দাবিতে রেলপথ অবরোধ, ৫ ঘণ্টা পর চলাচল স্বাভাবিক  রাণীশংকৈলে পুলিশের জালে মাদক কারবারি ইয়াবাসহ আটক

ম্যানসিটির ১১৫টি আর্থিক অনিয়মের ১১৪টিতেই অভিযোগ প্রমাণিত

সৃষ্টি ক্রীড়া ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৫০:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ সময় ধরে চলা প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক অনিয়মের তদন্তে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আনা ১১৫টি অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিই প্রমাণিত হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

ম্যানসিটির ১১৫টি আর্থিক অনিয়মের ১১৪টিতেই অভিযোগ প্রমাণিত

ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের যে বিশাল তদন্ত চলছিল, তা এখন চরম পরিণতির দিকে। প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধি ভঙ্গের অভিযোগে ক্লাবটির বিরুদ্ধে মোট ১১৫টি অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিল।

 

 

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি, দ্য অ্যাথলেটিক ও দ্য টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি বাদে বাকি সবকটি অভিযোগই স্বাধীন কমিশনের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে। যদিও ক্লাবটি শুরু থেকেই যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে। বিবিসি, দ্য অ্যাথলেটিক ও দ্য টাইমসের মতো একাধিক সংবাদমাধ্যম শুক্রবার জানিয়েছে, স্বাধীন কমিশনের রায়ে সিটির বিরুদ্ধে আনা ১১৫ অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিই প্রমাণিত হয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটির উপর এবার নেমে আসতে যাচ্ছে বড় এক ঝড়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে। এর উত্তর এখনই নিশ্চিতভাবে দেওয়া যাচ্ছে না।

পড়ুন>>অপ্রতীম মৃত্যুর ঘটনা মামলা: তদন্ত কর্মকর্তার বড় পরিবর্তন

 

তদন্তের আওতায় থাকা এই অভিযোগগুলো ২০০৯-১০ থেকে ২০২২-২৩ মৌসুম পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ের। সবচেয়ে গুরুতর বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ক্লাবের আর্থিক হিসাবের অসংগতি। বিশেষ করে ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত স্পন্সরশিপ আয় এবং ক্লাব পরিচালনার প্রকৃত ব্যয় সম্পর্কে প্রিমিয়ার লিগকে পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি ম্যানেজারের পারিশ্রমিক, সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে লেনদেন এবং উয়েফার আর্থিক নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রেও ম্যানসিটি বিধি লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

 

পড়ুন>>দুধের পর এবার ডিম খেয়ে অসুস্থ ঠাকুরগাঁওয়ের ২০ শিক্ষার্থী

পুরো বিষয়টি এখনো গোপনীয়তার মোড়কে ঢাকা রয়েছে। প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো রায় প্রকাশ করেনি এবং মামলার গোপনীয়তা রক্ষার খাতিরে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বিপরীতে সিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া এখনো চলমান। বর্তমানে সংবাদের শিরোনামে আসা এই তথ্যই মামলার সর্বশেষ চিত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। লিগের এক মুখপাত্রও বলেছে ন, প্রক্রিয়াটি গোপন হওয়ায় তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবে না।

আরও পড়ুন>>শি জিনপিংয়ের সম্মানে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের জাঁকজমকপূর্ণ নৈশভোজ

অভিযোগ প্রমাণিত হলে ক্লাবটির সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে এখন ব্যাপক জল্পনা চলছে। এর আগে আর্থিক অনিয়মের দায়ে এভারটন ও নটিংহাম ফরেস্ট পয়েন্ট কর্তনের শাস্তি পেয়েছিল। ২০২৩-২৪ মৌসুমে এভারটনের ১০ পয়েন্ট কাটা হয়, যা পরে আপিলের মাধ্যমে ছয় পয়েন্টে নেমে আসে। নটিংহাম ফরেস্টের ক্ষেত্রে কাটা হয়েছিল চার পয়েন্ট। তবে বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, সিটির বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের সংখ্যা, ধরন এবং ব্যাপ্তি আগের এই ঘটনাগুলোর চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর ও জটিল, তাই তাদের শাস্তির মাত্রা কেমন হবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। এবার কী শাস্তি হতে পারে ম্যানসিটির। এর মধ্যে রয়েছে বড় অঙ্কের জরিমানা, পয়েন্ট কর্তন এবং অন্যান্য ক্রীড়া-সংক্রান্ত শাস্তি। একই মৌসুমে আরেকটি ঘটনায় আরও দুই পয়েন্ট কাটা হয়।

আরও পড়ুন>>রাণীশংকৈলে জামিনের ৫ দিন পর ফের ইয়াবাসহ গ্রেফতার মাদক কারবারী

ঘটনাপ্রবাহের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রিমিয়ার লিগ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিষয়টি স্বাধীন কমিশনের হাতে ন্যস্ত করে। এরপর দীর্ঘ প্রস্তুতির শেষে ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মূল শুনানি শুরু হয় এবং টানা তিন মাস কার্যক্রম শেষে ৬ ডিসেম্বর সেই শুনানি সমাপ্ত হয়। প্যানেলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকায় আইনি লড়াইয়ের এখানেই শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। আপিল বোর্ডের হাতে সিদ্ধান্ত বহাল রাখা বা পরিবর্তনের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে।

মাঠের পারফরম্যান্সে অবশ্য ক্লাবটি এসব আলোচনার বাইরে থাকতে সক্ষম হয়েছে। নতুন কোচ এনজো মারেসকার অধীনে ২০২৬-২৭ প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত শুরু করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। আন্তর্জাতিক বিরতির আগ পর্যন্ত প্রথম পাঁচ ম্যাচেই জয় পেয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তারা টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। মাঠের এই সাফল্য এবং মাঠের বাইরের আইনি লড়াই এখন সিটির বর্তমান পরিস্থিতির দুটি বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ম্যানসিটির ১১৫টি আর্থিক অনিয়মের ১১৪টিতেই অভিযোগ প্রমাণিত

আপডেট সময় : ০৭:৫০:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

ম্যানসিটির ১১৫টি আর্থিক অনিয়মের ১১৪টিতেই অভিযোগ প্রমাণিত

ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের যে বিশাল তদন্ত চলছিল, তা এখন চরম পরিণতির দিকে। প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধি ভঙ্গের অভিযোগে ক্লাবটির বিরুদ্ধে মোট ১১৫টি অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছিল।

 

 

ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি, দ্য অ্যাথলেটিক ও দ্য টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি বাদে বাকি সবকটি অভিযোগই স্বাধীন কমিশনের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে। যদিও ক্লাবটি শুরু থেকেই যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে। বিবিসি, দ্য অ্যাথলেটিক ও দ্য টাইমসের মতো একাধিক সংবাদমাধ্যম শুক্রবার জানিয়েছে, স্বাধীন কমিশনের রায়ে সিটির বিরুদ্ধে আনা ১১৫ অভিযোগের মধ্যে ১১৪টিই প্রমাণিত হয়েছে। ম্যানচেস্টার সিটির উপর এবার নেমে আসতে যাচ্ছে বড় এক ঝড়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে। এর উত্তর এখনই নিশ্চিতভাবে দেওয়া যাচ্ছে না।

পড়ুন>>অপ্রতীম মৃত্যুর ঘটনা মামলা: তদন্ত কর্মকর্তার বড় পরিবর্তন

 

তদন্তের আওতায় থাকা এই অভিযোগগুলো ২০০৯-১০ থেকে ২০২২-২৩ মৌসুম পর্যন্ত দীর্ঘ সময়ের। সবচেয়ে গুরুতর বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ক্লাবের আর্থিক হিসাবের অসংগতি। বিশেষ করে ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত স্পন্সরশিপ আয় এবং ক্লাব পরিচালনার প্রকৃত ব্যয় সম্পর্কে প্রিমিয়ার লিগকে পূর্ণাঙ্গ ও সঠিক তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর পাশাপাশি ম্যানেজারের পারিশ্রমিক, সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে লেনদেন এবং উয়েফার আর্থিক নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রেও ম্যানসিটি বিধি লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

 

পড়ুন>>দুধের পর এবার ডিম খেয়ে অসুস্থ ঠাকুরগাঁওয়ের ২০ শিক্ষার্থী

পুরো বিষয়টি এখনো গোপনীয়তার মোড়কে ঢাকা রয়েছে। প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো রায় প্রকাশ করেনি এবং মামলার গোপনীয়তা রক্ষার খাতিরে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বিপরীতে সিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া এখনো চলমান। বর্তমানে সংবাদের শিরোনামে আসা এই তথ্যই মামলার সর্বশেষ চিত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। লিগের এক মুখপাত্রও বলেছে ন, প্রক্রিয়াটি গোপন হওয়ায় তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবে না।

আরও পড়ুন>>শি জিনপিংয়ের সম্মানে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের জাঁকজমকপূর্ণ নৈশভোজ

অভিযোগ প্রমাণিত হলে ক্লাবটির সম্ভাব্য শাস্তি নিয়ে এখন ব্যাপক জল্পনা চলছে। এর আগে আর্থিক অনিয়মের দায়ে এভারটন ও নটিংহাম ফরেস্ট পয়েন্ট কর্তনের শাস্তি পেয়েছিল। ২০২৩-২৪ মৌসুমে এভারটনের ১০ পয়েন্ট কাটা হয়, যা পরে আপিলের মাধ্যমে ছয় পয়েন্টে নেমে আসে। নটিংহাম ফরেস্টের ক্ষেত্রে কাটা হয়েছিল চার পয়েন্ট। তবে বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, সিটির বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের সংখ্যা, ধরন এবং ব্যাপ্তি আগের এই ঘটনাগুলোর চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর ও জটিল, তাই তাদের শাস্তির মাত্রা কেমন হবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন। এবার কী শাস্তি হতে পারে ম্যানসিটির। এর মধ্যে রয়েছে বড় অঙ্কের জরিমানা, পয়েন্ট কর্তন এবং অন্যান্য ক্রীড়া-সংক্রান্ত শাস্তি। একই মৌসুমে আরেকটি ঘটনায় আরও দুই পয়েন্ট কাটা হয়।

আরও পড়ুন>>রাণীশংকৈলে জামিনের ৫ দিন পর ফের ইয়াবাসহ গ্রেফতার মাদক কারবারী

ঘটনাপ্রবাহের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রিমিয়ার লিগ ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিষয়টি স্বাধীন কমিশনের হাতে ন্যস্ত করে। এরপর দীর্ঘ প্রস্তুতির শেষে ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মূল শুনানি শুরু হয় এবং টানা তিন মাস কার্যক্রম শেষে ৬ ডিসেম্বর সেই শুনানি সমাপ্ত হয়। প্যানেলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ থাকায় আইনি লড়াইয়ের এখানেই শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। আপিল বোর্ডের হাতে সিদ্ধান্ত বহাল রাখা বা পরিবর্তনের পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে।

মাঠের পারফরম্যান্সে অবশ্য ক্লাবটি এসব আলোচনার বাইরে থাকতে সক্ষম হয়েছে। নতুন কোচ এনজো মারেসকার অধীনে ২০২৬-২৭ প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত শুরু করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। আন্তর্জাতিক বিরতির আগ পর্যন্ত প্রথম পাঁচ ম্যাচেই জয় পেয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তারা টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। মাঠের এই সাফল্য এবং মাঠের বাইরের আইনি লড়াই এখন সিটির বর্তমান পরিস্থিতির দুটি বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে।

Facebook Comments Box