ঢাকা ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টেকনাফে মানবপাচারের হাত থেকে ১৭ ব্যক্তি উদ্ধার নেত্রকোনায় নিখোঁজের ছয় দিন পর প্রাক্তন স্ত্রী উদ্ধার নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০ কর্মসূচি পালন করলেন প্রধানমন্ত্রী ইউসিবি ব্যাংকে অ্যাগ্রি সেলস অফিসার পদে নিয়োগ ট্রাম্পের আমন্ত্রণে নিউইয়র্কে বিশ্বনেতাদের বৈঠকে কাতারের আমীর ম্যানসিটির ১১৫টি আর্থিক অনিয়মের ১১৪টিতেই অভিযোগ প্রমাণিত অপ্রতীম মৃত্যুর ঘটনা মামলা: তদন্ত কর্মকর্তার বড় পরিবর্তন দুধের পর এবার ডিম খেয়ে অসুস্থ ঠাকুরগাঁওয়ের ২০ শিক্ষার্থী রাণীশংকৈলে জামিনের ৫ দিন পর ফের ইয়াবাসহ গ্রেফতার মাদক কারবারী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতেই আগামীর বিশ্ব গড়বে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে বৈশ্বিক সহায়তার ডাক প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা মহানগর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে বৈশ্বিক সহায়তার ডাক প্রধানমন্ত্রীর

 

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের সম্মিলিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম-৪-এ আয়োজিত এই বৈঠকে তিনি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অস্তিত্বের সংকটের ওপর বিশেষ আলোকপাত করেন।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর পক্ষে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ পরিণতি একার পক্ষে মোকাবিলা করা অসম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের প্রতিটি টনের প্রতিক্রিয়া সাগরের ওপর পড়ে, যার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দ্রুত বাড়ছে। এই সংকট নিরসনে তিনি দৃঢ় সংকল্প ও দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

 

পড়ুন>>মুসলিম কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে

বাংলাদেশ একটি সক্রিয় বদ্বীপ হিসেবে পরিচিত এবং দেশের নদ-নদী সাগরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত। বিশ্বব্যাংকের তথ্য তুলে ধরে তিনি সতর্ক করেন যে, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলে দেশের প্রায় ৪ শতাংশ ভূমি তলিয়ে যেতে পারে, যা প্রায় এক কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকাকে চরম হুমকির মুখে ফেলবে।

সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ, তিস্তা ব্যারাজ আধুনিকায়ন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে সৌরবিদ্যুৎকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

 

পড়ুন>> নীলফামারীতে সুবিধাবঞ্চিত ১০০ পরিবারের মাঝে টিউবওয়েল বিতরণ

পরিবেশ সুরক্ষায় জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলা, সবুজ শিল্পের প্রসার এবং বন ও জলাভূমি সংরক্ষণের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। এই সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী চারটি সুনির্দিষ্ট ও জরুরি পদক্ষেপের সুপারিশ করেছেন। প্রথমত, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে নিঃসরণ কমানো। দ্বিতীয়ত, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানো। চতুর্থত, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঘোষণাপত্রের অঙ্গীকারগুলোকে বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবে, যাতে কোনো দেশকে একা এই ‘রাইজিং টাইড’-এর ভয়াবহতার মুখোমুখি হতে না হয়। এই বৈঠকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

 

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে বৈশ্বিক সহায়তার ডাক প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় : ০৮:৩৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে বৈশ্বিক সহায়তার ডাক প্রধানমন্ত্রীর

 

জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের সম্মিলিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম-৪-এ আয়োজিত এই বৈঠকে তিনি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অস্তিত্বের সংকটের ওপর বিশেষ আলোকপাত করেন।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর পক্ষে জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ পরিণতি একার পক্ষে মোকাবিলা করা অসম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের প্রতিটি টনের প্রতিক্রিয়া সাগরের ওপর পড়ে, যার ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দ্রুত বাড়ছে। এই সংকট নিরসনে তিনি দৃঢ় সংকল্প ও দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

 

পড়ুন>>মুসলিম কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়ার অভিযোগে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে

বাংলাদেশ একটি সক্রিয় বদ্বীপ হিসেবে পরিচিত এবং দেশের নদ-নদী সাগরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সংযুক্ত। বিশ্বব্যাংকের তথ্য তুলে ধরে তিনি সতর্ক করেন যে, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ২৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেলে দেশের প্রায় ৪ শতাংশ ভূমি তলিয়ে যেতে পারে, যা প্রায় এক কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকাকে চরম হুমকির মুখে ফেলবে।

সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খনন, পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ, তিস্তা ব্যারাজ আধুনিকায়ন এবং ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে সৌরবিদ্যুৎকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

 

পড়ুন>> নীলফামারীতে সুবিধাবঞ্চিত ১০০ পরিবারের মাঝে টিউবওয়েল বিতরণ

পরিবেশ সুরক্ষায় জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলা, সবুজ শিল্পের প্রসার এবং বন ও জলাভূমি সংরক্ষণের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। এই সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী চারটি সুনির্দিষ্ট ও জরুরি পদক্ষেপের সুপারিশ করেছেন। প্রথমত, বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে নিঃসরণ কমানো। দ্বিতীয়ত, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানো। চতুর্থত, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঘোষণাপত্রের অঙ্গীকারগুলোকে বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবে, যাতে কোনো দেশকে একা এই ‘রাইজিং টাইড’-এর ভয়াবহতার মুখোমুখি হতে না হয়। এই বৈঠকে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

 

 

 

Facebook Comments Box