ঢাকা ০৫:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিরপুরে সরকারি ভবনের লিফট ছিঁড়ে শিশুসহ আহত তিন ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ, বন্ধ ৪০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শাহজালাল বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত: মামলা নেত্রকোণায় বাকিতে সিগারেট না দেওয়ায় দোকানিকে পুড়িয়ে জখম ময়মনসিংহে বাসচাপায় অটোরিকশার সাত যাত্রী নিহত অস্ট্রেলিয়ায় স্টুডেন্ট ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন কাতারের সামরিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ গঠন করলেন আমির বিমানবন্দরে একসাথে পলক ও ইব্রাহিম, তুঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন ২ অক্টোবর ২০২৬; শুক্রবার কোন রাশির ভাগ্যে কী আছে, জেনে নিন একনজরে রাজধানীর বাজারে সবজির চড়া দাম, শিমের কেজি ২০০ টাকা

দুধকুমর নদী পাড়ের মানুষের উল্লাস: দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ অগাস্ট ২০২১ ১৩২৫ বার পড়া হয়েছে
(সৃষ্টি নিউজ) অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

 

দুধকুমর নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন’ প্রকল্প একনেকে পাশ হওয়ায় দুধকুমর নদী পাড়ের মানুষজন উল্লাস প্রকাশের পাশাপাশি দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দাবী জানিয়েছেন তারা।জানাগেছে, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ী ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা সীমান্ত এলাকা দিয়ে দুধ কুমার নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করে তা নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতর দিয়ে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার আঁকাবাকা পথ অতিক্রম করে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুরে  ব্রহ্মপুত্র নদে মিলিত হয়।

 


 

ভূরুঙ্গামারীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া দুধকুমর নদী সারা বছর শান্ত থাকলেও বর্ষায়  ভয়ঙ্কর রুপ ধারন করে। প্রতি বছর দুধকুমরের ভাঙ্গনে  শত শত পরিবার বাস্তুহীন হয়ে পড়ে। গত কয়েক বছরে উপজেলার সদর ইউনিয়ন, চরভূরুঙ্গামারী, পাইকেরছড়া , বঙ্গ সোনাহাট, তিলাই, শিলখুড়ী, বলদিয়া ও আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের শত শত বসতভিটা,স্থাপনা,আবাদী জমি,গাছ পালা, স্কুল ও পাকা সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দুধকুমর নদীর প্রতি বছরের এই তান্ডব থেকে নদী শাসনের স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহনের দাবীতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি দুধকুমার নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ কমিটি, ভূরুঙ্গামারী উন্নয়ন সংস্থা, আলোকিত বর্তিকাসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক ও স্বেচছা সেবক সংগঠন কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে।গত ১০ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ‘দুধকুমর নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন’ প্রকল্পটি অনুমোদন পায়।

 


 

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৯২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। প্রকল্পটি চলতি বছরের জুলাই থেকে জুন ২০২৪ সালে বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হয়েছে।প্রকল্পটি পাশ হওয়ায় নদী তীরবর্তী মানুষ জন আনন্দে ভাসছে, ফেলছে স্বস্তির নি:শ্বাস । এলাকার মানুষ  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।যথাযথ ভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপজেলার নদী তীরবর্তী হাজার হাজার হেক্টর ফসলী জমি, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও অসংখ্য ঘর-বাড়ি ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাবে বলে ভুক্তভোগীরা অভিমত ব্যক্ত করছেন।উপজেলার বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের দুধকুমর নদীর পাড়ের বাসিন্দা জুলহাস, আমির আলী ও মেহের আলী বলেন, এই দুধকুমর নদী তিন বার তাদের বাড়ি ভেঙ্গেছে আবাদী জমিও সব নদীতে ।বর্তমানে যে বাড়িতে আছেন সেটাও নদীর কিনারে ভাঙ্গনের অপেক্ষায় আছে।সোনাহাট ব্রিজ পাড়ের অধিবাসী সোনাহাট ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক আয়নুল হক জানান,  আমার সব জমি নদীগর্ভে  বিলীন ।দুধকুমর নদী আমার সব কিছু কেড়ে নিয়েছে ।দুই বার বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পর আর বাড়ি তৈরীর  করার মত জমি নাই।বাধ্য হয়ে অন্যত্র জমি কিনে কোন মতে মাথা গোজার ঠাঁই করেছি।


 

এমন সময় নদী শাসনের কাজ হবে শুনে তারা আনন্দে আত্মহারা।দুধকুমর নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শাহানারা বেগম মীরা জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একনেক বৈঠকে দুধকুমর নদীর ভাঙ্গন রোধে পরিকল্পিত একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। এই নদীর দুই পাড়ের অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ঠ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোডের্র নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, এটি আন্তর্জাতি নদী হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে প্রচুর পানি আসে এতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ১৫টি স্থানে প্রায় ২৫ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার এলাকায় কাজ হবে। চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

 



Facebook Comments Box

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দুধকুমর নদী পাড়ের মানুষের উল্লাস: দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবী

আপডেট সময় : ০৫:২৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ অগাস্ট ২০২১

 

দুধকুমর নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন’ প্রকল্প একনেকে পাশ হওয়ায় দুধকুমর নদী পাড়ের মানুষজন উল্লাস প্রকাশের পাশাপাশি দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দাবী জানিয়েছেন তারা।জানাগেছে, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ী ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা সীমান্ত এলাকা দিয়ে দুধ কুমার নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করে তা নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতর দিয়ে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার আঁকাবাকা পথ অতিক্রম করে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুরে  ব্রহ্মপুত্র নদে মিলিত হয়।

 


 

ভূরুঙ্গামারীর বুক চিরে বয়ে যাওয়া দুধকুমর নদী সারা বছর শান্ত থাকলেও বর্ষায়  ভয়ঙ্কর রুপ ধারন করে। প্রতি বছর দুধকুমরের ভাঙ্গনে  শত শত পরিবার বাস্তুহীন হয়ে পড়ে। গত কয়েক বছরে উপজেলার সদর ইউনিয়ন, চরভূরুঙ্গামারী, পাইকেরছড়া , বঙ্গ সোনাহাট, তিলাই, শিলখুড়ী, বলদিয়া ও আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের শত শত বসতভিটা,স্থাপনা,আবাদী জমি,গাছ পালা, স্কুল ও পাকা সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দুধকুমর নদীর প্রতি বছরের এই তান্ডব থেকে নদী শাসনের স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহনের দাবীতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি দুধকুমার নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ কমিটি, ভূরুঙ্গামারী উন্নয়ন সংস্থা, আলোকিত বর্তিকাসহ বেশ কয়েকটি সামাজিক ও স্বেচছা সেবক সংগঠন কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে।গত ১০ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ‘দুধকুমর নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন’ প্রকল্পটি অনুমোদন পায়।

 


 

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৯২ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। প্রকল্পটি চলতি বছরের জুলাই থেকে জুন ২০২৪ সালে বাস্তবায়ন মেয়াদ ধরা হয়েছে।প্রকল্পটি পাশ হওয়ায় নদী তীরবর্তী মানুষ জন আনন্দে ভাসছে, ফেলছে স্বস্তির নি:শ্বাস । এলাকার মানুষ  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।যথাযথ ভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপজেলার নদী তীরবর্তী হাজার হাজার হেক্টর ফসলী জমি, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও অসংখ্য ঘর-বাড়ি ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পাবে বলে ভুক্তভোগীরা অভিমত ব্যক্ত করছেন।উপজেলার বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের দুধকুমর নদীর পাড়ের বাসিন্দা জুলহাস, আমির আলী ও মেহের আলী বলেন, এই দুধকুমর নদী তিন বার তাদের বাড়ি ভেঙ্গেছে আবাদী জমিও সব নদীতে ।বর্তমানে যে বাড়িতে আছেন সেটাও নদীর কিনারে ভাঙ্গনের অপেক্ষায় আছে।সোনাহাট ব্রিজ পাড়ের অধিবাসী সোনাহাট ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক আয়নুল হক জানান,  আমার সব জমি নদীগর্ভে  বিলীন ।দুধকুমর নদী আমার সব কিছু কেড়ে নিয়েছে ।দুই বার বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার পর আর বাড়ি তৈরীর  করার মত জমি নাই।বাধ্য হয়ে অন্যত্র জমি কিনে কোন মতে মাথা গোজার ঠাঁই করেছি।


 

এমন সময় নদী শাসনের কাজ হবে শুনে তারা আনন্দে আত্মহারা।দুধকুমর নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শাহানারা বেগম মীরা জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একনেক বৈঠকে দুধকুমর নদীর ভাঙ্গন রোধে পরিকল্পিত একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন। এই নদীর দুই পাড়ের অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ঠ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোডের্র নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, এটি আন্তর্জাতি নদী হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে প্রচুর পানি আসে এতে এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ১৫টি স্থানে প্রায় ২৫ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার এলাকায় কাজ হবে। চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

 



Facebook Comments Box