ঢাকা ০১:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরিকল্পনা ছাড়াই কি উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ? দুর্গাপূজা নিয়ে মন্দির কমিটির সাথে পুলিশের মতবিনিময় সভা সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হুতি সংকট নিয়ে ইরানের আলোচনা নীলফামারী হাসপাতালে চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় আটক অ্যাম্বুলেন্স চালক ডিএমপি’র সাবেক কমিশনার হাবিবসহ ১১ জনের বিচারিক কার্যক্রম শুরু ব্র্যাকে সিনিয়র স্পেশালিস্ট পদে নিয়োগ সৌদির ৫ বিমানবন্দরে হুথিদের ৭ হামলা: নিহত ১৬ সারা দেশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পূর্বাভাস, লঘুচাপের সম্ভাবনা নাটোরে জার্মান পর্যটকের হারানো ল্যাপটপ উদ্ধার, যা জানাল পুলিশ সৌদিতে হুতিদের হামলায় চার বাংলাদেশি নিহত, ঝুঁকিতে শ্রমবাজার

পরিকল্পনা ছাড়াই কি উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২১:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বর্তমানে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। সম্প্রতি সংস্থাটি আরও ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে। বহর বড় করা ব্যবসার প্রসারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এই বিপুল সংখ্যক উড়োজাহাজ কেনার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যবসায়িক কর্মপরিকল্পনা আছে কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের আকাশপথে বিমানের যাত্রী পরিবহনের হার ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে অন্তত ৫০ শতাংশে উন্নীত করা। তবে এই লক্ষ্য পূরণের জন্য রুটভিত্তিক কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনো জনসমক্ষে আনা হয়নি। চুয়েট শাটডাউন: ‘তালা ভেঙে’ নিজ দপ্তরে প্রবেশ করলেন নতুন উপাচার্য।

নতুন উড়োজাহাজগুলো কোন রুটে পরিচালিত হবে, ফ্লাইটের সংখ্যা কতটা বাড়ানো হবে, নতুন রুটের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে আসবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের রুটের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমানোর কৌশল কী হবে—এমন মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো অস্পষ্ট। গত বছরের জুলাই মাসে ঢাকা-ওয়াশিংটন রুটে ট্রাম্প ট্যারিফ নিয়ে আলোচনার সময় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ১৪টি থেকে বাড়িয়ে ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে ওই সময় বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তারা এমন কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবগত নয়। এমনকি বিমানের কারিগরি-আর্থিক কমিটির সদস্যরাও এ সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না। পাবনায় ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ঘে আহত ৪০, ভাঙচুর ১৫ বাড়ি। ‘মেসির চেয়েও বড় বার্সেলোনা,’ বিদায় সংবর্ধনা নিয়ে ক্ষুব্ধ গাসপার্ত। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে ফ্লাইট সম্প্রসারণের কথা বলছে বিমান।

পরবর্তীতে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হয়। এ বছরের এপ্রিলে বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয় এবং সেপ্টেম্বরে অতিরিক্ত ১১টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার সম্পূরক চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। এর মাধ্যমে মার্কিন এই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। এরপর গত ৭ অক্টোবর এয়ারবাস থেকে আরও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার পৃথক চুক্তি সম্পন্ন করে বিমান। এ বছর নির্বাচনের পর নতুন সরকার পরিকল্পনাটি এগিয়ে নিয়ে যায়। এরপর গত ৭ অক্টোবর ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে আরেকটি চুক্তি করে বিমান।

এসব চুক্তির আগে বিমানের পরিচালন ক্ষমতা, কর্মী নিয়োগ, রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা ও অর্থায়নের বিষয়ে কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা ছিল কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। গত ২২ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে প্রথম চুক্তির মাত্র আট দিন আগে এক বৈঠকে বিমানকে রুটভিত্তিক আয়-ব্যয়ের হিসাব ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই বৈঠকে ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে বিমানের বহর ৪৭টিতে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এরপর বোয়িংয়ের অতিরিক্ত ১১টি উড়োজাহাজ এবং এয়ারবাস কেনার চুক্তির সময় ওই পরিকল্পনা হালনাগাদ করা হয়েছে কি না, তা কখনো প্রকাশ করা হয়নি। বোয়িং কেনার প্রথম চুক্তির ৮ দিন আগে ২২ এপ্রিল এক বৈঠকে বিমানকে রুটভিত্তিক আয়-ব্যয়ের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য যে, এয়ারবাস নিয়ে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে নিয়মিত তাগিদ ছিল এবং বাংলাদেশ ২০৩০ সালের আগেই এই উড়োজাহাজগুলো পেতে আগ্রহী। এদিকে, বিমানের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রিয়াদগামী দুটি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া যন্ত্রাংশ ও দক্ষ কর্মীর সংকটে বিমানের বিদ্যমান উড়োজাহাজগুলো পরিচালনা করাও ঝুঁকিহীন নয় বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এর আগে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটের ঘটনা নিয়েও নানা আলোচনার জন্ম হয়েছিল। সব মিলিয়ে, একের পর এক উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবসায়িক রূপরেখার অভাব নিয়ে অস্বস্তি কাটছে না। অবরোধ স্থগিত, মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে পর্যটকদের সাজেক ছাড়ার নির্দেশ।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

পরিকল্পনা ছাড়াই কি উড়োজাহাজ কিনছে বিমান বাংলাদেশ?

আপডেট সময় : ০১:২১:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বর্তমানে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। সম্প্রতি সংস্থাটি আরও ৩৫টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে। বহর বড় করা ব্যবসার প্রসারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এই বিপুল সংখ্যক উড়োজাহাজ কেনার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যবসায়িক কর্মপরিকল্পনা আছে কি না, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের আকাশপথে বিমানের যাত্রী পরিবহনের হার ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে অন্তত ৫০ শতাংশে উন্নীত করা। তবে এই লক্ষ্য পূরণের জন্য রুটভিত্তিক কোনো বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনো জনসমক্ষে আনা হয়নি। চুয়েট শাটডাউন: ‘তালা ভেঙে’ নিজ দপ্তরে প্রবেশ করলেন নতুন উপাচার্য।

নতুন উড়োজাহাজগুলো কোন রুটে পরিচালিত হবে, ফ্লাইটের সংখ্যা কতটা বাড়ানো হবে, নতুন রুটের নিয়ন্ত্রণ কীভাবে আসবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের রুটের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমানোর কৌশল কী হবে—এমন মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো অস্পষ্ট। গত বছরের জুলাই মাসে ঢাকা-ওয়াশিংটন রুটে ট্রাম্প ট্যারিফ নিয়ে আলোচনার সময় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ১৪টি থেকে বাড়িয়ে ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে ওই সময় বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তারা এমন কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবগত নয়। এমনকি বিমানের কারিগরি-আর্থিক কমিটির সদস্যরাও এ সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না। পাবনায় ফুটবল খেলা নিয়ে সংঘর্ঘে আহত ৪০, ভাঙচুর ১৫ বাড়ি। ‘মেসির চেয়েও বড় বার্সেলোনা,’ বিদায় সংবর্ধনা নিয়ে ক্ষুব্ধ গাসপার্ত। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে ফ্লাইট সম্প্রসারণের কথা বলছে বিমান।

পরবর্তীতে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হয়। এ বছরের এপ্রিলে বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয় এবং সেপ্টেম্বরে অতিরিক্ত ১১টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার সম্পূরক চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। এর মাধ্যমে মার্কিন এই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। এরপর গত ৭ অক্টোবর এয়ারবাস থেকে আরও ১০টি উড়োজাহাজ কেনার পৃথক চুক্তি সম্পন্ন করে বিমান। এ বছর নির্বাচনের পর নতুন সরকার পরিকল্পনাটি এগিয়ে নিয়ে যায়। এরপর গত ৭ অক্টোবর ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কিনতে আরেকটি চুক্তি করে বিমান।

এসব চুক্তির আগে বিমানের পরিচালন ক্ষমতা, কর্মী নিয়োগ, রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা ও অর্থায়নের বিষয়ে কোনো সমন্বিত পরিকল্পনা ছিল কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। গত ২২ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে প্রথম চুক্তির মাত্র আট দিন আগে এক বৈঠকে বিমানকে রুটভিত্তিক আয়-ব্যয়ের হিসাব ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই বৈঠকে ২০৩৪-৩৫ অর্থবছরের মধ্যে বিমানের বহর ৪৭টিতে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এরপর বোয়িংয়ের অতিরিক্ত ১১টি উড়োজাহাজ এবং এয়ারবাস কেনার চুক্তির সময় ওই পরিকল্পনা হালনাগাদ করা হয়েছে কি না, তা কখনো প্রকাশ করা হয়নি। বোয়িং কেনার প্রথম চুক্তির ৮ দিন আগে ২২ এপ্রিল এক বৈঠকে বিমানকে রুটভিত্তিক আয়-ব্যয়ের ভিত্তিতে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশনা দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য যে, এয়ারবাস নিয়ে ফ্রান্সের পক্ষ থেকে নিয়মিত তাগিদ ছিল এবং বাংলাদেশ ২০৩০ সালের আগেই এই উড়োজাহাজগুলো পেতে আগ্রহী। এদিকে, বিমানের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রিয়াদগামী দুটি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া যন্ত্রাংশ ও দক্ষ কর্মীর সংকটে বিমানের বিদ্যমান উড়োজাহাজগুলো পরিচালনা করাও ঝুঁকিহীন নয় বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এর আগে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটের ঘটনা নিয়েও নানা আলোচনার জন্ম হয়েছিল। সব মিলিয়ে, একের পর এক উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যবসায়িক রূপরেখার অভাব নিয়ে অস্বস্তি কাটছে না। অবরোধ স্থগিত, মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে পর্যটকদের সাজেক ছাড়ার নির্দেশ।

Facebook Comments Box