পুলিশের কাজে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৫:৪৪:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
পুলিশের কাজে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখতে চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
পুলিশ বাহিনীর দায়িত্ব পালনের ধরনে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়ে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত পুলিশ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এই নির্দেশনা দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগেই পুলিশ বাহিনীকে তাদের কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি প্রদর্শন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাহিনীর জন্য ‘পুরস্কার ও শাস্তি’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পদক দেওয়া হবে, তবে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, শৃঙ্খলাভঙ্গ বা যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে না।
পড়ুন>>মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর ও লুটপাট: গ্রেপ্তার ৪
এক্ষেত্রে বিভাগীয় শাস্তির পাশাপাশি ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে নিয়মিত মামলা ও বিচার প্রক্রিয়া চলবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সাইবার স্পেসকে কেন্দ্র করে অপরাধের প্রবণতা বাড়ছে।
পুলিশের অতীত রাজনৈতিক ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অতীতে অনেক সদস্যকে অবৈধ নির্দেশে কাজ করতে বাধ্য করা হলেও এখন সেই পরিস্থিতি নেই। বর্তমান সরকার পুলিশকে আইন অনুযায়ী স্বাধীনভাবে কাজ করার পূর্ণ সুযোগ দিচ্ছে।
পড়ুন>>ইমরানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের লংমার্চ পেছাল ৪ অক্টোবর
তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে স্পষ্ট করে বলেন, সাধারণ মানুষ এখন একটি ‘জনগণের পুলিশ’ দেখতে চায়। তাই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের আচরণ হতে হবে গণতান্ত্রিক এবং অধস্তন সদস্যদের এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না যা সমাজে অস্বস্তি বা অশান্তি সৃষ্টি করে। কোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এমন আচরণ করবেন না, যা সাধারণ মানুষের কাছে অস্বাভাবিক বা অগণতান্ত্রিক মনে হয়।
সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সততা ও দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করলে পুলিশ সমাজ পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিতে পারে। তবে দায়িত্ব পালনে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না দেখাতে পারলে কিংবা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে। কেউ ভুল করলে তাকে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে, কিন্তু অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর আইন প্রয়োগের পথই বেছে নেওয়া হবে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তৈরি হওয়া পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে পুলিশকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আরও পড়ুন>>ট্রাম্পের আমন্ত্রণে নিউইয়র্কে বিশ্বনেতাদের বৈঠকে কাতারের আমীর
আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহেই একটি পৃথক ‘সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট’ গঠন করা হচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নতুন এই ইউনিটের সদর দপ্তরসহ মেট্রোপলিটন, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে শাখা থাকবে। সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি, ফরেনসিক ল্যাব ও উন্নত লজিস্টিক সুবিধা যুক্ত করা হবে। বাহিনীর জনবল ও অবকাঠামো বাড়ানোর পাশাপাশি পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিটগুলোকে নতুন কাঠামোর আওতায় এনে আরও কার্যকর করার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। তাই আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরি।
তিনি আরও জানান, দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির অপচেষ্টা রুখতে গোয়েন্দা সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির উপস্থিত ছিলেন এবং ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন স্তরের পুলিশ সদস্যদের পদক প্রদান করা হয়। দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে এমন ব্যক্তিদের বিষয়ে গোয়েন্দা সক্ষমতা কাজে লাগানোর নির্দেশও দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























