ঢাকা ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভালুকায় সেলুন ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম করে মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ সুন্দরবনে দস্যুদের সাথে বন্দুকযুদ্ধ, জিম্মি থেকে ৫ জেলে উদ্ধার বকেয়া বেতনের দাবিতে চালডাল কর্মীদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুর বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহায়তা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান উখিয়ায় নলকূপ খননের সময় অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সেনাবাহিনী আইজিপি’র ‘ক্রসফায়ার’ সম্পর্কিত বক্তব্যের অপব্যাখ্যা অপরাধীদের উৎসাহিত করবে সৌদির রাস তানুরা তেল শোধনাগারে হামলার দাবি হুতিদের দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪০০ ছাড়াল নওগাঁয় শ্যালিকাকে বিয়ে, যুবক ও দুই স্ত্রীর মুখে চুনকালি দিয়ে গ্রামছাড়া সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় বাসের ৫ যাত্রী নিহত

দেশে নারী ও কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ: সাত মাসে বড় পরিসরে সহিংসতার তথ্য প্রকাশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ ২৭ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতার চিত্র আবারও জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই—এই সাত মাসে সারা দেশে অন্তত ৩৪১ জন নারী ও কন্যাশিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। দেশের ১৪টি জাতীয় সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে।

গতকাল রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা। সারা দেশে নারীর প্রতি অব্যাহত সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে এদিন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সব জেলা শাখায় একই ধরনের কর্মসূচি পালিত হয়। সংগঠনের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম জানান, এই সাত মাসে ঘটা ৩৪১টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ৬৩টি ঘটনা সরাসরি ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। এছাড়া জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক কলহ এবং মামলা-মোকদ্দমার জেরেও অনেক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের সব সংবাদমাধ্যমের তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হলে এই সহিংসতার প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু জানান, গত সাত মাসে মোট ১ হাজার ৬৬৭ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২৯১ জন ধর্ষণের শিকার হওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এসব পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, নারী ও শিশুরা দেশের কোথাও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সহিংসতার প্রবণতা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

মানববন্ধনে বক্তারা নারী ও শিশুর মানবাধিকার নিশ্চিত করতে এবং সামাজিক বৈষম্য দূর করতে রাষ্ট্রকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীদের ভয় দেখিয়ে ঘরে আটকে রাখা যাবে না। তারা নিজেদের অধিকার আদায়ে সংগঠিত থাকবে। এমন একটি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছেন, যেখানে নারীকে নির্যাতন বা হত্যার শিকার হতে হবে না।

প্রতিটি সহিংসতার ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান মালেকা বানু। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত এবং নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে নেতারা অঙ্গীকার করেন। কর্মসূচিতে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম, আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি ও সাংগঠনিক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দেশে নারী ও কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ: সাত মাসে বড় পরিসরে সহিংসতার তথ্য প্রকাশ

আপডেট সময় : ১২:৫৪:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

দেশে নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর ক্রমবর্ধমান সহিংসতার চিত্র আবারও জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই—এই সাত মাসে সারা দেশে অন্তত ৩৪১ জন নারী ও কন্যাশিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। দেশের ১৪টি জাতীয় সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে।

গতকাল রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা। সারা দেশে নারীর প্রতি অব্যাহত সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে এদিন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সব জেলা শাখায় একই ধরনের কর্মসূচি পালিত হয়। সংগঠনের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম জানান, এই সাত মাসে ঘটা ৩৪১টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ৬৩টি ঘটনা সরাসরি ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। এছাড়া জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, পারিবারিক কলহ এবং মামলা-মোকদ্দমার জেরেও অনেক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের সব সংবাদমাধ্যমের তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হলে এই সহিংসতার প্রকৃত চিত্র আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু জানান, গত সাত মাসে মোট ১ হাজার ৬৬৭ জন নারী ও কন্যাশিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ২৯১ জন ধর্ষণের শিকার হওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এসব পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, নারী ও শিশুরা দেশের কোথাও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সহিংসতার প্রবণতা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

মানববন্ধনে বক্তারা নারী ও শিশুর মানবাধিকার নিশ্চিত করতে এবং সামাজিক বৈষম্য দূর করতে রাষ্ট্রকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীদের ভয় দেখিয়ে ঘরে আটকে রাখা যাবে না। তারা নিজেদের অধিকার আদায়ে সংগঠিত থাকবে। এমন একটি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছেন, যেখানে নারীকে নির্যাতন বা হত্যার শিকার হতে হবে না।

প্রতিটি সহিংসতার ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান মালেকা বানু। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত এবং নারী ও শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে নেতারা অঙ্গীকার করেন। কর্মসূচিতে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদা রেহানা বেগম, আন্দোলন সম্পাদক রাবেয়া খাতুন শান্তি ও সাংগঠনিক সম্পাদক কানিজ ফাতেমা টগরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box