ঢাকা ০৩:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
খুলনায় চুইঝালের শতকোটি টাকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনা রেল দরপত্র জালিয়াতির তদন্ত নিয়ে গড়িমসি, জানেন না সময়সীমা জিএম ব্রাজিল ফুটবলে নজিরবিহীন কাণ্ড, এক ম্যাচেই ৫৩ লাল কার্ড রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১ শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদনের শেষ ২৪ নভেম্বর কাতার মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তির পথে নতুন মোড় শিশু সাইফকে প্রাণনাশের দায়ে সৎমায়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের সমঝোতা চুক্তি খুলনা ও বাগেরহাট সফরে প্রধানমন্ত্রী: দিনভর ব্যস্ত কর্মসূচি রাজধানীর জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ট্রাম্পের লাগাম কতটা টেনে ধরতে পারবেন ডেমোক্র্যাটরা

রেল দরপত্র জালিয়াতির তদন্ত নিয়ে গড়িমসি, জানেন না সময়সীমা জিএম

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৩:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামে ট্রেনের প্রথম শ্রেণির কোচের বেড-বেডিং ধোলাই কাজের জন্য আহ্বান করা একটি দরপত্রে জালিয়াতির ঘটনায় তদন্তে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। ৬৫ লাখ টাকা মূল্যের এই কাজের দরপত্র নিয়ে ওঠা জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সাত কর্মদিবস পার হতে চললেও প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তার (সিসিএম) দপ্তর তা দাখিল করতে পারেনি।

তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। রেলের নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত এ ধরনের অনুসন্ধানের জন্য সাত কর্মদিবস সময় নির্ধারিত থাকে। তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে গত ২৮ অক্টোবর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সে হিসেবে বৃহস্পতিবার সাত কর্মদিবস শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে বলেন, কমিটি গঠন করে দ্রুত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তবে ঠিক কত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না বলে তিনি জানান। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্র তদন্ত প্রতিবেদন যেন আলোর মুখ না দেখে, তা ঠেকাতে মরিয়া হয়ে বিভিন্ন দপ্তরে তদবির করছে। এ ঘটনা তদন্তে কতদিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে সেটা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। এমনকি বিভিন্ন দপ্তরেও ধর্ণা দিচ্ছে তারা।

ঘটনার সূত্রপাত হয় রেলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক দপ্তর থেকে প্রথম শ্রেণির বেডিং ধোলাই ও ইস্ত্রি কাজের দরপত্র আহ্বানের মধ্য দিয়ে। গত ২ জুলাই দরপত্র খোলার পর পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের আবেদন জমা পড়ে, যার মধ্যে তিনটি শর্ত পূরণ না করায় বাতিল হয়ে যায়। অবশিষ্ট ‘প্রসিদ্ধ মদিনা শালকর’ ৬২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা ও ‘এ আর কনস্ট্রাকশন’ ৬৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকার দরপত্র জমা দেয়। নিয়ম অনুযায়ী সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ‘প্রসিদ্ধ মদিনা শালকর’ কাজটি পাওয়ার কথা থাকলেও, এসএলটি পদ্ধতির অজুহাতে তাদের বাতিল করা হয়। অতিরিক্ত ৩ লাখ টাকা খরচ করে কাজটি দেওয়া হয় ‘এ আর কনস্ট্রাকশনকে’। তখন বাণিজ্যিক দপ্তরের জেটিআই এনামুল হক শিকদারকে সরেজমিনে যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্বে রাখা হয়েছিল। গত ২ জুলাই দরপত্র খোলা হলে ৫ প্রতিষ্ঠানের আবেদনের মধ্যে তিনটি শর্ত পূরণ না করায় ঝরে যায়।

জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে যখন ‘প্রসিদ্ধ মদিনা শালকর’ এর স্বত্বাধিকারী মোশারফ হোসেন ভুইয়া গত ২৭ সেপ্টেম্বর রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম বরাবরে লিখিত অভিযোগ জানান। অনুসন্ধানে জানা যায়, দরপত্র পাওয়া ‘এ আর কনস্ট্রাকশন’ ঠিকানা হিসেবে ‘পশ্চিম মাদারবাড়ি, যুগিচাঁদ মসজিদ লেন ২ নম্বর গলি’ উল্লেখ করেছে। কিন্তু বাস্তব ঠিকানায় ‘ফ্রেশ ওয়াশ সেন্টার’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মালিক বিষ্ণু পাল আকাশ। তিনি জায়গাটি কে এম মামুন রাজার কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসা করছেন।

ঘটনার পেছনে চট্টগ্রাম স্টেশন কলোনির মিঠুন নামে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, যিনি দুই মাস আগে ফ্রেশ ওয়াশ সেন্টারে কাজ নিয়েছিলেন। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক বিষ্ণু পালকে ধোলাইয়ের কাজ পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এরপর প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ব্যবহার করে ‘এ আর কনস্ট্রাকশন’ নামে জাল চুক্তিনামা ও ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে রেলের দরপত্রে অংশ নেন। স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, মিঠুন ‘ভাই ভাই শালকর’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন, যা স্টেশন কলোনির পুলিশ ব্যারাকের পেছনে রেলের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে। এ আর কনস্ট্রাকশনের নামে কাজ পেলেও মূলত ধোলাইয়ের কাজগুলো ভাই ভাই শালকরেই সম্পন্ন করার পরিকল্পনা ছিল।

এই জালিয়াতির সঙ্গে শাহ আমানত ও জান্নাত ট্রেডিংয়ের মালিক শহীদ ওরফে কানা শহীদ জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি এ আর কনস্ট্রাকশনের নামে জাল নথি ব্যবহার করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি ফাতেমা বেগম নামের একজনের নামে নিবন্ধন করা, যার রেজিস্ট্রেশন পাবনা থেকে হলেও মূলত চট্টগ্রাম থেকে শহীদই এটি নিয়ন্ত্রণ করছেন।

অভিযোগের মুখে তদন্ত কর্মকর্তা মো. এনামুল হক সিকদারকে জুনিয়র ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হিসেবে লাকসামে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে মো. মহিউদ্দিন পাটোয়ারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এনামুলের ওপর বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে পোর্ট-চট্টগ্রামের কাজও বহাল রাখা হয়েছে। তবে এনামুল চলতি দায়িত্বের বাইরে অতিরিক্ত হিসেবে পোর্ট-চট্টগ্রামেও দায়িত্ব পালন করবেন বলেও বদলির আদেশে উল্লেখ করা হয়।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রেল দরপত্র জালিয়াতির তদন্ত নিয়ে গড়িমসি, জানেন না সময়সীমা জিএম

আপডেট সময় : ০২:৩৩:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামে ট্রেনের প্রথম শ্রেণির কোচের বেড-বেডিং ধোলাই কাজের জন্য আহ্বান করা একটি দরপত্রে জালিয়াতির ঘটনায় তদন্তে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। ৬৫ লাখ টাকা মূল্যের এই কাজের দরপত্র নিয়ে ওঠা জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সাত কর্মদিবস পার হতে চললেও প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তার (সিসিএম) দপ্তর তা দাখিল করতে পারেনি।

তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। রেলের নিয়ম অনুযায়ী সাধারণত এ ধরনের অনুসন্ধানের জন্য সাত কর্মদিবস সময় নির্ধারিত থাকে। তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে গত ২৮ অক্টোবর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সে হিসেবে বৃহস্পতিবার সাত কর্মদিবস শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম বিষয়টি নিয়ে বলেন, কমিটি গঠন করে দ্রুত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। তবে ঠিক কত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না বলে তিনি জানান। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, একটি প্রভাবশালী চক্র তদন্ত প্রতিবেদন যেন আলোর মুখ না দেখে, তা ঠেকাতে মরিয়া হয়ে বিভিন্ন দপ্তরে তদবির করছে। এ ঘটনা তদন্তে কতদিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে সেটা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। এমনকি বিভিন্ন দপ্তরেও ধর্ণা দিচ্ছে তারা।

ঘটনার সূত্রপাত হয় রেলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক দপ্তর থেকে প্রথম শ্রেণির বেডিং ধোলাই ও ইস্ত্রি কাজের দরপত্র আহ্বানের মধ্য দিয়ে। গত ২ জুলাই দরপত্র খোলার পর পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের আবেদন জমা পড়ে, যার মধ্যে তিনটি শর্ত পূরণ না করায় বাতিল হয়ে যায়। অবশিষ্ট ‘প্রসিদ্ধ মদিনা শালকর’ ৬২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা ও ‘এ আর কনস্ট্রাকশন’ ৬৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকার দরপত্র জমা দেয়। নিয়ম অনুযায়ী সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ‘প্রসিদ্ধ মদিনা শালকর’ কাজটি পাওয়ার কথা থাকলেও, এসএলটি পদ্ধতির অজুহাতে তাদের বাতিল করা হয়। অতিরিক্ত ৩ লাখ টাকা খরচ করে কাজটি দেওয়া হয় ‘এ আর কনস্ট্রাকশনকে’। তখন বাণিজ্যিক দপ্তরের জেটিআই এনামুল হক শিকদারকে সরেজমিনে যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্বে রাখা হয়েছিল। গত ২ জুলাই দরপত্র খোলা হলে ৫ প্রতিষ্ঠানের আবেদনের মধ্যে তিনটি শর্ত পূরণ না করায় ঝরে যায়।

জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে যখন ‘প্রসিদ্ধ মদিনা শালকর’ এর স্বত্বাধিকারী মোশারফ হোসেন ভুইয়া গত ২৭ সেপ্টেম্বর রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম বরাবরে লিখিত অভিযোগ জানান। অনুসন্ধানে জানা যায়, দরপত্র পাওয়া ‘এ আর কনস্ট্রাকশন’ ঠিকানা হিসেবে ‘পশ্চিম মাদারবাড়ি, যুগিচাঁদ মসজিদ লেন ২ নম্বর গলি’ উল্লেখ করেছে। কিন্তু বাস্তব ঠিকানায় ‘ফ্রেশ ওয়াশ সেন্টার’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মালিক বিষ্ণু পাল আকাশ। তিনি জায়গাটি কে এম মামুন রাজার কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসা করছেন।

ঘটনার পেছনে চট্টগ্রাম স্টেশন কলোনির মিঠুন নামে এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, যিনি দুই মাস আগে ফ্রেশ ওয়াশ সেন্টারে কাজ নিয়েছিলেন। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক বিষ্ণু পালকে ধোলাইয়ের কাজ পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এরপর প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ব্যবহার করে ‘এ আর কনস্ট্রাকশন’ নামে জাল চুক্তিনামা ও ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে রেলের দরপত্রে অংশ নেন। স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, মিঠুন ‘ভাই ভাই শালকর’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন, যা স্টেশন কলোনির পুলিশ ব্যারাকের পেছনে রেলের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে। এ আর কনস্ট্রাকশনের নামে কাজ পেলেও মূলত ধোলাইয়ের কাজগুলো ভাই ভাই শালকরেই সম্পন্ন করার পরিকল্পনা ছিল।

এই জালিয়াতির সঙ্গে শাহ আমানত ও জান্নাত ট্রেডিংয়ের মালিক শহীদ ওরফে কানা শহীদ জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি এ আর কনস্ট্রাকশনের নামে জাল নথি ব্যবহার করেছেন। প্রতিষ্ঠানটি ফাতেমা বেগম নামের একজনের নামে নিবন্ধন করা, যার রেজিস্ট্রেশন পাবনা থেকে হলেও মূলত চট্টগ্রাম থেকে শহীদই এটি নিয়ন্ত্রণ করছেন।

অভিযোগের মুখে তদন্ত কর্মকর্তা মো. এনামুল হক সিকদারকে জুনিয়র ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হিসেবে লাকসামে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলে মো. মহিউদ্দিন পাটোয়ারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এনামুলের ওপর বাড়তি দায়িত্ব হিসেবে পোর্ট-চট্টগ্রামের কাজও বহাল রাখা হয়েছে। তবে এনামুল চলতি দায়িত্বের বাইরে অতিরিক্ত হিসেবে পোর্ট-চট্টগ্রামেও দায়িত্ব পালন করবেন বলেও বদলির আদেশে উল্লেখ করা হয়।

Facebook Comments Box