নাহিদ ইসলাম: শ্রমিক আন্দোলনে যদি ফ্যাসিস্টদের অনুপ্রবেশ ঘটে, এর দায়ভার সরকারের
- আপডেট সময় : ০৭:৪৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির চলমান আন্দোলনকে যৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেছেন, সঠিক সময়ে সঠিক পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে না পারায় শ্রমিক আন্দোলন বর্তমানে বড় আকার ধারণ করেছে। যদি এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ফ্যাসিস্ট কোনো গোষ্ঠীর অনুপ্রবেশ ঘটে থাকে, তবে এর সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব বর্তমান সরকারকেই বহন করতে হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজিত দলীয় কর্মী সভা ও সুধী সমাবেশে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। নাহিদ ইসলাম জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরেই পোশাক খাতে এমন আন্দোলনের সম্ভাবনা আঁচ করা যাচ্ছিল। শ্রমিকের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হলে পরিস্থিতি হয়তো ভিন্ন হতে পারত। কোনো ন্যায্য আন্দোলনকে ‘ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো গোষ্ঠী অনুপ্রবেশ করে নৈরাজ্য চালালে তা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর চরম ব্যর্থতা। সরকারের নজর বিরোধী দলের ওপর থাকলেও দেশের প্রকৃত শত্রুদের প্রতি তাদের কোনো খেয়াল নেই। শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারের আগেভাগেই মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা উচিত ছিল। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিরোধী দল কে কোথায় যাচ্ছে, বসছে, কী করছে তা নজরদারিতে ব্যস্ত, কিন্তু দেশের শত্রুরা কী করছে, সে বিষয়ে তাদের কোনো খোঁজ নেই।’। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কীভাবে আন্দোলন সমঝোতার মাধ্যমে নিরসন করা হয়েছে, তা সবাই দেখেছে।
বিএনপির তীব্র সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক অভিযোগ করেন, সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও তাঁদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিএনপির আশ্রয়ে রাখা হয়েছে। বিএনপি তাদের জায়গা করে দিচ্ছে বলেই আওয়ামী লীগ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে; তাই এই দায়ও বিএনপিকেই নিতে হবে। গত আট মাসে সরকার পরিচালনায় বিএনপি পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের দক্ষতার অভাব রয়েছে। তিনি আরও বলেন, জনগণের ওপর সরকারের আস্থা না থাকার কারণেই আন্দোলন প্রশমিত হচ্ছে না।
রাজনৈতিক কৌশলের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম জানান, ১১-দলীয় জোট সংসদীয় পর্যায়ে অক্ষুণ্ন থাকলেও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি স্বতন্ত্রভাবে একক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। দলকে সেই লক্ষ্যে প্রস্তুত করতে সারা দেশে আঞ্চলিক সমাবেশ করা হচ্ছে। ডিসেম্বরে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং আওয়ামী লীগের অপপ্রচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের ‘নতজানু’ পররাষ্ট্রনীতির কারণে চুক্তি নবায়ন করা যাচ্ছে না, উল্টো ভারতকে করিডোর দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। ডিসেম্বরের সময়টা ১৯৭১ সালের মতোই জনগণের দখলে থাকবে এবং সব অপপ্রচার রাজপথে প্রতিহত করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। ১৯৭১ সালের মতো ডিসেম্বর সব সময় জনগণেরই থাকবে।
উল্লেখ্য, এই কর্মী সভায় এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মুস্তাফিজ, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তির আহ্বায়ক মাহিন সরকারসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: প্রথম আলো
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























