ম্যাজিক ফল কামরাঙা : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
  1. admin@sristy.net : admin :
ম্যাজিক ফল কামরাঙা : দৈনিক সৃষ্টি নিউজ
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬; আজকের রাশিচক্র: কেমন কাটবে আজকের দিনটি রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬: আজকের আবহাওয়ার পূর্বাভাস আজ রবিবার ৯ আগষ্ট: আজকের নামাজের সময়সুচী শুভ সকাল; আজ রবিবার ৯ আগষ্ট: আজকের পূর্ণাঙ্গ পঞ্জিকা আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২৬: বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশে মর্যাদা ও অধিকার চাই কাউনিয়া রেলবাজার পরিবহন সমিতির নির্বাচন সভাপতি ফিরোজ, সম্পাদক সিরাজুল ঠাকুরগাঁওয়ে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত ২ বিশ্বনাথে সরকারী আদেশ অমান্য করে রাতের আধাঁরে গেইট নির্মাণের অভিযোগ ঠাকুরগাঁওয়ে মাছ ধরতে গিয়ে নদীতে ডুবে বৃদ্ধের মৃত্যু অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু হবে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ম্যাজিক ফল কামরাঙা

সৃষ্টি ডেস্ক :
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০
কামরাঙ্গা

ম্যাজিক ফল কামরাঙা

উৎপত্তি:

কামরাঙার মূল উৎপত্তি স্থল অজানা। এটি শ্রীলংকা, ইন্দোনেশিয়া থেকে উৎপত্তি হতে পারে বলে মনে করা হয়; কিন্তু বিগত শত শত বছর ধরে ভারতীয় উপমহাদেশ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলসমূহে এর চাষ করা হয়েছে। কামরাঙা ঐ এলাকায় স্থানীয় পছন্দের তালিকায় থাকলেও সম্প্রতি পূর্ব এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড অংশে বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপের বিশেষ করে তাহিতি, নিউ ক্যালিডোনিয়া, পাপুয়া নিউ গিনি, হাওয়াই, এবং গুয়াম অঞ্চলেও এর ব্যাপক প্রসার লাভ করে। ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ চীন, তাইওয়ান এবং ফ্লোরিডায় বাণিজ্যিকভাবে কামরাঙার চাষ করা হয়। মূলত এই ফল অধিক হারে নিকারাগুয়া, কোস্টারিকা, পানামা, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু, ব্রাজিল, জ্যামাইকা, হাইতি, ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র, পুয়ের্তো রিকো, ত্রিনিদাদ, মেক্সিকো, গায়ানা এবং আফ্রিকা অংশে জন্মায়। তবে অন্যন্য এলাকায় কামরাঙার চাষ এবং উৎপাদন ব্যায়সাধ্য হয়ে থাকে।

প্রতি ১০০ গ্রাম (৩.৫ আউন্স) পুষ্টিগত মান
শক্তি ১২৮ কিজু (৩১ kcal)
 
শর্করা 6.73 g
চিনি 3.98 g
খাদ্যে ফাইবার 2.8 g
স্নেহ পদার্থ 0.33 g
প্রোটিন 1.04 g
ভিটামিনসমূহ
ভিটামিন এ সমতুল্য লুটিন জিজানথেন 66 μg
থায়ামিন (বি১) (1%)                0.014 mg
রিবোফ্লাভিন (বি২) (1%)             0.016 mg
ন্যায়েসেন (বি৪) (2%)             0.367 mg
প্যানটোথেনিক অ্যাসিড (বি৫) (8%)                0.391 mg
ভিটামিন বি৬ (1%)                 0.017 mg
ফোলেট (বি৯) (3%)              12 μg
কোলিন (2%)                      7.6 mg
ভিটামিন সি (41%)                      34.4 mg
ভিটামিন ই (1%)                0.15 mg
 
চিহ্ন ধাতুসমুহ
ক্যালসিয়াম (0%)                    3 mg
লোহা (1%)                      0.08 mg
ম্যাগনেসিয়াম (3%)                 10 mg
ম্যাঙ্গানিজ (2%)                         0.037 mg
ফসফরাস (2%)              12 mg
পটাশিয়াম (3%)          133 mg
সোডিয়াম (0%)                  2 mg
দস্তা (1%)             0.12 mg

ব্রণ দূর করে

কামরাঙা ব্রণ দূর করতে বেশ কার্যকর। সমান পরিমাণ কামরাঙার রসের সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। এবার একটি তুলার বলে এই মিশ্রণ লাগিয়ে ব্রণের ওপর লাগান। ১০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন, ধীরে ধীরে ব্রণ দূর হয়ে যাবে।

চোখের নিচের ফোলাভাব দূর করে

কামরাঙার স্লাইস চোখের নিচে লাগিয়ে ১০ মিনিট চোখ বন্ধ করে শুয়ে থাকুন। এবার পানি দিয়ে ধুয়ে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। এটি আপনার চোখের চারপাশের ফোলাভাব দূর করবে এবং টানটান রাখবে।

ত্বক পরিষ্কার করে

নিয়মিত বাসায় ফিরে কামরাঙার রস ত্বকে লাগিয়ে ৫ মিনিট ম্যাসাজ করে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এবার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই রস আপনার ত্বকের ময়লা জীবাণু সহজেই পরিষ্কার করে ত্বক সতেজ করতে সাহায্য করবে।

জেনে নিন>> আলুর নাবী ধ্বসা বা লেট ব্লাইট রোগ Late Blight of Potato


বয়সের ছাপ দূর করবে

যেকোনো প্রাকৃতিক উপাদানের সঙ্গে কামরাঙার রস মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে মুখে লাগান। এটি আপনার ত্বকের বলিরেখা দূর করবে এবং ত্বক টানটান করবে। এর ফলে চেহারার বয়সের ছাপ দূর হবে।

নিয়ন্ত্রণে নেই ডায়াবেটিস? বাড়ছে কোলেস্টেরল? হাইপারটেনশনে ভুগছেন? আটকাতে চান হার্ট অ্যাটাক? হাতের কাছেই মুশকিল আসান। দিনে এক কাপ কামরাঙার রসেই কেল্লাফতে। কামরাঙার কামাল। কামরাঙায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস ও ভিটামিন রয়েছে, যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এই ফল খাওয়ার পাশিপাশি নিয়মিত এর রস ত্বকে ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনার ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখবে এবং ত্বক দাগমুক্ত রাখবে।

কামরাঙা দিয়ে তৈরি চাটনি, জ্যাম, জেলি দিব্যি লাগে খেতে। ভিটামিন B5 ও ভিটামিন B6 প্রচুর পরিমাণে রয়েছে কামরাঙায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, কোলেস্টেরল কম করা এবং হাইপারটেনশন দূর করতে কামরাঙার জুড়ি মেলা ভার।

শুধু কামরাঙা ফলই নয়, কামরাঙা গাছের পাতাও খুবই উপকারি।

কামরাঙায় রয়েছে এলাজিক অ্যাসিড, যা খাদ্যনালির ক্যানসার প্রতিরোধ করে। এর পাতা ও কচি ফলের রসে রয়েছে ট্যানিন, যা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। সর্দিকাশিতে দারুণ উপকারি। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। কামরাঙা চুল, ত্বক, নখ ও দাঁত উজ্জ্বল করে। মুখে ব্রন হওয়া আটকায়।

 গবেষকরা বলেছেন, দৃষ্টিনন্দন ফল কামরাঙা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সহায়তা করে। কারণ এটা ভিটামিন সি-তে পূর্ণ। পাশাপাশি এই ফল কাজ করে চুল, ত্বক, নখ ও দাঁতের সুরক্ষায়।গবেষণা করে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত ভরা পেটে (অবশ্যই যাদের কিডনির কোনো অসুখ নেই) কামরাঙা খান, তাদের চুল, ত্বক, নখ ও দাঁত তুলনামূলকভাবে উজ্জ্বল, ভঙ্গুরহীন হয়। সমসাময়িক সংক্রামক রোগগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে কামরাঙা। অতিরিক্ত মোটা মানুষের দেহের চর্বি কমাতে সাহায্য করে এই ফল।

তবে কিডনিতে পাথর, ইনফেকশন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য এই ফল পরিহার করা উচিত সম্পূর্ণভাবে। আবার যাদের দীর্ঘ বছর ধরে ডায়াবেটিস, মোটার অসুখ রয়েছে ও হার্ট দুর্বল, তাদের জন্যও এই ফল বর্জনীয়।

তাই বলে কামরাঙা পুষ্টিহীন এমন নয়। এতে রয়েছে উচ্চমানের ভিটামিন এ এবং সি। বাড়ন্ত শিশুদের জন্য, খেলোয়াড়, অ্যাথলেটদের জন্য এই ফল যথেষ্ট উপকারী। কামরাঙায় নেই কোনো চর্বি বা ফ্যাট। তাই এই ফল খেলে রক্তে চিনি বা চর্বি বৃদ্ধির আশঙ্কা নেই। এতে যে আঁশ রয়েছে তা কোষ্ঠকাঠিন্য, পাকস্থলীর ক্যানসার দূর করে। অতিরিক্ত টক লাগলে ডাল বা তরকারির সঙ্গে রান্না করে খেতে পারেন। তবে কোনো অবস্থাতেই কেউ এই ফল খালি পেটে খাবেন না।
ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এই ফল ব্রণ হওয়ার পরিমাণ কমায়। এতে বিদ্যমান খনিজ লবণগুলো দাঁত ও হাড় গঠনে সাহায্য করে। কিছু পরিমাণ জিংকও রয়েছে এতে। তবে অতিরিক্ত টক হওয়ার জন্য ডায়রিয়া চলাকালে বা ডায়রিয়া ভালো হওয়ার পরপরই এই ফল খাবেন না।

ঝুঁকি

আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞদের মতে,

 কামরাঙার,অনেক ভালো দিকও আছে। কামরাঙার প্রচুর ওষুধিগুণাগুণ রয়েছে। রুচি ও হজমশক্তি বাড়াতে বেশ কার্যকরী কামরাঙা। পেটের ব্যথা কমাতে কামরাঙা খুব উপকারী।রক্ত পরিশোধন, অন্ত্রের ক্যানসার প্রতিরোধ, কাশি উপশম করে ও ফলটি পোড়ানোর পর ভর্তা করে খেলে ঠান্ডাজনিত সমস্যা দূর হয়। এছাড়া কৃমির সমস্যা সমাধানে কামরাঙা কার্যকর ও শুকনো কামরাঙা জ্বরের জন্য বেশ উপকারী।কামরাঙা ক্যারামবক্সিন  এবং অক্সালিক অ্যাসিড ধারণ করে থাকে। উভয় পদার্থই কিডনি ফেইলুর, কিডনি পাথর বা এদের অধীনে কিডনি ডায়ালিসিস চিকিত্সারত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিকর। এগুলোর সংমিশ্রণে কিডনি ব্যর্থতা হেঁচকি তৈরী করতে পারা, বমি, বমি-বমি ভাব, মানসিক বিভ্রান্তি, এবং কখনও কখনও মৃত্যু ঘটাতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণা ক্যারামবক্সিনকে একটি নিউরোটক্সিনহিসাবে চিহ্নিত করে, যা আদর্শগতভাবে ফেনীলালানাইন এর অনুরূপ, এবং একটি গ্লুটামেটার্জিক এগনিস্ট।] কিডনি রোগ ব্যক্তিদের জন্য বিষাক্ততা সত্ত্বেও, কামরাঙার মধ্যে অক্সালিক অ্যাসিড এবং ক্যারামবক্সিনের মাত্রা সাধারণ লোকের জন্য যথেষ্ট কম নিরাপদে হলেও পাচক হয়, যাদের কাছে এটা একটা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর উভয় ধরনের খাদ্য।

কামরাঙা খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্য কিছু নিয়ম মানতে বলছেন চিকিৎসকরা-

খালি পেটে কোনওভাবেই খাওয়া চলবে না কামরাঙা।

ডায়ারিয়া হলে কামরাঙা খাওয়া চলবে না।কামরাঙা একটি অক্সালেট সমৃদ্ধ ভিটামিন C জাতীয় ফল। সে কারণে যাঁদের কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের কামরাঙা খেতে নিষেধ করছেন চিকিত্সকরা ।

বাড়ির আনাচে-কানাচে গজিয়ে ওঠে কামরাঙা গাছ। অন্যান্য ফলের তুলনায় এর দামও কম। পুষ্টি জোগায়, নানা রোগও প্রতিরোধ করে। তাই সাধারণ একটি ফলেই হতে পারে মুশকিল আসান।

কামরাঙা খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। কিন্তু সাবধান! কামরাঙা খাওয়ার ব্যাপারে বেশ চিন্তিত চিকিৎসকরা। কেননা, কামরাঙা খেলেই বিকল হচ্ছে কিডনি। তাই কামরাঙা খেয়ে নিজের অজান্তেই বিপদ ডেকে আনছে বহু মানুষ।

জেনে নিন>>  সুপার ফুড মিরাক্কেল শাক সজনে পাতা

চিকিৎসকদের মতে, কামরাঙাতে প্রচুর পরিমাণ অক্সালেট ও নিউরো টক্সিন থাকে, যা কিডনি নষ্ট করে দিচ্ছে। না জেনে অনেকে কামরাঙা খেয়ে নিজের ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে। শুধু তাই নয়, কামরাঙা খেলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেসব রোগীদের কিডনি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য কামরাঙা খাওয়া খু্বই বিপজ্জনক।

ভারতের ‘কিডনি কেয়ার সোসাইটি’র প্রতিষ্ঠাতা ডা. প্রতিম সেনগুপ্ত জানান, গ্রামে কামরাঙা ফলটির বেশ জনপ্রিয়। কিডনির সমস্যা না থাকলে অল্প করে খাওয়া যেতেই পারে ফলটি। তবে সমস্যা থাকলে একেবারেই খাওয়া উচিত নয়। কাঁচা বা টক কামরাঙার রস বেশি ক্ষতিকর। কিন্তু মিষ্টি কামরাঙা তেমন ক্ষতিকর নয়। তবে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং অতিরিক্ত স্থূলকায় ভুগছেন এবং কিডনির রোগের ঝুঁকিতে আছেন অথবা যাদের কিডনিজনিত রোগের পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে তাদের কামরাঙা না খাওয়াই ভালো।

Please Share This Post in Your Social Media

4 responses to “ম্যাজিক ফল কামরাঙা”

  1. AllanElliot says:

    thank you so much for this awesome site me and my sept precious this contentedness and perceptivity

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর















error: Content is protected !!