নিষিদ্ধ দলের তৎপরতা রুখতে কঠোর বার্তা পুলিশের
- আপডেট সময় : ০৭:৩৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১৪ বার পড়া হয়েছে
নিষিদ্ধ দলের তৎপরতা রুখতে কঠোর বার্তা পুলিশের
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের নেতাকর্মীদের সাম্প্রতিক তৎপরতা ও ঝটিকা মিছিল নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খল রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশের উচ্চ পর্যায় থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো মিছিল বা অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার দায়ভার বহন করতে হবে ওই থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। এই ব্যর্থতা প্রমাণিত হলে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি বদলির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায়, সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে সংঘটিত মিছিলের ঘটনায় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে গুলশান থানার ওসি মো. দাউদ হোসেন এবং গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদকে ক্লোজ বা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা অফিস আদেশে তাদের ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
পড়ুন>>যুদ্ধাপরাধের দায়ে কসোভোর সাবেক প্রেসিডেন্ট হাশিম থাচির কারাদণ্ড
পুলিশ সদর দপ্তর ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের বিশেষ বৈঠকে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ওপর বিশেষ জোর দিতে বলা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে বলা হয়েছে, শুধু মিছিলকারীদের গ্রেপ্তার করাই যথেষ্ট নয়, কেন মিছিলটি আগে প্রতিহত করা গেল না, তার দায়বদ্ধতাও মূল্যায়ন করা হবে।
গত শুক্রবার গুলশানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মিছিল চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনা ঘটে। ওই সময় পুলিশ দুজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি পাঁচটি ককটেল উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৭৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পড়ুন>>এসআরবি আইনের প্রজ্ঞাপন জারি
বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, গোয়েন্দা তথ্য থাকলেও শুক্রবার জুমার নামাজের আড়ালে অতর্কিতে জড়ো হওয়ার কৌশল পুলিশ হয়তো আগে আঁচ করতে পারেনি।
রাজধানী ছাড়িয়ে ঢাকার বাইরেও নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। গাজীপুরের পূবাইল থানাধীন টেকপাড়া এলাকায় এবং চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর ও আগ্রাবাদ এক্সেস রোড এলাকায় সাবেক যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের নেতৃত্বে মিছিল বের করা হয়েছে। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার প্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির সক্রিয়তা বৃদ্ধির খবর পাওয়ায় সারা দেশের থানাগুলোকে বিশেষ সতর্কতায় রাখা হয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য তারা ষড়যন্ত্রের ছক আঁকছে, আর পুলিশের নজরদারিতে ঘাটতি ও গোয়েন্দা ব্যর্থতার সুযোগে তারা এই ধরনের দুঃসাহস দেখাচ্ছে।
এমন প্রেক্ষাপটে ডিএমপি এবার প্রিভেন্টিভ মেজার বা আগাম প্রতিরোধমূলক কৌশলে মনোযোগ দিয়েছে। সনাতন পন্থার পরিবর্তে সিটিটিসি, ডিবি ও থানা পুলিশের সমন্বয়ে রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে কঠোর ব্লক চেক ও স্পটভিত্তিক জিরো-গ্যাপ সিকিউরিটি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন>>অসদাচরণের অভিযোগে অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বরখাস্ত
এছাড়া বহিরাগতদের অপতৎপরতা রোধে আবাসিক হোটেলের অতিথি তালিকা নিয়মিত সংগ্রহ ও তা সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ নির্দেশ দিয়েছেন যে, হোটেলগুলোতে অতিথিদের তথ্য এমনভাবে সংগ্রহ করতে হবে যাতে প্রয়োজনে দ্রুত তা পাওয়া যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসকদের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয় সভাগুলো নিয়মিত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্ভাব্য নাশকতা রুখতে সাদা পোশাকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশন (আইএডি) গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছে এবং মিছিলের নেতৃত্বদানকারী ও অংশগ্রহণকারীদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে পুলিশের এই কঠোর অভিযানের সময় সাধারণ মানুষ যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার না হয়, সে বিষয়েও থানা পুলিশ ও গোয়েন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা ও গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোর সব ধরনের অরাজকতা রুখতে পুলিশ সদর দপ্তর এখন সর্বোচ্চ প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছে।
Social Media
Communication
Bookmarking
Developer
Entertainment
Academic
Finance
Lifestyle
নিউজটি শেয়ার করুন
-
সর্বশেষ সংবাদ
-
জনপ্রিয় সংবাদ




















