ঢাকা ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হাভানার পাশে চীন, ট্রাম্পের ‘কিউবা ভেঙে পড়বে’ মন্তব্যের পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৭ শিক্ষক নিয়োগ: বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ কাতারে বিশেষ গাড়ির নম্বর প্লেট নিলাম: জেনে নিন নিয়ম বগুড়ায় কিস্তির ৫ লাখ টাকা সম্পদ সংক্রান্ত ঘটনায়, ম্যানেজার বিচারকের আসনে রুহানী সালসাবিল, স্মৃতির পাতায় ফিরে দেখা ঠাকুরগাঁও শহরের পৌর ড্রেনে মিলল ভ্রূণের মরদেহ, এলাকায় চাঞ্চল্য ঠাকুরগাঁওয়ে ধর্ষণ মামলা নিয়ে নাটকীয় মোড়: তদন্তে মিথ্যা প্রমাণ, জামিন নামঞ্জুর করে বাদী কারাগারে সোনারায়ে ডি বি স্পোর্টিং ফুটবল টুর্নামেন্টের ষষ্ঠ আসর: জমকালো আয়োজনে উত্তর খেলা অনুষ্ঠিত আকাশসীমা জটিলতায় আটকে রূপপুরের জ্বালানি, নতুন রুটের অপেক্ষায় দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ২৩৩ জন

নওগাঁয় নকল মৎস ঔষধ কারখানা সিলগালা

নওগাঁ থেকে আবুজার গাফফারী
  • আপডেট সময় : ১০:০৩:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩৮৯৭ বার পড়া হয়েছে

নওগাঁয় আটককৃত নকল মৎস ঔষধ তৈরির কাঁচামাল।

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

নওগাঁয় নকল মৎস ঔষধ কারখানা সিলগালা

 

 

   নওগাঁয় নকল মৎস্য ঔষধ তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে ঔষধ তৈরির উপকরণসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি সিলগালা করা হয়েছে নকল ঔষধ তৈরির ওই কারখানা।

 

অভিযানে ঔষধ তৈরির উপকরণ সহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি সিলগালা করা হয়েছে নকল ঔষধ তৈরির ওই কারখানা। তবে অভিযানের সময় কারখানার সাথে সম্পৃক্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। ঐ গোডাউনের মালিকের উপস্থিতিতে তালা ভেঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

 

রোববার (৭ডিসেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার ডাক্তারের মোড় নামক স্থানে ঘন্টা ব্যাপী এই অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নওশাদ হাসান।

 

 

জানা যায়, মোস্তাফিজুর রহমান ও আব্দুর রহিম নামের দুই ব্যক্তি সংশ্লিষ্টদের অনুমোদন ছাড়াই গড়ে তুলেছিলেন নকল মৎস্য ঔষধ তৈরির কারখানা। সেখানে এভেটা, নাভারা, বাজাজ গ্রুপ, গ্ল্যাক্সো এগ্রোভেট কোম্পানির নাম ও মোড়ক ব্যবহার করে চালিয়ে যাচ্ছিলেন নকল মৎস্য ঔষধ তৈরির কাজ। ভুয়া ঔষধ তৈরি হলেও ছিল না কোনো যথাযত পদক্ষেপ।

পড়ুন>> কাউনিয়া নবাগত ইউএনও এর সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

 

মোস্তাফিজুর নওগাঁ সদর উপজেলার ডাক্তারের মোড় সংলগ্ন সামসুদ্দীনের নর্থ বেঙ্গল গ্রেইন ইন্ডাস্ট্রিজ লি: অটোরাইস মিলের কাছে মেইন রোড সংলগ্ন একটি গোডাউন ঘর ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন প্রকার মাছের ঔষধ তৈরি করছিলেন। ছিল না কোনো সাইনবোর্ড, বাইরের গেটে তালা দিয়ে ভিতরে চলছিল এসব অপকর্ম। বাইরে থেকে দেখলে পরিত্যক্ত গোডউন ছাড়া আর কিছু মনে হবেনা।

 

 

 

গোডাউন ঘরের ভেতর শিশুসহ বেশ কয়েকজন কন্টিনার, বস্তার প্যাকেট থেকে ভিন্ন মেডিসিনের সংমিশ্রন তৈরি করছেন। সেখানে নানান পন্যর মোড়ক ও খালি সাদা বোতল রয়েছে। বড়বড় নীল রঙের কন্টিনার ও বিভিন্ন মেডিসিনের বস্তা থেকে ড্রামে ঢালা হচ্ছে এসব মেডিসিন তারপর মিশ্রন ভালোভাবে গুলিয়ে কাকের সাহায্যে ছোট ছোট বোতলে ঢেলে লেভেল লাগিয়ে তা বাজারে ছাড়া হচ্ছিল।

 

 

 

ফলে এসব ভেজাল ঔষধ বাজারজাত করায় গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল আসল গ্ল্যাক্সো কোম্পানির বাজারজাত করা ঔষধের। দিন দিন নষ্ট হচ্ছিল তাদের সুনাম। অপরদিকে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিলেন বিভিন্ন মৎস্য চাষিরা।

 

 

 

বিষয়টি গণমাধ্যমে জানাজানি হলে গ্ল্যাক্সো এগ্রোভেটের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

 

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো: বায়েজিদ আলম, গ্ল‍্যাক্সো এগ্রোভেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম আহমেদ। সহযোগিতা করেন সদর থানার পুলিশ সদস্যরা।

পড়ুন>>জুলাই আন্দোলনের শহীদ অজ্ঞাত ১১৪ জনের শহীদের মরদেহ উত্তোলন

 

নওগাঁ সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো: বায়েজিদ আলম বলেন- আমরা গোপন সংবাদে জানতে পারি নওগাঁয় বিশেষ কায়দায় একটি কোম্পানির মোড়ক নকল করে ভুয়া মেডিসিন তৈরি হচ্ছে। সেই সূত্র ধরে আমরা উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের পরামর্শে ভ্রাম্যমান পরিচালনা করি তাতে সত্যতা পাওয়া যায়। আমরা আইন অনুযায়ী সকল পদক্ষেপ গ্রহন করেছি।

 

 

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নওশাদ হাসান বলেন, এখানে বিভিন্ন কোম্পানির মোড়ক ব্যবহার করে অবৈধভাবে নকল মৎস্য ঔষধ তৈরি করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা এখানে আসি। যার সত্যতা পাওয়া যায়। নকল ঔষধ তৈরির বিভিন্ন উপকরণসহ অনেক মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

 

 

এছাড়া কিছু মালামাল ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এর সাথে সম্পৃক্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে এর সাথে যারা সম্পৃক্ত আছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

এদিকে মোবাইল কোর্টের এই অভিযানে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন গ্ল্যাক্সো এগ্রোভেট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম আহমেদ। তিনি বলেন, আমরা গোপন খবরে জানতে পারি আমাদের কোম্পানির মোড়ক ব্যবহার করে তারা নকল ঔষধ তৈরি করছিল। জানি না তারা কতোদিন থেকে নকল ঔষধ তৈরির এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। তাদের কারণে আমাদের কোম্পানির সুনাম নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল।

 

 

বিভিন্ন জায়গায় থেকে প্রোডাক্টের গুণগত মান নিয়ে অভিযোগ আসছিল। আমরা কোনো সমাধান পাচ্ছিলাম না। আজ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সেটার সমাধান হলো।

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নওগাঁয় নকল মৎস ঔষধ কারখানা সিলগালা

আপডেট সময় : ১০:০৩:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫

 

 

নওগাঁয় নকল মৎস ঔষধ কারখানা সিলগালা

 

 

   নওগাঁয় নকল মৎস্য ঔষধ তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে ঔষধ তৈরির উপকরণসহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি সিলগালা করা হয়েছে নকল ঔষধ তৈরির ওই কারখানা।

 

অভিযানে ঔষধ তৈরির উপকরণ সহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি সিলগালা করা হয়েছে নকল ঔষধ তৈরির ওই কারখানা। তবে অভিযানের সময় কারখানার সাথে সম্পৃক্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। ঐ গোডাউনের মালিকের উপস্থিতিতে তালা ভেঙ্গে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

 

রোববার (৭ডিসেম্বর) বিকেলে সদর উপজেলার ডাক্তারের মোড় নামক স্থানে ঘন্টা ব্যাপী এই অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নওশাদ হাসান।

 

 

জানা যায়, মোস্তাফিজুর রহমান ও আব্দুর রহিম নামের দুই ব্যক্তি সংশ্লিষ্টদের অনুমোদন ছাড়াই গড়ে তুলেছিলেন নকল মৎস্য ঔষধ তৈরির কারখানা। সেখানে এভেটা, নাভারা, বাজাজ গ্রুপ, গ্ল্যাক্সো এগ্রোভেট কোম্পানির নাম ও মোড়ক ব্যবহার করে চালিয়ে যাচ্ছিলেন নকল মৎস্য ঔষধ তৈরির কাজ। ভুয়া ঔষধ তৈরি হলেও ছিল না কোনো যথাযত পদক্ষেপ।

পড়ুন>> কাউনিয়া নবাগত ইউএনও এর সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

 

মোস্তাফিজুর নওগাঁ সদর উপজেলার ডাক্তারের মোড় সংলগ্ন সামসুদ্দীনের নর্থ বেঙ্গল গ্রেইন ইন্ডাস্ট্রিজ লি: অটোরাইস মিলের কাছে মেইন রোড সংলগ্ন একটি গোডাউন ঘর ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন প্রকার মাছের ঔষধ তৈরি করছিলেন। ছিল না কোনো সাইনবোর্ড, বাইরের গেটে তালা দিয়ে ভিতরে চলছিল এসব অপকর্ম। বাইরে থেকে দেখলে পরিত্যক্ত গোডউন ছাড়া আর কিছু মনে হবেনা।

 

 

 

গোডাউন ঘরের ভেতর শিশুসহ বেশ কয়েকজন কন্টিনার, বস্তার প্যাকেট থেকে ভিন্ন মেডিসিনের সংমিশ্রন তৈরি করছেন। সেখানে নানান পন্যর মোড়ক ও খালি সাদা বোতল রয়েছে। বড়বড় নীল রঙের কন্টিনার ও বিভিন্ন মেডিসিনের বস্তা থেকে ড্রামে ঢালা হচ্ছে এসব মেডিসিন তারপর মিশ্রন ভালোভাবে গুলিয়ে কাকের সাহায্যে ছোট ছোট বোতলে ঢেলে লেভেল লাগিয়ে তা বাজারে ছাড়া হচ্ছিল।

 

 

 

ফলে এসব ভেজাল ঔষধ বাজারজাত করায় গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল আসল গ্ল্যাক্সো কোম্পানির বাজারজাত করা ঔষধের। দিন দিন নষ্ট হচ্ছিল তাদের সুনাম। অপরদিকে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছিলেন বিভিন্ন মৎস্য চাষিরা।

 

 

 

বিষয়টি গণমাধ্যমে জানাজানি হলে গ্ল্যাক্সো এগ্রোভেটের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এদিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

 

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো: বায়েজিদ আলম, গ্ল‍্যাক্সো এগ্রোভেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম আহমেদ। সহযোগিতা করেন সদর থানার পুলিশ সদস্যরা।

পড়ুন>>জুলাই আন্দোলনের শহীদ অজ্ঞাত ১১৪ জনের শহীদের মরদেহ উত্তোলন

 

নওগাঁ সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো: বায়েজিদ আলম বলেন- আমরা গোপন সংবাদে জানতে পারি নওগাঁয় বিশেষ কায়দায় একটি কোম্পানির মোড়ক নকল করে ভুয়া মেডিসিন তৈরি হচ্ছে। সেই সূত্র ধরে আমরা উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের পরামর্শে ভ্রাম্যমান পরিচালনা করি তাতে সত্যতা পাওয়া যায়। আমরা আইন অনুযায়ী সকল পদক্ষেপ গ্রহন করেছি।

 

 

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নওশাদ হাসান বলেন, এখানে বিভিন্ন কোম্পানির মোড়ক ব্যবহার করে অবৈধভাবে নকল মৎস্য ঔষধ তৈরি করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা এখানে আসি। যার সত্যতা পাওয়া যায়। নকল ঔষধ তৈরির বিভিন্ন উপকরণসহ অনেক মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

 

 

এছাড়া কিছু মালামাল ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এর সাথে সম্পৃক্ত কাউকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে এর সাথে যারা সম্পৃক্ত আছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

এদিকে মোবাইল কোর্টের এই অভিযানে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন গ্ল্যাক্সো এগ্রোভেট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম আহমেদ। তিনি বলেন, আমরা গোপন খবরে জানতে পারি আমাদের কোম্পানির মোড়ক ব্যবহার করে তারা নকল ঔষধ তৈরি করছিল। জানি না তারা কতোদিন থেকে নকল ঔষধ তৈরির এই কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। তাদের কারণে আমাদের কোম্পানির সুনাম নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল।

 

 

বিভিন্ন জায়গায় থেকে প্রোডাক্টের গুণগত মান নিয়ে অভিযোগ আসছিল। আমরা কোনো সমাধান পাচ্ছিলাম না। আজ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সেটার সমাধান হলো।

 

 

 

Facebook Comments Box