ঢাকা ০২:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এনসিসি ব্যাংকে শাখা ব্যবস্থাপক পদে নিয়োগ তাড়াশ উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিঃ পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন রাণীশংকৈলে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে নির্ভুল তথ্য সংগ্রহে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন দোহা–রিয়াদ রুটে কাতার এয়ারওয়েজের একাধিক ফ্লাইট বাতিল বিরল ও পীরগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও মদ উদ্ধার রাণীশংকৈলে দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা, ৫৫ মণ্ডপের নিরাপত্তায় জোর মাদরাসার সাবেক উপাধ্যক্ষের পেনশন বণ্টন নিয়ে পরিবারের বিরোধ তাহিরপুরে থমকে গেছে ছাত্রী যৌন হয়রানির অভিযোগের বিচার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থা জনগণের কাছে ফেরাতে চায় সরকার: মঈন খান

চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাটা মাড়াই কাজে একমাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আয় করবে কৃষি শ্রমিক

সৃষ্টি কৃষি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৩ ২১৪ বার পড়া হয়েছে

বোরো মৌসুমে ধান কাটা মাড়াই করে একমাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আয় করবে

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাটা মাড়াই করে একমাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আয় করবে রংপুর অঞ্চলের কৃষি শ্রমিক।

রংপুরের প্রকৃতিতে যতদূর চোখ যায় শুধু বোরো
ধানের মৌ মৌ গন্ধ শোনা যাচ্ছে। এবার বিভাগের ৮ জেলায় কৃষি মৌসুমি শ্রমিকরা এবার বোরো মৌসুমে ধান কাটা মাড়াই করে একমাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আয় করবে।

গত কয়েক মৌসুম থেকে কৃষি শ্রমের মূল্য ৫/৬ গুণ বৃদ্ধি হওয়ায় শ্রমিকরা বেজায় খুশি বাজারে ধানের স্বাভাবিক দাম থাকায় কৃষকরাও শ্রমিকদের বেশি মূল্য দিতে বাধ্য হচ্ছে।

 

 

জানা গেছে, রংপুর বিভাগে ৮ জেলার চাষিরা ৮ লাখ লাখ হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছে।

 

এ পরিমাণ জমি থেকে প্রায় ৩৫ লাখ মেট্রিক টনের বেশি ধান গোলায় তোলার আশা করা হচ্ছে।

 

গত সপ্তাহ থেকে এই অঞ্চলে ধান কাটা মাড়াই শুরু হয়েছে। মজুরি বেশি থাকায় কৃষি শ্রমিকরা রয়েছে চাঙ্গাভাবে।

 

তবে ধান কাটা মাড়াই শ্রমিকদের ধান কেটে
২০০ কোটি টাকা করতে কৃষি শ্রমিক পাওয়াই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। দিন হাজিরায় ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।

 

মিঠাপুকুরের কৃষক হাবিবুর রহমান, আশরাফুল, রংপুর সদরের পশুরাম ইউনিয়নের আমিন, মনটু মিয়া গঙ্গাচড়ার গান্নারপাড় এলাকার মিজানুর, নীলফামারীর জলঢাকার অলিয়ার মিয়াসহ কয়েকজন কৃষকের সাথে  কথা বলে জানা গেছে, হাট বাজারগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির বোরো ধান কেনা বেচা হচ্ছে ৮শ থেকে প্রায় ৯০০ টাকা।

কৃষকরা জানান, ৫ বছর আগেও ১ একর জমির ধান কাটা মাড়াই করতে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা লাগত। এক দোন (২৪ শতক) জমির ধান কাটা মাড়াই করে ঘরে তুলতে কৃষকদের খরচ হচ্ছে আড়াই হাজার টাকা।

সেই হিসেবে প্রতি একরে খরচ পড়ছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। অপরদিকে, দিন হাজিরায় যেসব শ্রমিক কাজ করত তাদেরও মজুরি বেড়েছে কয়েকগুণ।

 

৫ বছর আগে দেড়শ টাকায় যে শ্রমিক দিন হাজিরায় কাজ করত এবার তারা ৫০০ টাকার নিচে কাজ করছে না।

 

কোন কোন স্থানে তিন বেলা খাওয়াসহ এই হাজিরা পাচ্ছেন।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুরে প্রায় ১০ লাখ, নীলফামারীতে ৫ লাখ, লালমনিরহাটে ৪ লাখ, গাইবান্ধায় ৬ লাখ, কুড়িগ্রামে ৭ লাখ, দিনাজপুরে ১২ লাখ, ঠাকুরগাঁয়ে ৭ লাখ, পঞ্চগড়ে ৩ লাখ বৃষি শ্রমিক রয়েছে। এরা শুধু আমন ও বোরো মৌসুমে ধানা কাটা মাড়াইয়ের কাজ করেন।

অন্য সময়ে এরা শহরে রিক্সা, ড্যান অথবা অন্য কোন পেশা গ্রহণ করে জীবিকা নির্বাহ করে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল এর সাথে মুঠো ফোনে এই প্রতিবেদক কথা বললে তিনি জানান, এবার বোরোর ভাল ফলন হয়েছে।

আবহওয়া এখন পযর্ন্ত  অনুকুলে রয়েছে। তবে আবহওয়া বিরুপ হলে কৃষকের ধান ঘরে তুলতে খরচ বেড়ে যাবে।

কৃষি কাজে উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষি বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষিকাজের জন‍্য আধুনিক যন্ত্রপাতি কৃষকের দোড়গোড়ার  দেয়া হচ্ছে। যাতে অল্প শ্রমিক দিয়েই দ্রুত ফসল লাগানো ও কেটে গোলায় তুলতে পারে।

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

One thought on “চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাটা মাড়াই কাজে একমাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আয় করবে কৃষি শ্রমিক”

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাটা মাড়াই কাজে একমাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আয় করবে কৃষি শ্রমিক

আপডেট সময় : ০৯:৪৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৩

চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাটা মাড়াই করে একমাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আয় করবে রংপুর অঞ্চলের কৃষি শ্রমিক।

রংপুরের প্রকৃতিতে যতদূর চোখ যায় শুধু বোরো
ধানের মৌ মৌ গন্ধ শোনা যাচ্ছে। এবার বিভাগের ৮ জেলায় কৃষি মৌসুমি শ্রমিকরা এবার বোরো মৌসুমে ধান কাটা মাড়াই করে একমাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আয় করবে।

গত কয়েক মৌসুম থেকে কৃষি শ্রমের মূল্য ৫/৬ গুণ বৃদ্ধি হওয়ায় শ্রমিকরা বেজায় খুশি বাজারে ধানের স্বাভাবিক দাম থাকায় কৃষকরাও শ্রমিকদের বেশি মূল্য দিতে বাধ্য হচ্ছে।

 

 

জানা গেছে, রংপুর বিভাগে ৮ জেলার চাষিরা ৮ লাখ লাখ হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছে।

 

এ পরিমাণ জমি থেকে প্রায় ৩৫ লাখ মেট্রিক টনের বেশি ধান গোলায় তোলার আশা করা হচ্ছে।

 

গত সপ্তাহ থেকে এই অঞ্চলে ধান কাটা মাড়াই শুরু হয়েছে। মজুরি বেশি থাকায় কৃষি শ্রমিকরা রয়েছে চাঙ্গাভাবে।

 

তবে ধান কাটা মাড়াই শ্রমিকদের ধান কেটে
২০০ কোটি টাকা করতে কৃষি শ্রমিক পাওয়াই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। দিন হাজিরায় ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।

 

মিঠাপুকুরের কৃষক হাবিবুর রহমান, আশরাফুল, রংপুর সদরের পশুরাম ইউনিয়নের আমিন, মনটু মিয়া গঙ্গাচড়ার গান্নারপাড় এলাকার মিজানুর, নীলফামারীর জলঢাকার অলিয়ার মিয়াসহ কয়েকজন কৃষকের সাথে  কথা বলে জানা গেছে, হাট বাজারগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির বোরো ধান কেনা বেচা হচ্ছে ৮শ থেকে প্রায় ৯০০ টাকা।

কৃষকরা জানান, ৫ বছর আগেও ১ একর জমির ধান কাটা মাড়াই করতে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা লাগত। এক দোন (২৪ শতক) জমির ধান কাটা মাড়াই করে ঘরে তুলতে কৃষকদের খরচ হচ্ছে আড়াই হাজার টাকা।

সেই হিসেবে প্রতি একরে খরচ পড়ছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। অপরদিকে, দিন হাজিরায় যেসব শ্রমিক কাজ করত তাদেরও মজুরি বেড়েছে কয়েকগুণ।

 

৫ বছর আগে দেড়শ টাকায় যে শ্রমিক দিন হাজিরায় কাজ করত এবার তারা ৫০০ টাকার নিচে কাজ করছে না।

 

কোন কোন স্থানে তিন বেলা খাওয়াসহ এই হাজিরা পাচ্ছেন।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, রংপুরে প্রায় ১০ লাখ, নীলফামারীতে ৫ লাখ, লালমনিরহাটে ৪ লাখ, গাইবান্ধায় ৬ লাখ, কুড়িগ্রামে ৭ লাখ, দিনাজপুরে ১২ লাখ, ঠাকুরগাঁয়ে ৭ লাখ, পঞ্চগড়ে ৩ লাখ বৃষি শ্রমিক রয়েছে। এরা শুধু আমন ও বোরো মৌসুমে ধানা কাটা মাড়াইয়ের কাজ করেন।

অন্য সময়ে এরা শহরে রিক্সা, ড্যান অথবা অন্য কোন পেশা গ্রহণ করে জীবিকা নির্বাহ করে।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল এর সাথে মুঠো ফোনে এই প্রতিবেদক কথা বললে তিনি জানান, এবার বোরোর ভাল ফলন হয়েছে।

আবহওয়া এখন পযর্ন্ত  অনুকুলে রয়েছে। তবে আবহওয়া বিরুপ হলে কৃষকের ধান ঘরে তুলতে খরচ বেড়ে যাবে।

কৃষি কাজে উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষি বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কৃষিকাজের জন‍্য আধুনিক যন্ত্রপাতি কৃষকের দোড়গোড়ার  দেয়া হচ্ছে। যাতে অল্প শ্রমিক দিয়েই দ্রুত ফসল লাগানো ও কেটে গোলায় তুলতে পারে।

 

Facebook Comments Box