প্রবাস জীবনের অনুভূতি
- আপডেট সময় : ১০:১৮:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ নভেম্বর ২০২২ ২১৯ বার পড়া হয়েছে
প্রবাসী ভাইদের সাথে কিছু প্রবাস জীবনের কিছূ উপলব্ধি কথা বলতে চেষ্টা করবো। সেটা হয়তো অনেকের ভালো না লাগতেও পারে।তবে এটাই সঠিক ও সত্যি কথা। আমরা সবাই আত্মীয় পরিজন ছেড়ে অন্য কোন এক দেশে এসেছি। এখানে সবার একটি পরিচয়।স্বদেশী ভাই বা বন্ধু। একে অপরের আনন্দ ও কষ্টের অংশীদার ও সাহায্যকারী।
এই প্রবাস জীবনে আমরা বাংলাদেশ থেকে বেশিরভাগই অদক্ষ শ্রমিক হিসেবে আসি। মানুষই আসি সাধারন কর্মী হিসেবে। এখানে এসে পরিশ্রম করে অথবা শিক্ষার সুযোগ পেয়ে নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারি।তবে শতকরা ৮০% মানুষের পরিবর্তন হয়না।সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে আমরাও অনেক মানুষ পরিবর্তন হয়ে যাই, ভুলে যাই আমাদের অতীত
তারা যতোদিন প্রবেশে থাকে ঐ কাজ করেই জীবন অতিবাহিত করতে হয়।কেউ কেউ আবার মামা,খালু,অথবা অন্য সুযোগ ব্যাবহার করে উপরে উঠার শিড়ি পেয়ে যায়।
কেউ কেউ ফোরম্যান হয়ে যায় কেউ সুপারভাইজার হয়,কেউ সেফটি হয়।আর তখনই ৭০% মানুষ ভুলে যায় তারও একদিন এমন সাধারণ কর্মী ছিল।
কারণে অকারণে ঐ সাধারণ কর্মীদের সাথে খুব বাজে আচরণ করে।
তবে কেন সাধারন কর্মীগুলো সেফটি ও সুপারভাইজারদের ঘৃণা করে।৮০% এই দায়িত্বকারি লোকগুলো সহকর্মীদের সাথে খুব বাজে আচরণ করে।
কিছু হলেই গালাগালি করে জরিমানা করে, বসের কাছে নিয়ে ওয়ারনিং দেয়।আরো অনেক কিছু।
একদিন আমার একজন সহকর্মী কাজ করার সময় এক্সিডেন্ট করে আমি সেখানে তার সাথে কাজ করছিলাম।হঠাৎ করে পাইপটা ঘুরে এসে হাতে লেগে গিয়ে সাথে সাথে আঙুল কেটে গেল।
আমি তাকে নিয়ে সেফটি রিপোর্ট করতে গেলাম। আর সেফটি অমানবিক ভাবে সেফটি রেগে যান। বলেন কি ভাবে তোমরা কাজ কর? এক্সিডেন্ট হয় কেন? এগুলো সব বেখেয়ালি কাজ করার জন্য হয়।
অনেকেই বাজে ভাবে বলে বাংলাদেশের মানুষ গুলো কেন এতো এক্সিডেন্ট হয়। আমি তাকে সোজা বলে দিলাম। যে আপনি এখন ওই চেয়ার থেকে উঠে গিয়ে ৩-৪ দিন কাজ করে আসুন। শিপের মধ্যে দেখবেন আপনি নিজেই এক্সিডেন্ট হয়ে আসবেন।এখানে চেয়ারে বসে থেকে কেউ এক্সিডেন্ট হয়না।
আমি আপনার কাজ করি আর আপনি আমার জায়গাতে যান তবেই বুঝতে পারবেন। কেন হয় এক্সিডেন্ট।এটা বলতেই সে আমার উপর রেগে গেল।
তার সাথে বেশি কথা না বলে আমার সহকর্মীকে নিয়ে হাসপাতালে চলে গেলাম।হাতের আঙুলে ১০টা সেলাই দিতে হলো।
আসলেই কিছু মানুষের অমানুষিক আচরণের কারণে। বহু মানুষের কাছে ঐ সুপারভাইজার ও সেফটি অফিসার গুলো ঘৃণার পাএ হয়ে গেছে।
মাঝে মাঝেই আমি দেখতে পাই কিছু প্রবাসী ভাই পোস্ট করে সুপারভাইজার, সেফটি ও অমানুষ,
ঘৃণা করে। তবে ভাই একটা কথা বলি আসলেই সবাই খারাপ নয়। কিছু কিছু মানুষ এখনো ভালো আছে।
সব সময় ভাই বন্ধুর মতো আচরণ করে।
সেই সুপারভাইজার গুলো কোম্পানির কাছে ভালো হতে পারেনা।তবে সহকর্মীরা খুব ভালোবাসে।
আমরা চাইলেই পারি সব কিছু পরিবর্তন করতে।
মিলেমিশে থাকতে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে সবার ভালো মন্দ জিজ্ঞেস করতে।এতে সম্মান কমেনা আরো বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ পাক তার সম্মান আরো বাড়িয়ে দেয়।
আসুন আমরা বাংলাদেশীরা একে অপরের সাথে ভালো আচরণ করি।
আমার প্রাণ প্রিয় সকল প্রবাসী ভাইয়েরা, সবাইকে সালাম। আসসালামু আলাইকুম। আমরা বাংলাদেশী সহযোগিতাও ও সহমর্মিতায় মিলে মিশে যেন থাকতে পারি।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























