ঢাকা ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে ক্যারিয়ার ফেয়ার লেবাননের বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে কাতারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি সীতাকুণ্ডে গুলিতে যুবক নিহত, আহত আরও এক পাবনার সাঁথিয়ায় ইছামতী নদীতে জমজমাট নৌকা বাইচ ঠাকুরগাঁওয়ে বেপরোয়া বাসের চাকার নিচে চিরতরে হারিয়ে গেল ছোট্ট সেতু ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি টিভিতে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ওয়ানডেসহ দিনের যত খেলা তাড়াশে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে হিন্দু ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের নারীদের মাঝে শাড়ি বিতরণ শরতেই শীতের আগমনী বার্তা, আগাম কুয়াশার চাদরে ঢাকা চারপাশ রাণীশংকৈলে ইটভাটা সংলগ্ন ধানক্ষেতের পাশ থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার 

ঠাকুরগাঁওয়ে বেপরোয়া বাসের চাকার নিচে চিরতরে হারিয়ে গেল ছোট্ট সেতু

ঠাকুরগাঁও থেকে হুমায়ুন কবির
  • আপডেট সময় : ০৭:৫২:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

ঠাকুরগাঁওয়ে বেপরোয়া বাসের চাকার নিচে চিরতরে হারিয়ে গেল ছোট্ট সেতু

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‎‎ঠাকুরগাঁওয়ে বেপরোয়া বাসের চাকার নিচে চিরতরে হারিয়ে গেল ছোট্ট সেতু

‎
‎
‎​উৎসবের আলো, ঢাকের বাদ্যি আর চারপাশের আনন্দঘন কোলাহল—সব মিলিয়ে এক স্বর্গীয় পরিবেশ। শারদীয় দুর্গোৎসবের সেই আনন্দ উপভোগ করতে মণ্ডপে গিয়েছিল ১৪ বছরের কিশোরী সেতু রায়। কে জানত, পূজামণ্ডপের মায়াবী আলো মেখে বাড়ি ফেরার এই পথটুকুই হবে তার জীবনের শেষ পথ? একটি বেপরোয়া বাসের নির্মম ধাক্কায় প্রদীপের শিখার মতো নিভে গেল এক ফুটফুটে প্রাণ। আনন্দের সেই রাতটি স্বজনদের জন্য চিরকালের কান্নার অন্ধকারে ঢেকে গেলো ​।

 

ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ২৯ মাইল বাজার এলাকায়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সেতু রায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বড় ভবানী এলাকার জিতেন রায়ের কন্যা।
‎​প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের হৃদয়বিদারক বর্ণনা অনুযায়ী, পূজামণ্ডপের আনন্দ শেষ করে বুকভরা স্বপ্ন আর মাটির পৃথিবীর নানা মায়ায় নিজ বাড়ির দিকে পা বাড়িয়েছিল সেতু। হেঁটে সড়ক পার হওয়ার ঠিক সেই মুহূর্তটিতেই কাল হয়ে এল ঘাতক ‘গোল্ডেন লাইন পরিবহন’-এর একটি দ্রুতগামী বাস।

 

ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকাগামী বাসটি মুহূর্তের মধ্যে শিশুটিকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। মুহূর্তের আনন্দঘন পরিবেশ নিমিষেই পরিণত হয় শোকে ও আর্তনাদে। ​রাস্তার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ছোট্ট সেতুকে দ্রুত উদ্ধার করেন স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা। প্রাণের টানে তারা ছুটে যান ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু আঘাত এতই গুরুতর ছিল যে, সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ​স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ আর বাঁচার আকুতি নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ছুটছিল রংপুরের পানে। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর প্রহর ততক্ষণে ঘনিয়ে এসেছে। হাসপাতালের বিছানায় পৌঁছানো আর হলো না; পথেই চিরকালের মতো নীরব হয়ে যায় সেতু। নিথর হয়ে যায় মণ্ডপের আলোয় মুখর হওয়া ছোট্ট প্রাণটি।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাজাহান আলী জানান, বাসের ধাক্কায় সেতু নামে ওই কিশোরী গুরুতর আহত হয়েছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান, তবে দুর্ভাগ্যের বিষয়, রংপুরে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

‎
‎

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঠাকুরগাঁওয়ে বেপরোয়া বাসের চাকার নিচে চিরতরে হারিয়ে গেল ছোট্ট সেতু

আপডেট সময় : ০৭:৫২:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

‎‎ঠাকুরগাঁওয়ে বেপরোয়া বাসের চাকার নিচে চিরতরে হারিয়ে গেল ছোট্ট সেতু

‎
‎
‎​উৎসবের আলো, ঢাকের বাদ্যি আর চারপাশের আনন্দঘন কোলাহল—সব মিলিয়ে এক স্বর্গীয় পরিবেশ। শারদীয় দুর্গোৎসবের সেই আনন্দ উপভোগ করতে মণ্ডপে গিয়েছিল ১৪ বছরের কিশোরী সেতু রায়। কে জানত, পূজামণ্ডপের মায়াবী আলো মেখে বাড়ি ফেরার এই পথটুকুই হবে তার জীবনের শেষ পথ? একটি বেপরোয়া বাসের নির্মম ধাক্কায় প্রদীপের শিখার মতো নিভে গেল এক ফুটফুটে প্রাণ। আনন্দের সেই রাতটি স্বজনদের জন্য চিরকালের কান্নার অন্ধকারে ঢেকে গেলো ​।

 

ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ২৯ মাইল বাজার এলাকায়। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো সেতু রায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বড় ভবানী এলাকার জিতেন রায়ের কন্যা।
‎​প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের হৃদয়বিদারক বর্ণনা অনুযায়ী, পূজামণ্ডপের আনন্দ শেষ করে বুকভরা স্বপ্ন আর মাটির পৃথিবীর নানা মায়ায় নিজ বাড়ির দিকে পা বাড়িয়েছিল সেতু। হেঁটে সড়ক পার হওয়ার ঠিক সেই মুহূর্তটিতেই কাল হয়ে এল ঘাতক ‘গোল্ডেন লাইন পরিবহন’-এর একটি দ্রুতগামী বাস।

 

ঠাকুরগাঁও থেকে ঢাকাগামী বাসটি মুহূর্তের মধ্যে শিশুটিকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। মুহূর্তের আনন্দঘন পরিবেশ নিমিষেই পরিণত হয় শোকে ও আর্তনাদে। ​রাস্তার ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা ছোট্ট সেতুকে দ্রুত উদ্ধার করেন স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা। প্রাণের টানে তারা ছুটে যান ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু আঘাত এতই গুরুতর ছিল যে, সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ​স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ আর বাঁচার আকুতি নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ছুটছিল রংপুরের পানে। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর প্রহর ততক্ষণে ঘনিয়ে এসেছে। হাসপাতালের বিছানায় পৌঁছানো আর হলো না; পথেই চিরকালের মতো নীরব হয়ে যায় সেতু। নিথর হয়ে যায় মণ্ডপের আলোয় মুখর হওয়া ছোট্ট প্রাণটি।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহাজাহান আলী জানান, বাসের ধাক্কায় সেতু নামে ওই কিশোরী গুরুতর আহত হয়েছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান, তবে দুর্ভাগ্যের বিষয়, রংপুরে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

‎
‎

Facebook Comments Box