মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে এবং অন্যান্য দেশের সাথে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে বাংলাদেশ সরকার নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে, গত ২১-২২ মে ২০২৫ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া তৃতীয় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সেই আলোচনার প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদল বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্ট নির্বাচনের জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণের প্রতিশ্রুতি দেয়।
গত ২৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে মালয়েশিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এই নতুন ‘রিক্রুটিং এজেন্ট সিলেকশন ক্রাইটেরিয়া’ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে অবহিত করা হয়। জানা গেছে, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের মতো দেশগুলোর জন্য প্রযোজ্য অভিন্ন মানদণ্ডের ভিত্তিতেই এখন থেকে বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্টদের তালিকাভুক্ত করা হবে।
নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী, রিক্রুটিং এজেন্সিকে অবশ্যই লাইসেন্স প্রাপ্তির পর অন্তত ৫ বছর সন্তোষজনক কার্যক্রম পরিচালনার অভিজ্ঞতা দেখাতে হবে। এছাড়া বিগত ৫ বছরে বিদেশে কমপক্ষে ৩,০০০ কর্মী পাঠানোর প্রমাণক এবং অন্তত ৩টি ভিন্ন গন্তব্য দেশে কর্মী নিয়োগের অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক।
এজেন্সির অনুকূলে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বৈধ লাইসেন্স এবং কর্মী গ্রহণকারী দেশের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ‘সার্টিফিকেট অব গুড কন্ডাক্ট’ বা সদাচরণের সনদ থাকতে হবে। পাশাপাশি, কোনো এজেন্সির বিরুদ্ধে মানব পাচার, অর্থপাচার, জোরপূর্বক অর্থ আদায় বা শ্রম আইন লঙ্ঘনের মতো কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের রেকর্ড থাকা যাবে না।
অবকাঠামোগত সক্ষমতার বিষয়ে বলা হয়েছে, এজেন্সির নিজস্ব প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন কেন্দ্র থাকতে হবে, যেখানে আবাসন ও কারিগরি প্রশিক্ষণের সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া কমপক্ষে ৩ বছর ধরে পরিচালিত ১০,০০০ বর্গফুট আয়তনের একটি স্থায়ী অফিস থাকতে হবে, যেখানে কর্মী বাছাই ও নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকবে।
আন্তর্জাতিক নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে সন্তোষজনক কাজের ৫টি প্রশংসাপত্র এবং অতীতে মালয়েশিয়াসহ অন্যান্য দেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে আইনসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রমাণকও জমা দিতে হবে। এই শর্তগুলো পূরণকারী এজেন্টদের তালিকাভুক্ত করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মালয়েশিয়া সরকারকে অনুরোধ জানানো হবে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই নতুন মানদণ্ড পূরণে সক্ষম বৈধ লাইসেন্সধারী রিক্রুটিং এজেন্টদের আগামী ০৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ মন্ত্রণালয়ে আবেদন দাখিল করতে হবে।
সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী প্রেরণের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সমতা নিশ্চিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে যোগ্য এবং দক্ষ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনার সমান সুযোগ পাবে।
এজেন্সির অনুকূলে পৃথক পৃথক ৫ জন আন্তর্জাতিক নিয়োগকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত সন্তোষজনকভাবে অভিবাসন কার্যক্রম সম্পাদানের প্রশংসাপত্র থাকতে হবে।
আগামীতে এসব অভিন্নভাবে মানদন্ডের ভিত্তিতে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও মায়ানমারের রিক্রটিং এজেন্ট ঠিক করা হবে বলেও জানা গেছে।
Pr/ B
Leave a Reply