ঢাকা ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইউসিবি ব্যাংকে অ্যাগ্রি সেলস অফিসার পদে নিয়োগ ট্রাম্পের আমন্ত্রণে নিউইয়র্কে বিশ্বনেতাদের বৈঠকে কাতারের আমীর ম্যানসিটির ১১৫টি আর্থিক অনিয়মের ১১৪টিতেই অভিযোগ প্রমাণিত অপ্রতীম মৃত্যুর ঘটনা মামলা: তদন্ত কর্মকর্তার বড় পরিবর্তন দুধের পর এবার ডিম খেয়ে অসুস্থ ঠাকুরগাঁওয়ের ২০ শিক্ষার্থী রাণীশংকৈলে জামিনের ৫ দিন পর ফের ইয়াবাসহ গ্রেফতার মাদক কারবারী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতেই আগামীর বিশ্ব গড়বে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিবগঞ্জে পিস্তল ও গুলিসহ আটক ২ ফরিদপুরের মধুখালীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রাণহানি নেতানিয়াহুবিরোধী বিক্ষোভ: অস্কারজয়ী সুসান সারান্ডনসহ গ্রেপ্তার প্রায় ১০০

ঘরোয়া উপায়ে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক তৈরি

সৃষ্টি কৃষি ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৯:৫২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫ ১৮৮১৮৩ বার পড়া হয়েছে

ঘরোয়া উপায়ে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক তৈরি

(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

 

ঘরোয়া উপায়ে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক তৈরি

 

 

ঘরোয়া উপায়ে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক তৈরির সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি তুলে ধরা হলো। এগুলো লাল শাকসহ যেকোনো সবজি বা শাকসবজিতে ব্যবহার করা যায়:

 জৈব সার তৈরির উপায়

কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) তৈরি:

উপকরণ:

গবাদিপশুর পঁচা গোবর
খড়, শুকনো পাতা
লাল কেঁচো (Eisenia foetida)

পদ্ধতি:

1. ছায়াযুক্ত স্থানে ইট দিয়ে ৩–৪ ফুট চওড়া ও ১–১.৫ ফুট গভীর একটি গর্ত তৈরি করুন।
2. নিচে খড় বিছিয়ে দিন, তার ওপর পঁচা গোবর ছড়ান।
3. কেঁচো ছেড়ে দিন (প্রতি ১০০ কেজি গোবরে ১ কেজি কেঁচো যথেষ্ট)।
4. প্রতি ২-৩ দিন পর পানি ছিটিয়ে স্যাঁতসেঁতে রাখুন।
5. ৩০-৪৫ দিনের মধ্যে গা-হালকা কালো রঙের কেঁচো সার তৈরি হবে।

কাঁচা বর্জ্য সার (Kitchen waste compost)

উপকরণ:

রান্নাঘরের সবজি খোসা, ফলের ছোবড়া, চা-পাতা, ডিমের খোসা ইত্যাদি

শুকনো পাতা/খড় ও মাটির বা প্লাস্টিকের ড্রাম

পদ্ধতি:

1. ড্রামের নিচে ছিদ্র করে নিন।
2. নিচে খড় ও শুকনো মাটি দিন, তার ওপর বর্জ্য দিন।
3. পর্যায়ক্রমে বর্জ্য ও শুকনো পাতা স্তরে স্তরে দিন।
4. প্রতি সপ্তাহে একবার নাড়ুন এবং হালকা পানি দিন।
5. ২ মাস পর কালো, গন্ধহীন কম্পোস্ট সার তৈরি হবে।

গাছের তরল জৈব সার (Jeevamrit বা Liquid compost)

উপকরণ:

গরুর মল: ৫ কেজি
গরুর মূত্র: ৫ লিটার
গুড়: ১ কেজি
মাটির গুঁড়া: ১ কেজি
পানি: ২০ লিটার

পদ্ধতি:

1. উপরের সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে একটি পাত্রে রাখুন।
2. ঢেকে ছায়াযুক্ত জায়গায় ৫-৭ দিন রাখুন, প্রতিদিন নাড়িয়ে দিন।
3. ৭ দিনের পরে পানির সঙ্গে ১:১০ অনুপাতে মিশিয়ে গাছে ব্যবহার করুন।

জৈব বালাইনাশক তৈরি:

রসুন-লঙ্কা স্প্রে

উপকরণ:

রসুন: ১০টি কোয়া
কাঁচা লঙ্কা: ৫টি
পানি: ১ লিটার

পদ্ধতি:

1. রসুন ও লঙ্কা একসাথে বেটে নিন।
2. পানি মিশিয়ে ছেঁকে একটি বোতলে রাখুন।
3. সপ্তাহে ১-২ বার পাতায় স্প্রে করুন।
পোকামাকড়, সাদা মাছি, থ্রিপস দূর করে।
নিম পাতার কীটনাশক

উপকরণ:

তাজা নিম পাতা: ১ কেজি
পানি: ৫ লিটার

পদ্ধতি:

1. নিম পাতা ভালো করে কুচি করে পানিতে ২৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন।
2. পানিসহ পাতাগুলো ব্লেন্ড বা পিষে ছেঁকে নিন।
3. স্প্রে মেশিনে ভরে গাছে দিন।

লাল মাকড়, বিটল, পাতামোড়ানো পোকার জন্য খুব উপকারী।

ছাঁচ ও ছত্রাক প্রতিরোধে দুধ-জল মিশ্রণ

উপকরণ:

গরুর কাঁচা দুধ: ১০০ মি.লি.
পানি: ৯০০ মি.লি.

পদ্ধতি:

মিশিয়ে পাতায় স্প্রে করুন।
ছত্রাক ও ফাঙ্গাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর।

গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

যেকোনো স্প্রে সকালে বা বিকেলে করুন (রোদ কম থাকলে)।
স্প্রে করার আগে ছোট অংশে পরীক্ষা করুন।
সপ্তাহে ১–২ বার নিয়মিত ব্যবহার করুন।

 

 

Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঘরোয়া উপায়ে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক তৈরি

আপডেট সময় : ০৯:৫২:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন ২০২৫

 

 

ঘরোয়া উপায়ে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক তৈরি

 

 

ঘরোয়া উপায়ে জৈব সার ও জৈব বালাইনাশক তৈরির সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি তুলে ধরা হলো। এগুলো লাল শাকসহ যেকোনো সবজি বা শাকসবজিতে ব্যবহার করা যায়:

 জৈব সার তৈরির উপায়

কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) তৈরি:

উপকরণ:

গবাদিপশুর পঁচা গোবর
খড়, শুকনো পাতা
লাল কেঁচো (Eisenia foetida)

পদ্ধতি:

1. ছায়াযুক্ত স্থানে ইট দিয়ে ৩–৪ ফুট চওড়া ও ১–১.৫ ফুট গভীর একটি গর্ত তৈরি করুন।
2. নিচে খড় বিছিয়ে দিন, তার ওপর পঁচা গোবর ছড়ান।
3. কেঁচো ছেড়ে দিন (প্রতি ১০০ কেজি গোবরে ১ কেজি কেঁচো যথেষ্ট)।
4. প্রতি ২-৩ দিন পর পানি ছিটিয়ে স্যাঁতসেঁতে রাখুন।
5. ৩০-৪৫ দিনের মধ্যে গা-হালকা কালো রঙের কেঁচো সার তৈরি হবে।

কাঁচা বর্জ্য সার (Kitchen waste compost)

উপকরণ:

রান্নাঘরের সবজি খোসা, ফলের ছোবড়া, চা-পাতা, ডিমের খোসা ইত্যাদি

শুকনো পাতা/খড় ও মাটির বা প্লাস্টিকের ড্রাম

পদ্ধতি:

1. ড্রামের নিচে ছিদ্র করে নিন।
2. নিচে খড় ও শুকনো মাটি দিন, তার ওপর বর্জ্য দিন।
3. পর্যায়ক্রমে বর্জ্য ও শুকনো পাতা স্তরে স্তরে দিন।
4. প্রতি সপ্তাহে একবার নাড়ুন এবং হালকা পানি দিন।
5. ২ মাস পর কালো, গন্ধহীন কম্পোস্ট সার তৈরি হবে।

গাছের তরল জৈব সার (Jeevamrit বা Liquid compost)

উপকরণ:

গরুর মল: ৫ কেজি
গরুর মূত্র: ৫ লিটার
গুড়: ১ কেজি
মাটির গুঁড়া: ১ কেজি
পানি: ২০ লিটার

পদ্ধতি:

1. উপরের সব উপকরণ ভালোভাবে মিশিয়ে একটি পাত্রে রাখুন।
2. ঢেকে ছায়াযুক্ত জায়গায় ৫-৭ দিন রাখুন, প্রতিদিন নাড়িয়ে দিন।
3. ৭ দিনের পরে পানির সঙ্গে ১:১০ অনুপাতে মিশিয়ে গাছে ব্যবহার করুন।

জৈব বালাইনাশক তৈরি:

রসুন-লঙ্কা স্প্রে

উপকরণ:

রসুন: ১০টি কোয়া
কাঁচা লঙ্কা: ৫টি
পানি: ১ লিটার

পদ্ধতি:

1. রসুন ও লঙ্কা একসাথে বেটে নিন।
2. পানি মিশিয়ে ছেঁকে একটি বোতলে রাখুন।
3. সপ্তাহে ১-২ বার পাতায় স্প্রে করুন।
পোকামাকড়, সাদা মাছি, থ্রিপস দূর করে।
নিম পাতার কীটনাশক

উপকরণ:

তাজা নিম পাতা: ১ কেজি
পানি: ৫ লিটার

পদ্ধতি:

1. নিম পাতা ভালো করে কুচি করে পানিতে ২৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন।
2. পানিসহ পাতাগুলো ব্লেন্ড বা পিষে ছেঁকে নিন।
3. স্প্রে মেশিনে ভরে গাছে দিন।

লাল মাকড়, বিটল, পাতামোড়ানো পোকার জন্য খুব উপকারী।

ছাঁচ ও ছত্রাক প্রতিরোধে দুধ-জল মিশ্রণ

উপকরণ:

গরুর কাঁচা দুধ: ১০০ মি.লি.
পানি: ৯০০ মি.লি.

পদ্ধতি:

মিশিয়ে পাতায় স্প্রে করুন।
ছত্রাক ও ফাঙ্গাস সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর।

গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:

যেকোনো স্প্রে সকালে বা বিকেলে করুন (রোদ কম থাকলে)।
স্প্রে করার আগে ছোট অংশে পরীক্ষা করুন।
সপ্তাহে ১–২ বার নিয়মিত ব্যবহার করুন।

 

 

Facebook Comments Box