ঢাকা ০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী জাপান: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সফটওয়্যার প্রোগ্রামার নিয়োগ: আবেদনের সুযোগ ভালুকায় সেলুন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ সুন্দরবনে দস্যুদের সাথে বন্দুকযুদ্ধ, জিম্মি থেকে ৫ জেলে উদ্ধার বকেয়া বেতনের দাবিতে চালডাল কর্মীদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান উখিয়ায় নলকূপ খননের সময় অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সেনাবাহিনী আইজিপি’র ‘ক্রসফায়ার’ সম্পর্কিত বক্তব্যের অপব্যাখ্যা অপরাধীদের উৎসাহিত করবে সৌদির রাস তানুরা তেল শোধনাগারে হামলার দাবি হুতিদের দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪০০ ছাড়াল

মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ হিসেবে নয় মানুষ হিসেবে অধিকারগুলো নিশ্চিত হোক – ড. ইউনুস

সৃষ্টি নিউজ ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৪ ৩৬২ বার পড়া হয়েছে

মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ হিসেবে নয় মানুষ হিসেবে অধিকারগুলো নিশ্চিত হোক - ড. ইউনুস

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ হিসেবে নয় মানুষ হিসেবে অধিকারগুলো নিশ্চিত হোক -ড. ইউনুস

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমাদের গণতান্ত্রিক যে আকাঙ্ক্ষা সেখানে আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে আমাদের অধিকারগুলো নিশ্চিত হোক। সমস্ত সমস্যার গোড়া হলো আমরা যত প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন করেছি, সবকিছু পচে গেছে। এ কারণে এই গোলমালগুলো হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. ইউনূস বলেন, সবার অধিকার সমান। এ দেশের মানুষ হিসেবে অধিকার আদায়ে বিভক্ত হয়ে নয়, আমরা এক মানুষ, এক অধিকার; এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করবেন না। আমাদের একটু সাহায্য করুন। ধৈর্য ধরেন, কিছু করতে পারলাম কী পারলাম না, সেটা পরে বিচার করবেন। যদি না পারি আমাদের দোষ দিয়েন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ন্যায় বিচার হলে কে বিচার পাবে না বলেন? আমি কী দেখতেছি, এটা কোন জাতের? কোন ধরনের? তা কি আইনে বলা আছে? ওই সম্প্রদায়ের হলে ওই কোর্টে যাবে, ওই সম্প্রদায় হলে ওই আদালতে যাবে? আইন একটা। কার সাধ্য আছে বিভেদ করে যে ওই রকম একটা, এ রকম একটা। এটা হতে পারে না। এটা এমন রোগ মূলে যেতে হবে। আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেটা পেলে আমরা বাকস্বাধীনতা পাব। এগুলো আছে, নতুন কিছু না। আমাদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটা হলো আমাদের মূল লক্ষ্য। আপনারা যদি টেনে টেনে নিয়ে আসেন- আমি অমুক, আমি তমুক।

এটা আবার পুরোনো খেলায় চলে গেলেন। আমাদের শিকার করার জন্য যারা বসে আছে তারা শিকার করবে। আপনারা বলুন, আপনারা মানুষ, বাংলাদেশের মানুষ। আমার সাংবিধানিক অধিকার আমাকে দিতে হবে। সব সরকারের কাছে এটাই চাইবেন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ তিনি বলেন, আপনারা ক্ষোভের মধ্যে চলে যাইয়েন না। ক্ষোভের মধ্যে গেলেই বিভিন্ন রকম মারামারি লেগে যায়। একত্রে আসেন। এক আইন। বলেন, আমাদের আইনের অধিকার দিতে হবে। আজকে যেটা বললেন যে, আইনের অধিকার পাই না। বিচার পাই না। এটাই হলো আসল জিনিস। আমরা প্রাতিষ্ঠানিক যে আয়োজন করেছি, এটা বায়াস্ট একটা আয়োজন। একটা খুঁড়তে আরম্ভ করবেন, তারপর তারা মজা পেয়ে যাবে। ওই মজার খেলাতে আমাদের নিয়ে যাবেন না।

গ্রামীণ ব্যাংকের কথা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, আমার সঙ্গে অনেকেরই পরিচয় আছে। আজকে নতুন পরিচয় নয়। আমরা যখন আমাদের গ্রামীণ ব্যাংকের কাজ শুরু করি, তখন আমরা গরিব মেয়েদের নিয়ে কাজ শুরু করি।

কেউ বলেছেন- মেয়ে মুসলমান না, যাওয়া যাবে না। আমরা বলেছি- তার টাকা দরকার আছে। টাকা দিলে দুটো মুরগি কিনবে, ডিম পাড়বে, দুটো খেতে পারবে। পাশের পাড়া হলো হিন্দুপাড়া, আপনি হিন্দুপাড়ায় যাবেন? না হিন্দুপাড়ায় কেউ যায়নি। আপনি কেন যাবেন? আমি বললাম- আমি তো হিন্দুপাড়া, মুসলমানপাড়ার জন্য আসিনি। গরিব মেয়ের জন্য এসেছি। আপনি শুনবেন না আমাদের গ্রামীণ ব্যাংকের ইতিহাসে হিন্দুপাড়া বলে বাদ দিয়ে গেছি, মুসলমানপাড়ায় গেছি। হয়নি কোনোদিন। একসঙ্গে গেছি একভাবে গেছি।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ হিসেবে নয় মানুষ হিসেবে অধিকারগুলো নিশ্চিত হোক – ড. ইউনুস

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৪

মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ হিসেবে নয় মানুষ হিসেবে অধিকারগুলো নিশ্চিত হোক -ড. ইউনুস

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমাদের গণতান্ত্রিক যে আকাঙ্ক্ষা সেখানে আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে আমাদের অধিকারগুলো নিশ্চিত হোক। সমস্ত সমস্যার গোড়া হলো আমরা যত প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন করেছি, সবকিছু পচে গেছে। এ কারণে এই গোলমালগুলো হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. ইউনূস বলেন, সবার অধিকার সমান। এ দেশের মানুষ হিসেবে অধিকার আদায়ে বিভক্ত হয়ে নয়, আমরা এক মানুষ, এক অধিকার; এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করবেন না। আমাদের একটু সাহায্য করুন। ধৈর্য ধরেন, কিছু করতে পারলাম কী পারলাম না, সেটা পরে বিচার করবেন। যদি না পারি আমাদের দোষ দিয়েন।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ন্যায় বিচার হলে কে বিচার পাবে না বলেন? আমি কী দেখতেছি, এটা কোন জাতের? কোন ধরনের? তা কি আইনে বলা আছে? ওই সম্প্রদায়ের হলে ওই কোর্টে যাবে, ওই সম্প্রদায় হলে ওই আদালতে যাবে? আইন একটা। কার সাধ্য আছে বিভেদ করে যে ওই রকম একটা, এ রকম একটা। এটা হতে পারে না। এটা এমন রোগ মূলে যেতে হবে। আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেটা পেলে আমরা বাকস্বাধীনতা পাব। এগুলো আছে, নতুন কিছু না। আমাদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটা হলো আমাদের মূল লক্ষ্য। আপনারা যদি টেনে টেনে নিয়ে আসেন- আমি অমুক, আমি তমুক।

এটা আবার পুরোনো খেলায় চলে গেলেন। আমাদের শিকার করার জন্য যারা বসে আছে তারা শিকার করবে। আপনারা বলুন, আপনারা মানুষ, বাংলাদেশের মানুষ। আমার সাংবিধানিক অধিকার আমাকে দিতে হবে। সব সরকারের কাছে এটাই চাইবেন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ তিনি বলেন, আপনারা ক্ষোভের মধ্যে চলে যাইয়েন না। ক্ষোভের মধ্যে গেলেই বিভিন্ন রকম মারামারি লেগে যায়। একত্রে আসেন। এক আইন। বলেন, আমাদের আইনের অধিকার দিতে হবে। আজকে যেটা বললেন যে, আইনের অধিকার পাই না। বিচার পাই না। এটাই হলো আসল জিনিস। আমরা প্রাতিষ্ঠানিক যে আয়োজন করেছি, এটা বায়াস্ট একটা আয়োজন। একটা খুঁড়তে আরম্ভ করবেন, তারপর তারা মজা পেয়ে যাবে। ওই মজার খেলাতে আমাদের নিয়ে যাবেন না।

গ্রামীণ ব্যাংকের কথা তুলে ধরে ড. ইউনূস বলেন, আমার সঙ্গে অনেকেরই পরিচয় আছে। আজকে নতুন পরিচয় নয়। আমরা যখন আমাদের গ্রামীণ ব্যাংকের কাজ শুরু করি, তখন আমরা গরিব মেয়েদের নিয়ে কাজ শুরু করি।

কেউ বলেছেন- মেয়ে মুসলমান না, যাওয়া যাবে না। আমরা বলেছি- তার টাকা দরকার আছে। টাকা দিলে দুটো মুরগি কিনবে, ডিম পাড়বে, দুটো খেতে পারবে। পাশের পাড়া হলো হিন্দুপাড়া, আপনি হিন্দুপাড়ায় যাবেন? না হিন্দুপাড়ায় কেউ যায়নি। আপনি কেন যাবেন? আমি বললাম- আমি তো হিন্দুপাড়া, মুসলমানপাড়ার জন্য আসিনি। গরিব মেয়ের জন্য এসেছি। আপনি শুনবেন না আমাদের গ্রামীণ ব্যাংকের ইতিহাসে হিন্দুপাড়া বলে বাদ দিয়ে গেছি, মুসলমানপাড়ায় গেছি। হয়নি কোনোদিন। একসঙ্গে গেছি একভাবে গেছি।

Facebook Comments Box