সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি
- আপডেট সময় : ০৫:০৭:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার ১৭ অক্টোবর রাতে কালিগঞ্জ থানার কৃষ্ণনগর এলাকা থেকে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম এই গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম শাহীন জানান, তাকে গ্রেপ্তারের পর বিস্তারিত তথ্য পরবর্তীতে জানানো হবে। এর আগে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে এ মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
নিহত শামীম দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামের শামসুল রহমানের ছেলে। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ছিলেন এবং হোমিওপ্যাথি নিয়েও পড়াশোনা করেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, শামীম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন, যার ফলে তিনি অসংলগ্ন আচরণ করতেন। তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলে রেখে গেছেন। গত সোমবার ফেসবুকে শামীমের স্ত্রীর সঙ্গে তার কথোপকথনের একটি অডিও ভাইরাল হলে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে যে, ওই অডিওতে ধর্ম অবমাননাকর মন্তব্য ছিল। এর জেরে স্থানীয় বাজারে তাকে প্রথম দফায় মারধর করা হয় এবং তার বাড়িতে হামলার চেষ্টা চলে। গত সোমবার শামীম (৩৮) ও তার স্ত্রীর কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি কামিল পাস করেন এবং হোমিওপ্যাথি নিয়েও পড়াশোনা করেন।
পরদিন মঙ্গলবার শামীম স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাকে বের করে আবারও মারধর করা হয়। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে, সেখানেও হামলা চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বাধীন একটি মিছিল হাসপাতালে ঢুকে শামীমকে ছিনিয়ে নিয়ে পুনরায় মারধর করে। পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। নিহতের বড় ভাই আবদুল জলিল বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে স্থানীয় এক পল্লিচিকিৎসকের চেম্বারে চিকিৎসা নেওয়ার সময় একদল লোক শামীমকে সেখান থেকে বের করে আবার মারধর করে।
গ্রেপ্তারকৃত ফজলুল হক আমিনী নিজেকে পারুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘Fh Ameni’ নামের প্রোফাইল থেকে তিনি শামীমকে নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট দিয়েছিলেন।
ঘটনার পর শুক্রবার রাত ১০টা ২২ মিনিটে তিনি একটি অডিও পোস্ট করেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ২৬ মিনিটের এক পোস্টে তিনি শামীমের মানসিক অসুস্থতার দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। গ্রেপ্তারের ঠিক আগে শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে তিনি ফেসবুকে এক পোস্টে লেখেন যে, যে কোনো সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। সেখানে তিনি নিজেকে ও এই ঘটনায় অংশ নেওয়া অন্যদের ‘গাজী ইলমুদ্দিন’ হিসেবে উল্লেখ করে মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমি আপনাদের মাঝে থাকবো না, যেকোনো সময় আমাকে এরেস্ট করা হবে, কিন্তু মোনাজাতে আমাকে শামিল রাখবেন।’। ওই পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘তামাম বিশ্ববাসী আমাকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করলেও কিছু যায় আসে না, যদি আল্লাহ পাক আমাকে মাফ করে দেন। এ যুগের গাজী ইলমুদ্দিন হিসেবে আমাকে এবং এই অপারেশনে যারা অংশগ্রহণ করেছিল সকলকে যেন কবুল করে নেন।’। এলাকার মানুষও তার অসুস্থতার বিষয়টি জানতেন।
সূত্র: দৈনিক এইদিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























