ঢাকা ০২:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আগামী নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতের উদ্যোগ সরকারের ইরান যুদ্ধের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে কাতার এয়ারওয়েজ সব মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত সাত মাসে দেশে সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত হয়েছে: মাহদী আমিন সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে একনেক সভা অর্থনৈতিক উৎকর্ষে বহুজাতিক কোম্পানির চেয়ে কৌশলী ব্যবস্থার গুরুত্ব নয়াদিল্লিতে নতুন হাইকমিশনারের অনুমোদন ঝুলে থাকায় বেড়েছে কূটনৈতিক জটিলতা নাটকীয় জয়ে বার্সার পাশে রিয়াল, তবুও অসন্তুষ্ট মরিনহো সিডনির বাসে স্কুলছাত্রীকে ‘অভিবাসী সন্ত্রাসী’ বলে গালাগাল বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাসে উন্নতির স্বীকৃতি মুডিসের

সাত মাসে দেশে সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত হয়েছে: মাহদী আমিন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৭:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

সাত মাসে দেশে সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত হয়েছে: মাহদী আমিন

 

নির্বাচন পরবর্তী গত সাত মাসে বাংলাদেশে মানুষের বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের এক নজিরবিহীন পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের ফলে রাষ্ট্রব্যবস্থায় যে পুঞ্জীভূত সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা রাতারাতি দূর করা কঠিন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্র বা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো প্রকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে নির্যাতন পরিচালনার মতো কোনো ঘটনাও নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

পড়ুন>>অর্থনৈতিক উৎকর্ষে বহুজাতিক কোম্পানির চেয়ে কৌশলী ব্যবস্থার গুরুত্ব

অতীতের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আগে একটি নির্দিষ্ট সরকারি কার্যালয় বা রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিরোধী মতের ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে সরাসরি হয়রানি করা হতো। বর্তমান সরকার এ ধরনের দমন-পীড়নের সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো প্রশাসনিক ত্রুটি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং তাৎক্ষণিক জবাবদিহিতার আওতায় আনছে।

গণতান্ত্রিক ধারাকে স্থায়ী করতে সরকার তৃণমূল থেকে অভিযোগ গ্রহণ করছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, কোনো অপরাধের তথ্য পাওয়ামাত্র দ্রুত তদন্ত ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে গণতন্ত্র ও সুষম জাতীয় উন্নয়ন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

 

 

পড়ুন>>সিডনির বাসে স্কুলছাত্রীকে ‘অভিবাসী সন্ত্রাসী’ বলে গালাগাল

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। শিক্ষার্থী, শ্রমিক, রিকশাচালক, প্রবাসী, নারী, শিক্ষক, আইনজীবী ও চিকিৎসকসহ সমাজের প্রতিটি পেশার মানুষ এ আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। এই ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ফসল আজকের মুক্ত বাংলাদেশ। ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ আমলে কেবল বিএনপিরই ৬০ লক্ষাধিক নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন এবং হাজার হাজার সহযোদ্ধা গুম বা শহিদ হয়েছেন।

আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শতাধিক অধ্যাদেশ পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর করা হয়েছে, যা একটি রেকর্ড। নতুন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে অংশীজনদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সরকার বিশ্বাস করে, আইনের অক্ষরে প্রয়োগের চেয়ে সেটির সঠিক মানবিক ও প্রায়োগিক প্রতিফলন নিশ্চিত করা অধিক জরুরি।

আরও পড়ুন>>নয়াদিল্লিতে নতুন হাইকমিশনারের অনুমোদন ঝুলে থাকায় বেড়েছে কূটনৈতিক জটিলতা

মাহদী আমিন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন যেন যেকোনো আইন জনবান্ধব ও বাস্তবসম্মত হয়। তাই গঠনমূলক মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনের সংশোধনী আনা হচ্ছে। সরকার বর্তমানের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের ধারায় বিএনপির অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, বাকশালের পর জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল।

 

আরও  পড়ুন>>নাটকীয় জয়ে বার্সার পাশে রিয়াল, তবুও অসন্তুষ্ট মরিনহো

 

পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন ঘটে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ ফের গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে।

তরুণ ও মেধাবী প্রজন্মকে দেশের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে মাহদী আমিন বলেন, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও বেসরকারি খাতের সহায়তায় একটি জনবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই সরকার এগিয়ে চলছে। জুলাই বিপ্লবে যারা রক্ত দিয়েছেন, তাদের সেই আত্মত্যাগের ঋণ শোধ করে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সাত মাসে দেশে সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত হয়েছে: মাহদী আমিন

আপডেট সময় : ১২:১৭:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

সাত মাসে দেশে সর্বোচ্চ বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত হয়েছে: মাহদী আমিন

 

নির্বাচন পরবর্তী গত সাত মাসে বাংলাদেশে মানুষের বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের এক নজিরবিহীন পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও জবাবদিহিমূলক সরকার ব্যবস্থা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের ফলে রাষ্ট্রব্যবস্থায় যে পুঞ্জীভূত সমস্যা তৈরি হয়েছে, তা রাতারাতি দূর করা কঠিন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্র বা সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো প্রকার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে নির্যাতন পরিচালনার মতো কোনো ঘটনাও নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

পড়ুন>>অর্থনৈতিক উৎকর্ষে বহুজাতিক কোম্পানির চেয়ে কৌশলী ব্যবস্থার গুরুত্ব

অতীতের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমানের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আগে একটি নির্দিষ্ট সরকারি কার্যালয় বা রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিরোধী মতের ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে সরাসরি হয়রানি করা হতো। বর্তমান সরকার এ ধরনের দমন-পীড়নের সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো প্রশাসনিক ত্রুটি বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং তাৎক্ষণিক জবাবদিহিতার আওতায় আনছে।

গণতান্ত্রিক ধারাকে স্থায়ী করতে সরকার তৃণমূল থেকে অভিযোগ গ্রহণ করছে জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, কোনো অপরাধের তথ্য পাওয়ামাত্র দ্রুত তদন্ত ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে, যেখানে গণতন্ত্র ও সুষম জাতীয় উন্নয়ন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

 

 

পড়ুন>>সিডনির বাসে স্কুলছাত্রীকে ‘অভিবাসী সন্ত্রাসী’ বলে গালাগাল

জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। শিক্ষার্থী, শ্রমিক, রিকশাচালক, প্রবাসী, নারী, শিক্ষক, আইনজীবী ও চিকিৎসকসহ সমাজের প্রতিটি পেশার মানুষ এ আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। এই ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ফসল আজকের মুক্ত বাংলাদেশ। ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ আমলে কেবল বিএনপিরই ৬০ লক্ষাধিক নেতাকর্মী মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন এবং হাজার হাজার সহযোদ্ধা গুম বা শহিদ হয়েছেন।

আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শতাধিক অধ্যাদেশ পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর করা হয়েছে, যা একটি রেকর্ড। নতুন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে অংশীজনদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সরকার বিশ্বাস করে, আইনের অক্ষরে প্রয়োগের চেয়ে সেটির সঠিক মানবিক ও প্রায়োগিক প্রতিফলন নিশ্চিত করা অধিক জরুরি।

আরও পড়ুন>>নয়াদিল্লিতে নতুন হাইকমিশনারের অনুমোদন ঝুলে থাকায় বেড়েছে কূটনৈতিক জটিলতা

মাহদী আমিন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন যেন যেকোনো আইন জনবান্ধব ও বাস্তবসম্মত হয়। তাই গঠনমূলক মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনের সংশোধনী আনা হচ্ছে। সরকার বর্তমানের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের ধারায় বিএনপির অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, বাকশালের পর জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল।

 

আরও  পড়ুন>>নাটকীয় জয়ে বার্সার পাশে রিয়াল, তবুও অসন্তুষ্ট মরিনহো

 

পরবর্তীতে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন ঘটে এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ ফের গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে এসেছে।

তরুণ ও মেধাবী প্রজন্মকে দেশের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে মাহদী আমিন বলেন, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও বেসরকারি খাতের সহায়তায় একটি জনবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যেই সরকার এগিয়ে চলছে। জুলাই বিপ্লবে যারা রক্ত দিয়েছেন, তাদের সেই আত্মত্যাগের ঋণ শোধ করে বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

 

 

 

Facebook Comments Box