রোহিঙ্গা সংকটের বোঝা অনির্দিষ্টকাল বহন করা সম্ভব নয়
- আপডেট সময় : ১২:২৩:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে শুধুমাত্র সমর্থনের আশ্বাস না দিয়ে বরং কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশ অনির্দিষ্টকাল এই সংকটের বোঝা বহন করতে পারবে না। বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘অনিশ্চিত প্রত্যাবর্তন: প্রত্যাবাসনের পথে বাধা নিয়ে রোহিঙ্গাদের বক্তব্য’ শীর্ষক এক জাতীয় নীতি অবহিতকরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত শুধু সমর্থনের কথা না বলে সংকট সমাধানে বাস্তব ও কার্যকর সহায়তা নিয়ে এগিয়ে আসা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগ ও ক্রিমিনোলজি রিসার্চ ফোরাম আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা সংকটের প্রকৃত সমাধান মিয়ানমারের মাটিতেই নিহিত রয়েছে। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারকে নিজেদের আবাসভূমি হিসেবে স্বীকার করলেও, যে ভীতিকর পরিস্থিতির কারণে তারা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল, সেখানে ফিরে যেতে তারা রাজি নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রোহিঙ্গারা কোনো করুণা চায় না, তারা চায় তাদের অধিকার।
প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে একটি আস্থার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, এর জন্য পরিচয় ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা, জমি ও সম্পত্তির অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া এবং নিরাপত্তা ও বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা প্রয়োজন। ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ভাষণের কথা স্মরণ করিয়ে তিনি জানান, সেখানে টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য পাঁচটি জরুরি অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে সহিংসতার অবসান, জবাবদিহি নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্দেশীয় অপরাধ দমনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়াও নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের রূপরেখা তৈরির জন্য জাতীয় কৌশল প্রণয়ন কমিটি গঠনের বিষয়টিও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
কক্সবাজারের স্থানীয় পরিস্থিতির ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখানে ক্রমবর্ধমান অপরাধ ও নিরাপত্তাহীনতাকে ‘নতুন স্বাভাবিক’ অবস্থা হিসেবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। অনুষ্ঠানে গবেষক দলের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়। উখিয়ার ১৭টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৮১৬ জনের ওপর চালানো জরিপ এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত অংশীজনদের নেওয়া ৭২টি একান্ত সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই গবেষণাপত্রটি তৈরি করা হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগ আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
সূত্র: দৈনিক এইদিন
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ





















