ঢাকা ১২:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্দেশনা না মানলে বিমা কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: আইডিআরএ

ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৫১:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

নির্দেশনা না মানলে বিমা কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: আইডিআরএ

 

আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত বিমা কোম্পানিগুলোর লাগাম টানতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা নিয়ন্ত্রকের নির্দেশনা মেনে চলবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রথম বছরের প্রিমিয়াম সংগ্রহ স্থগিত করা, লাইসেন্স বাতিল, প্রশাসক নিয়োগ এবং প্রয়োজনবোধে কোম্পানি অবসায়নের মতো পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, নিজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি ৬০ শতাংশ সময় সহযোগিতামূলক অংশীদার হিসেবে এবং ৪০ শতাংশ সময় কঠোর নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করবেন।

 

 

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির উদাহরণ টেনে তিনি জানান, কোম্পানিটির প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া রয়েছে, অথচ বিপরীতে আদায়যোগ্য সম্পদের পরিমাণ মাত্র ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার মতো। গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ করতে পারবেন না জেনেও নতুন পলিসি বিক্রি করা প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

পড়ুন>>ঢাকায় রাতভর বৃষ্টিতে জলমগ্ন বিভিন্ন রাস্তা

 

আইডিআরএ চেয়ারম্যানের মতে, এই খাতের বর্তমান লক্ষ্য হলো বিদ্যমান সম্পদ বিক্রি করে গ্রাহকের দাবির অর্থ পরিশোধ করা, আস্থা পুনর্গঠন করা এবং কোম্পানিগুলোকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া। এর আগে, চলতি বছরের জুনে তিন বছরের জন্য আইডিআরএর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মীর নাদিয়া নিভিন ২০২৪ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত কমিশনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করছেন।

বাংলাদেশে বিমা গ্রহণের হার বর্তমানে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশের কাছাকাছি, যা ক্রমাগত কমছে। এই আস্থাহীনতা কাটাতে আইডিআরএ বর্তমানে আটটি সংকটাপন্ন বিমা কোম্পানির ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, একটি কোম্পানি আলাদা আইনি সত্তা হওয়ায় অতীতের ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতাকে দায় এড়ানোর সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

পড়ুন>>তেরো বছরের শিশুর নিরাপত্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন

গ্রাহকদের দাবি পরিশোধে গতি আনতে আইডিআরএ বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। সংকটাপন্ন কোম্পানিগুলোর সরকারি বন্ড, স্থায়ী আমানত ও ব্যাংক স্থিতির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। দুর্বল ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা টাকা ছাড় করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে। এছাড়া সম্পদ বিক্রি বা আমানত থেকে পাওয়া অর্থ যেন অন্যত্র সরতে না পারে, সেজন্য বিমা কোম্পানিগুলোকে দাবি পরিশোধের জন্য আলাদা ব্যাংক হিসাব খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে আইডিআরএর বিশেষ উদ্যোগে দুই ধাপে সাতটি জীবন বিমা কোম্পানির প্রায় ৮ হাজার ৪১৭ জন গ্রাহককে মোট ৩৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকার বিমা দাবি পরিশোধ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে বায়রা লাইফ, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ, গোল্ডেন লাইফ, হোমল্যান্ড লাইফ ও পদ্মা ইসলামী লাইফসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল। দ্বিতীয় ধাপে আরও কয়েকটি কোম্পানির গ্রাহকরা তাদের পাওনা পেয়েছেন।

আরও পড়ুন>>স্কাইট্র্যাক্স অ্যাওয়ার্ডসে ৪টি পুরস্কার জয় কাতার এয়ারওয়েজের

বিমা খাতের অভ্যন্তরীণ সংস্কারে লাইফ ফান্ড, অ্যাকচুয়ারিয়াল মূল্যায়ন ও পরিশোধিত মূলধনের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়েছে। এখন থেকে আইডিআরএর পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো বিমা কোম্পানি তাদের পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে পারবে না। এছাড়া জমিতে বিনিয়োগ ২০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার যে নীতিমালা, তা কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে।

নেতৃত্বের মানোন্নয়নে আইডিআরএ শুধু বিমা খাতের অভিজ্ঞদের ওপর নির্ভর না করে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অন্য অভিজ্ঞ ব্যক্তিদেরও সিইও হিসেবে নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে বিমা কোম্পানির অ্যাকচুয়ারিয়াল মূল্যায়নের জন্য বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়ার কথাও ভাবছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন>>জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আইডিআরএ পাবলিক ড্যাশবোর্ড পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে। এতে দাবি নিষ্পত্তির হারসহ নানা সূচক প্রকাশ করা হবে, যা গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে সাহায্য করবে।

 

এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় প্যারামেট্রিক বিমা এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় শস্য বিমা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় পরীক্ষামূলকভাবে মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে প্রায় ১৪ হাজার গ্রাহককে অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

পরিশেষে, বিমা খাতকে কেবল পণ্য বিক্রির জায়গা থেকে বের করে একটি সুশৃঙ্খল আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই এখন আইডিআরএর মূল চ্যালেঞ্জ। দাবি পরিশোধের হার বৃদ্ধিই সংস্থাটির সাফল্যের অন্যতম প্রধান সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে বলে চেয়ারম্যান জানিয়েছেন।

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নির্দেশনা না মানলে বিমা কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: আইডিআরএ

আপডেট সময় : ০৯:৫১:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

নির্দেশনা না মানলে বিমা কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: আইডিআরএ

 

আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত বিমা কোম্পানিগুলোর লাগাম টানতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা নিয়ন্ত্রকের নির্দেশনা মেনে চলবে না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রথম বছরের প্রিমিয়াম সংগ্রহ স্থগিত করা, লাইসেন্স বাতিল, প্রশাসক নিয়োগ এবং প্রয়োজনবোধে কোম্পানি অবসায়নের মতো পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মীর নাদিয়া নিভিন বলেন, নিজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি ৬০ শতাংশ সময় সহযোগিতামূলক অংশীদার হিসেবে এবং ৪০ শতাংশ সময় কঠোর নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করবেন।

 

 

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির উদাহরণ টেনে তিনি জানান, কোম্পানিটির প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার দাবি বকেয়া রয়েছে, অথচ বিপরীতে আদায়যোগ্য সম্পদের পরিমাণ মাত্র ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার মতো। গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ করতে পারবেন না জেনেও নতুন পলিসি বিক্রি করা প্রতারণা হিসেবে গণ্য হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

পড়ুন>>ঢাকায় রাতভর বৃষ্টিতে জলমগ্ন বিভিন্ন রাস্তা

 

আইডিআরএ চেয়ারম্যানের মতে, এই খাতের বর্তমান লক্ষ্য হলো বিদ্যমান সম্পদ বিক্রি করে গ্রাহকের দাবির অর্থ পরিশোধ করা, আস্থা পুনর্গঠন করা এবং কোম্পানিগুলোকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেওয়া। এর আগে, চলতি বছরের জুনে তিন বছরের জন্য আইডিআরএর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মীর নাদিয়া নিভিন ২০২৪ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত কমিশনের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজ করছেন।

বাংলাদেশে বিমা গ্রহণের হার বর্তমানে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশের কাছাকাছি, যা ক্রমাগত কমছে। এই আস্থাহীনতা কাটাতে আইডিআরএ বর্তমানে আটটি সংকটাপন্ন বিমা কোম্পানির ওপর বিশেষ নজর দিচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, একটি কোম্পানি আলাদা আইনি সত্তা হওয়ায় অতীতের ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতাকে দায় এড়ানোর সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

পড়ুন>>তেরো বছরের শিশুর নিরাপত্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন

গ্রাহকদের দাবি পরিশোধে গতি আনতে আইডিআরএ বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। সংকটাপন্ন কোম্পানিগুলোর সরকারি বন্ড, স্থায়ী আমানত ও ব্যাংক স্থিতির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। দুর্বল ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা টাকা ছাড় করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গেও সমন্বয় করা হচ্ছে। এছাড়া সম্পদ বিক্রি বা আমানত থেকে পাওয়া অর্থ যেন অন্যত্র সরতে না পারে, সেজন্য বিমা কোম্পানিগুলোকে দাবি পরিশোধের জন্য আলাদা ব্যাংক হিসাব খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে আইডিআরএর বিশেষ উদ্যোগে দুই ধাপে সাতটি জীবন বিমা কোম্পানির প্রায় ৮ হাজার ৪১৭ জন গ্রাহককে মোট ৩৭ কোটি ৫৪ লাখ টাকার বিমা দাবি পরিশোধ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে বায়রা লাইফ, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ, গোল্ডেন লাইফ, হোমল্যান্ড লাইফ ও পদ্মা ইসলামী লাইফসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল। দ্বিতীয় ধাপে আরও কয়েকটি কোম্পানির গ্রাহকরা তাদের পাওনা পেয়েছেন।

আরও পড়ুন>>স্কাইট্র্যাক্স অ্যাওয়ার্ডসে ৪টি পুরস্কার জয় কাতার এয়ারওয়েজের

বিমা খাতের অভ্যন্তরীণ সংস্কারে লাইফ ফান্ড, অ্যাকচুয়ারিয়াল মূল্যায়ন ও পরিশোধিত মূলধনের ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা হয়েছে। এখন থেকে আইডিআরএর পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো বিমা কোম্পানি তাদের পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে পারবে না। এছাড়া জমিতে বিনিয়োগ ২০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার যে নীতিমালা, তা কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে।

নেতৃত্বের মানোন্নয়নে আইডিআরএ শুধু বিমা খাতের অভিজ্ঞদের ওপর নির্ভর না করে ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অন্য অভিজ্ঞ ব্যক্তিদেরও সিইও হিসেবে নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে বিমা কোম্পানির অ্যাকচুয়ারিয়াল মূল্যায়নের জন্য বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়ার কথাও ভাবছে সংস্থাটি।

আরও পড়ুন>>জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আইডিআরএ পাবলিক ড্যাশবোর্ড পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে। এতে দাবি নিষ্পত্তির হারসহ নানা সূচক প্রকাশ করা হবে, যা গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে সাহায্য করবে।

 

এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় প্যারামেট্রিক বিমা এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় শস্য বিমা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বন্যার ঝুঁকি মোকাবিলায় পরীক্ষামূলকভাবে মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে প্রায় ১৪ হাজার গ্রাহককে অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

পরিশেষে, বিমা খাতকে কেবল পণ্য বিক্রির জায়গা থেকে বের করে একটি সুশৃঙ্খল আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই এখন আইডিআরএর মূল চ্যালেঞ্জ। দাবি পরিশোধের হার বৃদ্ধিই সংস্থাটির সাফল্যের অন্যতম প্রধান সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে বলে চেয়ারম্যান জানিয়েছেন।

 

 

 

Facebook Comments Box