ঢাকা ০৬:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে আড়াই বছরেও প্রভাত হয় না এলজিইডি’র প্রভাতী প্রকল্পের সড়ক নির্মাণ

সাইয়‍্যেদ বাবু সৃষ্টি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:১৯:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৯৯ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামে আড়াই বছরেও প্রভাত হয় না এলজিইডি'র প্রভাতী প্রকল্পের সড়ক নির্মাণ

আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুড়িগ্রামে আড়াই বছরেও প্রভাত হয় না এলজিইডি’র প্রভাতী প্রকল্পের সড়ক নির্মাণ কাজের।

২ বছর থেকে বন্ধ হয়ে আছে এলজিইডি’র প্রভাতি প্রকল্পের সড়ক নির্মাণ কাজ। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করার নির্দেশনা থাকলেও তা মানছে কাজ বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় কাজের সময়সীমা বৃদ্ধি করে কাজ সমাপ্ত না করায় দূর্ভোগ বেড়েছে স্থানীয়দের ।

ঠিকাদারী ওই প্রতিষ্ঠানের গাফলতির কারণে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এলজিইডির প্রভাতী প্রকল্প আদৌ প্রভাতের মুখ দেখবে কিনা তা নিয়ে সংশয় সচেতন মহলের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের ভেলুরহাট বাজার হতে পূর্বদিকে আনোয়ার মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত ১০০০ মিটার রাস্তা নির্মাণের কার্যাদেশ পায় চট্টগ্রামস্থ মোহাম্মদ ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স প্রাইভেড লিমিটেড নামীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

কাজটির প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ১ কোটি টাকা। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা এলজিইডি দপ্তর গত ২০২১ সালের ২৪ জুনে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। একই বছরের ২২ অক্টোবর কাজ সমাপ্তির সময়সীমা বেঁধে দেয় সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

কিন্তু উক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালে কাজ শুরু না করে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে নামমাত্র (বক্স) রাস্তার মাঝ অংশের মাটি খুঁড়ে রাখে। পরে এলাকাবাসীর চাপে মাত্র ৪০০ মিটার জায়গায় ইটের খোয়া ফেলে রেখে বাকী ৬০০ মিটারে মাটি খোড়া অবস্থায় রাখে।

বর্ষা মৌসুম আসায় খননকৃত রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। এতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে কাঁচা সড়কটি। প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। দীর্ঘ আড়াই বছরে কাজের অগ্রগতি মাত্র ২০ ভাগ সম্পন্ন হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। যথাসময়ে কাজটি সম্পন্ন না হওয়ায় এলজিইডি কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করছেন এখানকার মানুষজন।

ভেলুরহাট এলাকার সাইফুর মিয়া বলেন, এলজিইডি অচল ও অযোগ্য ঠিকাদারকে কাজ দেয়ায় কাজ সমাপ্ত করতে পাচ্ছে না। বছরের পর বছর রাস্তা খুঁড়ে রাখায় আমরা এলাকাবাসী মহাবিপদে পড়ে আছি।

যানবাহন এবং অসুস্থ রোগী ওই রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। কবে এই রাস্তার কাজ শেষ হবে সেটাও ওই ঠিকাদার বলে না।

একই এলাকার মুদি দোকানদার রফিকুল হক বলেন, রাস্তা খোঁড়ার ১ বছর হলো। তবু রাস্তা ঠিক হয় না। হামার আগের রাস্তা কাঁচা হলেও অনেক ভালো ছিল। কিসের নতুন রাস্তা করতে যেয়ে এখন আর রাস্তা দিয়ে সাইকেল, মটর সাইকেল ও এ্যাম্বুলেন্স কোনটাই যেতে পারে না।

প্রতিদিনে মানুষ এক্সিডেন্ট করতেছে। আহত হচ্ছে। এলজিইডি যাতে রাস্তাটি দ্রুত নির্মাণ করে এজন্য আমরা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যববহার করে কুড়িগ্রামের কে বা কাহারা কাজ নিয়েছে আমি জানি না। সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ করতে অনেক সময় ১০-১৫ বছর পর্যন্ত সময় লাগতেই পারে।

এমন অনেক রেকর্ড আছে। এটা নিয়ে নিউজ করতে সাংবাদিকদের এতো আগ্রহ কেন? একথা বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

কুড়িগ্রাম এলজিইডির প্রভাতী প্রকল্পের নিয়োজিত উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রাশেদুন্নবী বলেন, আমরা চাই কাজটি দ্রুত বাস্তবায়ন হোক। কাজটি কি কারণে স্থগিত করে রাখা হয়েছে এজন্য আগামী রোববার তাদেরকে তলব করা হয়েছে। উপযুক্ত জবাব না পেলে তাদের সাথে চুক্তি বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে।

কুড়িগ্রাম এলজিইডির’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, আমি নতুন এসেছি। অল্প কিছুদিন হলো যোগদানের। আমি খোঁজখবর নিয়ে যদি সত্যতা পাই তাহলে উক্ত ঠিকাদারের সাথে চুক্তি বাতিলের চিঠি ইস্যু করে নতুন ঠিকাদারকে নিয়োগ করে কাজটি সম্পন্ন করব। উন্নয়ন কাজে ঠিকাদারের কোন প্রকার গাফলতি মেনে নেয়া হবে না।

উল্লেখ্য, গ্রামীণ জনপদের সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নে ২০১৯ সালে শুরু হয় প্রভাতী প্রকল্প। সরকার ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর অ্যাগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্টের (ইফাদ) সহায়তাপুষ্ট প্রভাতী প্রকল্পের মাধ্যমে কুড়িগ্রামে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন কাজ করে আসছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কুড়িগ্রামে আড়াই বছরেও প্রভাত হয় না এলজিইডি’র প্রভাতী প্রকল্পের সড়ক নির্মাণ

আপডেট সময় : ০৬:১৯:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩

কুড়িগ্রামে আড়াই বছরেও প্রভাত হয় না এলজিইডি’র প্রভাতী প্রকল্পের সড়ক নির্মাণ কাজের।

২ বছর থেকে বন্ধ হয়ে আছে এলজিইডি’র প্রভাতি প্রকল্পের সড়ক নির্মাণ কাজ। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করার নির্দেশনা থাকলেও তা মানছে কাজ বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ দফায় দফায় কাজের সময়সীমা বৃদ্ধি করে কাজ সমাপ্ত না করায় দূর্ভোগ বেড়েছে স্থানীয়দের ।

ঠিকাদারী ওই প্রতিষ্ঠানের গাফলতির কারণে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এলজিইডির প্রভাতী প্রকল্প আদৌ প্রভাতের মুখ দেখবে কিনা তা নিয়ে সংশয় সচেতন মহলের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের ভেলুরহাট বাজার হতে পূর্বদিকে আনোয়ার মেম্বারের বাড়ি পর্যন্ত ১০০০ মিটার রাস্তা নির্মাণের কার্যাদেশ পায় চট্টগ্রামস্থ মোহাম্মদ ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স প্রাইভেড লিমিটেড নামীয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

কাজটির প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ১ কোটি টাকা। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা এলজিইডি দপ্তর গত ২০২১ সালের ২৪ জুনে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। একই বছরের ২২ অক্টোবর কাজ সমাপ্তির সময়সীমা বেঁধে দেয় সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

কিন্তু উক্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালে কাজ শুরু না করে ২০২৩ সালের মার্চ মাসে নামমাত্র (বক্স) রাস্তার মাঝ অংশের মাটি খুঁড়ে রাখে। পরে এলাকাবাসীর চাপে মাত্র ৪০০ মিটার জায়গায় ইটের খোয়া ফেলে রেখে বাকী ৬০০ মিটারে মাটি খোড়া অবস্থায় রাখে।

বর্ষা মৌসুম আসায় খননকৃত রাস্তায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। এতে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে কাঁচা সড়কটি। প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। দীর্ঘ আড়াই বছরে কাজের অগ্রগতি মাত্র ২০ ভাগ সম্পন্ন হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। যথাসময়ে কাজটি সম্পন্ন না হওয়ায় এলজিইডি কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করছেন এখানকার মানুষজন।

ভেলুরহাট এলাকার সাইফুর মিয়া বলেন, এলজিইডি অচল ও অযোগ্য ঠিকাদারকে কাজ দেয়ায় কাজ সমাপ্ত করতে পাচ্ছে না। বছরের পর বছর রাস্তা খুঁড়ে রাখায় আমরা এলাকাবাসী মহাবিপদে পড়ে আছি।

যানবাহন এবং অসুস্থ রোগী ওই রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। কবে এই রাস্তার কাজ শেষ হবে সেটাও ওই ঠিকাদার বলে না।

একই এলাকার মুদি দোকানদার রফিকুল হক বলেন, রাস্তা খোঁড়ার ১ বছর হলো। তবু রাস্তা ঠিক হয় না। হামার আগের রাস্তা কাঁচা হলেও অনেক ভালো ছিল। কিসের নতুন রাস্তা করতে যেয়ে এখন আর রাস্তা দিয়ে সাইকেল, মটর সাইকেল ও এ্যাম্বুলেন্স কোনটাই যেতে পারে না।

প্রতিদিনে মানুষ এক্সিডেন্ট করতেছে। আহত হচ্ছে। এলজিইডি যাতে রাস্তাটি দ্রুত নির্মাণ করে এজন্য আমরা কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যববহার করে কুড়িগ্রামের কে বা কাহারা কাজ নিয়েছে আমি জানি না। সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ করতে অনেক সময় ১০-১৫ বছর পর্যন্ত সময় লাগতেই পারে।

এমন অনেক রেকর্ড আছে। এটা নিয়ে নিউজ করতে সাংবাদিকদের এতো আগ্রহ কেন? একথা বলে তিনি ফোন কেটে দেন।

কুড়িগ্রাম এলজিইডির প্রভাতী প্রকল্পের নিয়োজিত উপসহকারী প্রকৌশলী মো. রাশেদুন্নবী বলেন, আমরা চাই কাজটি দ্রুত বাস্তবায়ন হোক। কাজটি কি কারণে স্থগিত করে রাখা হয়েছে এজন্য আগামী রোববার তাদেরকে তলব করা হয়েছে। উপযুক্ত জবাব না পেলে তাদের সাথে চুক্তি বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে।

কুড়িগ্রাম এলজিইডির’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান বলেন, আমি নতুন এসেছি। অল্প কিছুদিন হলো যোগদানের। আমি খোঁজখবর নিয়ে যদি সত্যতা পাই তাহলে উক্ত ঠিকাদারের সাথে চুক্তি বাতিলের চিঠি ইস্যু করে নতুন ঠিকাদারকে নিয়োগ করে কাজটি সম্পন্ন করব। উন্নয়ন কাজে ঠিকাদারের কোন প্রকার গাফলতি মেনে নেয়া হবে না।

উল্লেখ্য, গ্রামীণ জনপদের সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নে ২০১৯ সালে শুরু হয় প্রভাতী প্রকল্প। সরকার ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর অ্যাগ্রিকালচার ডেভেলপমেন্টের (ইফাদ) সহায়তাপুষ্ট প্রভাতী প্রকল্পের মাধ্যমে কুড়িগ্রামে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন কাজ করে আসছে।

Facebook Comments Box