ঋণের টাকা আদায়ে এস আলমের শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত ইসলামি ব্যাংকের
- আপডেট সময় : ১১:৩২:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৪ ২২৭ বার পড়া হয়েছে
ঋণের টাকা আদায়ে এস আলমের শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত ইসলামি ব্যাংকের
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ইসলামী ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের শেয়ার বিক্রি করার উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামী ব্যাংক। এস আলম গ্রুপ ইসলামিক ব্যাংকের ১৭টি শাখা থেকে প্রায় ৮০হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ইসলামি ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ। গতকাল (১৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন শেয়ারের অভিহিত মূল্য(ফেস ভ্যালু) ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রতিটি শেয়ারের দাম ৬০ টাকা হিসেবে শেয়ারের বর্তমান মোট বাজারমূল্য প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। এস আলম গ্রুপের এই শেয়ার বিক্রি করে টাকা আদায় করা হবে”।
তিনি আরও বলেন, “ইসলামী ব্যাংকের বিনিয়োগ ও আমানতের মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকার ব্যবধান রয়েছে। ১০হাজার কোটি টাকা এস আলমের শেয়ার বিক্রি এবং বাকি ১০ হাজার কোটি টাকা নতুন শেয়ার ইস্যু করে সংগ্রহ করা হবে”।
গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকে এই সংবাদ সম্মেলন ডেকেছিলেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন “২০১৭ সাল থেকে ইসলামী ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে ৮০ শতাংশ ঋণ এস আলম নিয়েছে। এই বিশাল ক্ষতি কাটিয়ে তোলার জন্য নতুন বোর্ড পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ করে চলছে এবং এতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।”
তিনি আরও বলেন, “ সব ব্যাংককে রক্ষা করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব।
পরিচালনায় বদল এনেও যেসব ব্যাংক এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি, তাদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সব আমানতকারীকে রক্ষা করা হবে। অনিয়মের মাধ্যমে যাঁরা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়েছেন, সেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কোনো প্রতিষ্ঠানকে মরতে দেওয়া হবে না। কারণ, সব প্রতিষ্ঠানই জাতীয় সম্পদ। এর সঙ্গে ব্যাংকের বিনিয়োগ, উৎপাদন ও সরবরাহ জড়িত”।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, “এস আলমের শাস্তির জন্য আদালতে মামলা দায়ের হবে। এবং সেখান থেকেই তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া হবে”।
এসময় গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ইসলামি ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে আগের বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দেন।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে শেয়ার ছেড়ে দেয় ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি), দুবাই ইসলামী ব্যাংক, ইসলামিক ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড করপোরেশন দোহা, ইসলামিক ব্যাংকিং সিস্টেম ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং লুক্সেমবার্গ, শেখ আহমেদ সালেহ জামজুম, শেখ ফুয়াদ আবদুল হামিদ আল-খতিব, আল-রাজি গ্রুপ, কুয়েতের সরকারি ব্যাংক কুয়েত ফাইন্যান্স হাউস, সৌদি কোম্পানি আরবসাস ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিস্ট এজেন্সিসহ বেশির ভাগ বিদেশি উদ্যোক্তা ও সাধারণ শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠান। এতে বিদেশিদের হাতে থাকা ইসলামী ব্যাংকের ৫২ শতাংশ মালিকানা ১৩ শতাংশে নেমে যায়।
এসম্পর্কে ইসলামি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ বলেন, “পুরনো উদ্যোক্তা সৌদি প্রতিষ্ঠান আল রাজি ব্যাংককে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে এবং আইএফসি-কে ব্যাংক সহ বাকি সকল বিদেশি শেয়ার হোল্ডারদের জানুয়ারি মাসের মধ্যে আবার বিনিয়োগ করতে আমন্ত্রণ জানানো হবে”।
ফ্যাসিস্ট বিদায় ও দখলমুক্ত হওয়ার পর ইসলামী ব্যাংকের ঘুরে দাঁড়ানোর চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “৩ মাসে ইসলামি ব্যাংকের আমানত বেড়েছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। রেমিট্যান্স এসেছে ১০ হাজার কোটি টাকা। কমেছে চলতি হিসাবে থাকা ঘাটতির পরিমাণও। তবে নতুন কোনও ঋণ দেয়া হচ্ছে না”।
অতঃপর, গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, “আগের মত কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ছাপিয়ে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশকে সহায়তা করা হচ্ছে না। নতুন বোর্ড কর্মপরিকল্পনা মোতাবেক কাজ করছে। খুব শীঘ্রই আমরা সমস্যা গুলো কাটিয়ে উঠবো”।























