নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতা: ৩০ সেকেন্ডের গেরিলা কৌশলে আতঙ্ক
- আপডেট সময় : ০৮:৩৮:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নতুন কৌশলে নাশকতার ছক কষছে। অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় তারা সংঘবদ্ধ হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, এসব ঘটনাকে তারা ‘টেস্ট কেস’ হিসেবে ব্যবহার করছে, যাতে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের নাশকতা ঘটানো যায়। ইতিমধ্যে ঢাকা ও এর বাইরের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল এবং ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনার আলামত পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় দলটির অনেক নেতাকর্মী গ্রেপ্তারও হয়েছে।
গত শনিবার দুপুরের ঘটনাটি এই নতুন কৌশলের বড় উদাহরণ। দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর রোডের বাটা শোরুমের সামনে প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ জড়ো হয়। তারা পলাতক সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের ছবি সম্বলিত ব্যানার নিয়ে ১০ সেকেন্ড ধরে স্লোগান দেয়। এরপর মুহূর্তের মধ্যে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং ৩০ সেকেন্ডের মাথায় গলির ভেতর আত্মগোপন করে। পুরো কর্মকাণ্ডটি ভিডিও করা হয় এবং এর সঙ্গে জড়িত চারজনকে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয়েছে। গোয়েন্দাদের ভাষ্যমতে, এই ৩০ সেকেন্ডের মিশনই এখন তাদের প্রধান গেরিলা কৌশল। ভিডিওগুলো ধারণ করে বিদেশের টেলিগ্রাম গ্রুপে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেটি মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে আরেকজন। পরে ওই নেতাকর্মীরা ৩০ সেকেন্ডেই গলির ভেতর হাওয়া। প্রথম ১০ সেকেন্ডে একটি গলি বা মার্কেটের ভেতর কিছু যুবক ব্যানার নিয়ে বের হয়ে রাস্তায় জড়ো হয়। এই ভিডিও ধারণের জন্য আগে থেকেই একজনকে দায়িত্ব দেয়া থাকে। শেষ ১০ সেকেন্ডে তারা ব্যানার ফেলে তিনদিকে দৌড়ে অলি-গলিতে উধাও হয়ে যায়। এলাকাবাসী কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা গায়েব হয়ে যায়। পরে সেই ১০ সেকেন্ডের ভিডিওটি টেলিগ্রামের একটি গোপন গ্রুপে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
নাশকতার এই প্রবণতা গত এক সপ্তাহে বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট ফটক, শিল্পকলা একাডেমি, যাত্রাবাড়ী, মালিবাগ, আগারগাঁও, মহাখালী, নিউমার্কেট, বাবুবাজার, কমলাপুর স্টেশন, মগবাজার, মৎস্য ভবন, রামপুরা বিটিভি ভবন, কাফরুল, মিরপুর-১১, বাড্ডা ও পল্লবী এলাকায় অন্তত ৩২টি ককটেল বিস্ফোরণ ও ৯টি বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া কমলাপুরে ট্রেনে আগুন দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ৯ হাজার মুখোশসহ বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির রায় ঘোষণার পর থেকে এই তৎপরতা আরও বেড়েছে।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির নেতাকর্মীরা তিনটি স্তরে বিভক্ত হয়ে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থান করছে। প্রথম স্তরে মেস বা ছাত্রাবাসে ছাত্র ও চাকরিপ্রত্যাশীর ছদ্মবেশে অবস্থান করছে তৃণমূল কর্মীরা, যারা প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পারিশ্রমিক পায়। দ্বিতীয় স্তরে মাঝারি সারির নেতা ও সাবেক কাউন্সিলররা স্বামী-স্ত্রী বা ব্যাচেলর পরিচয় দিয়ে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে পরিকল্পনা করছে। তৃতীয় ও সুরক্ষিত স্তরটি হোটেল ও লাক্সারি ফ্ল্যাটের, যেখানে অর্থদাতা ও শীর্ষ সমন্বয়কারীরা ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ভিডিও পাঠিয়ে প্রতিবার ৩ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিকাশে লেনদেনের তথ্যও মিলেছে।
এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পেছনে অন্তত ৩০-৪০ জন ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও ব্যাংক খাতের সুবিধাভোগীদের অর্থায়নের তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর থাকলেও কিছু জায়গায় অপারেশনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ কানেকশনের অভিযোগ ওঠায় তাদের বদলি করা হয়েছে। পুলিশের ঘন ঘন বদলিকেও মাঠ পর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে সীমাবদ্ধতার কারণ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে গত এক সপ্তাহে ডিএমপি কয়েকশ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে জাসদ অফিস থেকে আটক হওয়া ব্যক্তিদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
বিদেশ থেকে টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন এনক্রিপ্টেড অ্যাপে পলাতক নেতারা কর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছে বলে জানা গেছে। যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণকারী রায়হান উদ্দিন জানিয়েছে, তাকে নির্দেশ দিয়েছেন মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সম্পাদক সাব্বির হোসেন। মতিঝিল থানা ছাত্রলীগের সাকিব ওরফে আসিফ জানিয়েছে, তাকে নির্দেশনা দিয়েছেন মিরাজ বিশ্বাস। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন পলাতক অর্ধশত কেন্দ্রীয় নেতা ও অর্থদাতাদের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে এবং ডিবির প্রতিটি বিভাগকে সুনির্দিষ্ট তালিকার ভিত্তিতে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: মানবজমিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ
























