বাবার ধার করা টাকা আর প্রত্যাখ্যান পেরিয়ে সাফল্যের চূড়ায়
- আপডেট সময় : ০৯:২০:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
মুম্বাইয়ের ছোট্ট এক কামরার বাসায় যখন জীবন শুরু করেছিলেন ওয়ামিকা গাব্বি, তখন সেখানে নিজের কোনো খাটও ছিল না। বাবার কিনে দেওয়া টেলিভিশন, একটি গদি আর গ্যাস সিলিন্ডারই ছিল সম্বল। পরে নিজের প্রথম উপার্জনের অর্থ দিয়ে তিনি প্রথম খাটটি কিনেছিলেন। মুম্বাইয়ের সেই দিনগুলোতে একদিন কেনাকাটার জন্য বাবার কাছে ১৫ হাজার রুপি চেয়েছিলেন ওয়ামিকা। বাবা তখন সেই টাকা দিলেও অনেক বছর পর তিনি জানতে পারেন, মেয়ের আবদার মেটাতে সেই অর্থ ধার করতে হয়েছিল বাবাকে। সেই ওয়ামিকাই আজ বলিউডের পরিচিত মুখ। পরে বুঝেছিলেন, বাবা চাইলে তাঁকে না-ও বলতে পারতেন। সেই সময়ের আরেকটি স্মৃতিও মনে রেখেছেন তিনি।
খুব ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ে পথচলা শুরু করেন ওয়ামিকা। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ২০০৭ সালে ইমতিয়াজ আলীর ‘জব উই মেট’ ছবিতে কারিনা কাপুরের চরিত্রের কাজিনের ভূমিকায় অভিনয় করেন। এরপর ‘লাভ আজ কাল’ ও ‘মৌসম’ ছবিতে ছোট চরিত্রে কাজের পর ২০১৩ সালে ‘সিক্সটিন’ চলচ্চিত্রে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পান। তবে হিন্দি সিনেমায় বড় কোনো বিরতি পেতে বেশ সময় লেগেছিল তাঁর। দেবদাসের রক্তাক্ত পুনর্জন্ম, প্রেমের বদলে প্রতিশোধ। কিন্তু শিশুশিল্পী হিসেবে পর্দায় আসার পরও হিন্দি সিনেমায় দ্রুত বড় সুযোগ পাননি।
হিন্দি ছাড়াও পাঞ্জাবি, তামিল, তেলেগু ও মালয়ালম ভাষার চলচ্চিত্রে কাজ করে নিজের পরিচিতি তৈরি করেন এই অভিনেত্রী। ‘গোধা’ ছবির কুস্তিগির চরিত্রের জন্য কঠোর প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন তিনি। মুম্বাইয়ে যাওয়ার আগে সনির একটি ধারাবাহিকে প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন ওয়ামিকা, যেখানে কাজ করলে মাসে প্রায় চার লাখ রুপি আয় করার সুযোগ ছিল। কিন্তু সিনেমার প্রতি ভালোবাসা থেকে সেই বড় পারিশ্রমিকের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন তিনি, আর তাঁর পরিবারও তাঁকে এই স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু এই জায়গায় পৌঁছানোর পথটা মোটেও সহজ ছিল না। অভিনয়ের সঙ্গে ওয়ামিকার পরিচয় খুব ছোটবেলায়।
তবে ক্যারিয়ারের পথ কখনোই মসৃণ ছিল না। একপর্যায়ে একের পর এক অডিশনে বাদ পড়ার কারণে চরম হতাশা গ্রাস করেছিল তাঁকে। ২০১৯ সালে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে অভিনয় পেশা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন ওয়ামিকা। ‘দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সে সময় কয়েকটি ছবিতে কাজ করলেও তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না এবং কিছু টাকা জমিয়ে ভ্রমণ করার কথা চিন্তা করেছিলেন।
ঠিক সেই মুহূর্তে বিশাল ভরদ্বাজের ‘মিডনাইটস চিলড্রেন’ ছবির অডিশন তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর ‘গ্রহণ’, ‘মাই’ ও ‘মডার্ন লাভ মুম্বাই’ এর মতো কাজগুলোতে অংশ নেন। তবে ২০২৩ সাল তাঁর অভিনয় জীবনে সবচেয়ে বড় বাঁক হিসেবে আসে। ‘জুবিলি’ সিরিজে নীলুফার চরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য প্রথমে বাদ পড়লেও পরে চূড়ান্ত হন এবং প্রশংসিত হন। এরপর বিশাল ভরদ্বাজের ‘খুফিয়া’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ফিল্মফেয়ার ওটিটি পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।
২০২৫ সালে ‘কার্লি টেলস’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের শুরুর দিনগুলোর সংগ্রামের কথা পুনরায় স্মরণ করেন ওয়ামিকা। বর্তমান সময়ে তাঁর হাতে রয়েছে একাধিক বড় প্রজেক্ট। ‘বেবি জন’, ‘ভুল চুক মাফ’ ছবির পর ২০২৬ সালে ‘ডিসি’ চলচ্চিত্রে চন্দ্রা চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। লোকেশ কানাগরাজের বিপরীতে এই কাজ ছাড়াও তেলেগু স্পাই-থ্রিলার ‘জি২’ এবং আসিফ আলীর সঙ্গে ‘টিকি টাকা’ ছবিতে কাজ করছেন।
হিন্দি ইন্ডাস্ট্রিতেও তাঁর ব্যস্ততা তুঙ্গে। রাজকুমার রাওয়ের সঙ্গে ‘প্রহার: দ্য উজ্জ্বল নিকম স্টোরি’, বিকাশ বহাল পরিচালিত এবং সিদ্ধার্থ চতুর্বেদী ও জয়া বচ্চন অভিনীত ‘দিল কা দরওয়াজা খোল না ডার্লিং’ এবং ‘কুকু কি কুন্ডলি’ ছবির কাজ রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। পাশাপাশি তামিল সিনেমা ‘জিনি’ এবং প্রশান্ত বর্মার প্যান-ইন্ডিয়া পৌরাণিক চলচ্চিত্র ‘জয় হনুমান’-এ ঋষভ শেঠির সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজের কাজের পরিধি আরও প্রসারিত করেছেন এই জনপ্রিয় তারকা।
সূত্র: প্রথম আলো
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ

























