ঢাকা ০৩:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাঙ্গামাটিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আলোকচিত্রের দ্বিশতবর্ষ পূর্তি উদ্‌যাপন ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ মেরামত হচ্ছে ‘থ্রি আর’ কৌশলে: প্রধানমন্ত্রী দুর্গাপূজায় সরকারি কর্মচারীদের টানা ৭ দিনের ছুটির সুযোগ যেভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বকে সতর্কবার্তা নেপালের যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ‘পান্ডা কূটনীতি’ জোরালো করছে চীন কাউন্টি ক্রিকেটে খালেদ আহমেদের দুর্দান্ত বোলিং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষে ৯ থেকে ১৫ গ্রেডে নিয়োগ মালয়েশিয়া সফরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধিতেও টিকিটের ভাড়া বাড়াচ্ছে না কাতার নওগাঁ জেলার শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক অফিসার হলেন নওগাঁ সদরের আব্দুল আলিম

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বকে সতর্কবার্তা নেপালের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৮:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে বলেছেন, গত মাসে নেপালে যে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে, তা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী বাড়তে থাকা ঝুঁকির এক বড় সংকেত। তিনি হিমালয়ের এই নাজুক পরিবেশব্যবস্থা দ্রুত অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, উষ্ণায়নের প্রভাবে পারমাফ্রস্ট ও হিমবাহ গলে যাওয়ার ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও ঝুঁকি উভয়ই বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে পারমাফ্রস্ট বা দীর্ঘদিন ধরে জমাট থাকা মাটি গলছে, হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। তাদের মতে, স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক অস্থিতিশীলতার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণায়ন একত্রিত হয়ে হিমবাহ সরে যাওয়া ও পারমাফ্রস্ট বা দীর্ঘদিন ধরে জমাট থাকা মাটি গলার মতো প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। বালেন্দ্র শাহ বলেন, ‘বিশ্বব্যবস্থার ব্যর্থতার কারণে আরো তীব্র হয়ে ওঠা একটি সংকটের বিরুদ্ধে নেপাল একা নিজের সক্ষমতা তৈরি করতে পারবে না।’। দুর্নীতিবিরোধী তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনের ব্যাপক সমর্থন নিয়ে তিনি ক্ষমতায় আসেন এবং পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি করেন।

নেপালের হিমালয় সংলগ্ন পার্বত্য এলাকায় গত মাসের শেষদিকে হিমবাহ ধসে সুনামির মতো প্রবল ঢল নামে, যা দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১,৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৬,০০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপালের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি ডলার। নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে উচ্চ পার্বত্য এলাকায় হিমবাহসংক্রান্ত একটি ধসের ফলে সৃষ্ট সুনামির মতো প্রবল ঢল ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

বালেন্দ্র শাহ জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান ০.১ শতাংশেরও কম। অথচ এই সংকট তৈরির দায় না থাকলেও নেপালকে এর চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা ছাড়া একক প্রচেষ্টায় নেপালের পক্ষে এই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় তিনি আন্তর্জাতিক তহবিলের অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের বিজ্ঞানীরা ঘটনাটিকে একটি ‘সম্মিলিত সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নেপালকে যে বিপুল ব্যয় করতে হবে, তার একটি অংশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বহন করার আহ্বান জানান তিনি।

দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপাল জাতিসংঘের ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ থেকে ২ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে, যা এই তহবিল থেকে একটি দেশের জন্য আবেদনের সর্বোচ্চ সীমা। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে পাকিস্তানে বন্যার পর এই তহবিল গঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অর্থ ছাড় দেওয়া হয়নি। তাই এই তহবিলটি নেপালের মতো ভুক্তভোগী দেশের জন্য কতটা কার্যকর হয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বড় পরীক্ষা চলছে।

এই বিপর্যয় মোকাবিলায় সরকার জলবায়ু কূটনীতিকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ৩৬ বছর বয়সী সাবেক র‌্যাপার ও নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ‘হিমালয়া ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম’ নামে একটি আঞ্চলিক উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছেন, যেখানে ভারত ও চীনকেও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় হিমবাহ হ্রদ নজরদারি, স্যাটেলাইট তথ্য বিনিময় ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে নেপালের পাশাপাশি ভারত ও চীনকে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজে যুক্তরাষ্ট্র ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, জি-৭ দেশগুলো এবং যুক্তরাজ্যও নেপালকে সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেছে।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বকে সতর্কবার্তা নেপালের

আপডেট সময় : ০১:২৮:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে বলেছেন, গত মাসে নেপালে যে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে, তা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বব্যাপী বাড়তে থাকা ঝুঁকির এক বড় সংকেত। তিনি হিমালয়ের এই নাজুক পরিবেশব্যবস্থা দ্রুত অস্থিতিশীল হয়ে পড়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, উষ্ণায়নের প্রভাবে পারমাফ্রস্ট ও হিমবাহ গলে যাওয়ার ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা ও ঝুঁকি উভয়ই বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে পারমাফ্রস্ট বা দীর্ঘদিন ধরে জমাট থাকা মাটি গলছে, হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। তাদের মতে, স্থানীয় ভূতাত্ত্বিক অস্থিতিশীলতার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণায়ন একত্রিত হয়ে হিমবাহ সরে যাওয়া ও পারমাফ্রস্ট বা দীর্ঘদিন ধরে জমাট থাকা মাটি গলার মতো প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। বালেন্দ্র শাহ বলেন, ‘বিশ্বব্যবস্থার ব্যর্থতার কারণে আরো তীব্র হয়ে ওঠা একটি সংকটের বিরুদ্ধে নেপাল একা নিজের সক্ষমতা তৈরি করতে পারবে না।’। দুর্নীতিবিরোধী তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আন্দোলনের ব্যাপক সমর্থন নিয়ে তিনি ক্ষমতায় আসেন এবং পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি করেন।

নেপালের হিমালয় সংলগ্ন পার্বত্য এলাকায় গত মাসের শেষদিকে হিমবাহ ধসে সুনামির মতো প্রবল ঢল নামে, যা দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১,৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৬,০০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপালের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি ডলার। নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে উচ্চ পার্বত্য এলাকায় হিমবাহসংক্রান্ত একটি ধসের ফলে সৃষ্ট সুনামির মতো প্রবল ঢল ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

বালেন্দ্র শাহ জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের অবদান ০.১ শতাংশেরও কম। অথচ এই সংকট তৈরির দায় না থাকলেও নেপালকে এর চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা ছাড়া একক প্রচেষ্টায় নেপালের পক্ষে এই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় তিনি আন্তর্জাতিক তহবিলের অর্থায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের বিজ্ঞানীরা ঘটনাটিকে একটি ‘সম্মিলিত সংকট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নেপালকে যে বিপুল ব্যয় করতে হবে, তার একটি অংশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বহন করার আহ্বান জানান তিনি।

দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপাল জাতিসংঘের ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ থেকে ২ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে, যা এই তহবিল থেকে একটি দেশের জন্য আবেদনের সর্বোচ্চ সীমা। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে পাকিস্তানে বন্যার পর এই তহবিল গঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অর্থ ছাড় দেওয়া হয়নি। তাই এই তহবিলটি নেপালের মতো ভুক্তভোগী দেশের জন্য কতটা কার্যকর হয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বড় পরীক্ষা চলছে।

এই বিপর্যয় মোকাবিলায় সরকার জলবায়ু কূটনীতিকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ৩৬ বছর বয়সী সাবেক র‌্যাপার ও নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ ‘হিমালয়া ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম’ নামে একটি আঞ্চলিক উদ্যোগের প্রস্তাব দিয়েছেন, যেখানে ভারত ও চীনকেও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আওতায় হিমবাহ হ্রদ নজরদারি, স্যাটেলাইট তথ্য বিনিময় ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে নেপালের পাশাপাশি ভারত ও চীনকে যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজে যুক্তরাষ্ট্র ৩ কোটি ১০ লাখ ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, জি-৭ দেশগুলো এবং যুক্তরাজ্যও নেপালকে সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেছে।

Facebook Comments Box